জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীদের বড় একটি অংশ এখন বেশি মাইলেজ পাওয়া যায় এমন মডেলের দিকে ঝুঁকছেন। এমন সময়ে জনপ্রিয় সুপার স্প্লেন্ডর সিরিজের নতুন সংস্করণ বাজারে এনেছে হিরো মোটোকর্প। ‘সুপার স্প্লেন্ডর এক্সটেক ২.০’ নামের এই মোটরসাইকেলে আধুনিক প্রযুক্তির পাশাপাশি জ্বালানি সাশ্রয়ের বিভিন্ন সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে।
কোম্পানির দাবি, অনুকূল পরিস্থিতিতে বাইকটি প্রতি লিটার পেট্রোলে সর্বোচ্চ ৭২ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারে। ফলে দৈনন্দিন যাতায়াতের জন্য কম খরচে বেশি দূরত্ব অতিক্রম করতে চান এমন ব্যবহারকারীদের কাছে এটি আকর্ষণীয় বিকল্প হতে পারে।
আরও পড়ুন-পেট্রোলের ঝামেলা শেষ মাসে মাত্র ১৫০ টাকায় চলবে এথারের নতুন স্কুটার
নতুন এই মোটরসাইকেলে ১২৪ দশমিক ৭ সিসির সিঙ্গেল-সিলিন্ডার ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে। ইঞ্জিনটি ৭ হাজার ৫০০ আরপিএমে ১০ দশমিক ৭ বিএইচপি শক্তি এবং ৬ হাজার আরপিএমে ১০ দশমিক ৬ নিউটন-মিটার টর্ক উৎপাদন করতে সক্ষম।
জ্বালানি দক্ষতা বাড়াতে এতে হিরোর অ্যাডভান্সড প্রোগ্রামড ফুয়েল ইনজেকশন (এপিএফআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে আই-থ্রি-এস (i3S) স্টার্ট-স্টপ সিস্টেম। এই প্রযুক্তির ফলে যানজটে বা সিগন্যালে কিছু সময় দাঁড়িয়ে থাকলে ইঞ্জিন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায়। আবার ক্লাচ চাপলেই তা চালু হয়। এতে অপ্রয়োজনীয় জ্বালানি খরচ কমে আসে।
বাইকটিতে ইন্টিগ্রেটেড স্টার্টার জেনারেটর প্রযুক্তিও যুক্ত করা হয়েছে। ফলে ইঞ্জিন চালুর সময় সাধারণ মোটরসাইকেলের মতো অতিরিক্ত শব্দ শোনা যায় না।
প্রযুক্তিগত দিক থেকেও নতুন সংস্করণে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। এতে রয়েছে সম্পূর্ণ ডিজিটাল ইনস্ট্রুমেন্ট কনসোল এবং ব্লুটুথ সংযোগ সুবিধা। চালকেরা কনসোল থেকেই বিভিন্ন তথ্য দেখার পাশাপাশি মাইলেজ সম্পর্কিত তথ্যও জানতে পারবেন।
মোবাইল ফোন চার্জ দেওয়ার জন্য এতে ২ অ্যাম্পিয়ারের ইউএসবি চার্জিং পোর্ট রাখা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ভ্রমণের ক্ষেত্রে এই সুবিধা ব্যবহারকারীদের কাজে আসতে পারে।
নিরাপত্তার বিষয়েও কিছু নতুন সংযোজন রয়েছে। জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবহারের জন্য এতে হ্যাজার্ড লাইট ফিচার দেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে চারটি ইন্ডিকেটর একসঙ্গে জ্বালানো যায়। এ ছাড়া সামনের চাকায় ডিস্ক ব্রেকের বিকল্পও রাখা হয়েছে।
নতুন সুপার স্প্লেন্ডর এক্সটেক ২.০ পাঁচটি রঙে পাওয়া যাবে। রঙগুলো হলো গ্লসি ব্ল্যাক, ক্যান্ডি ব্লেজিং রেড, ম্যাট অ্যাক্সিস গ্রে, ম্যাট নেক্সাস ব্লু এবং ম্যাট চেস্টনাট ব্রাউন।
ভারতের বাজারে মোটরসাইকেলটির এক্স-শোরুম মূল্য শুরু হয়েছে ৮৬ হাজার ৫০০ রুপি থেকে। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার মূল্য প্রায় ১ লাখ ২১ হাজার টাকার সমান।
তবে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারজাত করা হলে আমদানি শুল্ক, কর ও অন্যান্য ব্যয় যোগ হওয়ার কারণে এর দাম আরও বাড়তে পারে। বাজারসংশ্লিষ্টদের ধারণা, দেশে এলে মোটরসাইকেলটির দাম ১ লাখ ৬০ হাজার থেকে ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকার মধ্যে হতে পারে।
জ্বালানি সাশ্রয়, আধুনিক প্রযুক্তি ও তুলনামূলক সাশ্রয়ী মূল্যের সমন্বয়ে নতুন এই মোটরসাইকেলটি কমিউটার বাইকের বাজারে ভালো প্রতিযোগিতা তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র: হিরো মোটোকর্পের প্রকাশিত তথ্য
আরও পড়ুন-রয়্যাল এনফিল্ড কিনে ২৯৪ দিন গ্যারেজে, ক্ষতিপূরণ ৫ লাখ রুপি
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔





