শহরের ব্যস্ত সড়ক থেকে পাহাড়ি পথ—বিভিন্ন ধরনের রাস্তায় চলার উপযোগী অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরার মোটরসাইকেল নিয়ে এসেছে সুজুকি বাংলাদেশ। ২৪৯ সিসির ভি-স্ট্রম এসএক্স ২৫০ মডেলটির উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে ১৯ ইঞ্চির সামনের চাকা, ডুয়াল-চ্যানেল এবিএস, উইন্ডস্ক্রিন ও ছয় গতির গিয়ারবক্স। বাংলাদেশের বাজারে বাইকটির নিয়মিত দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ লাখ ৪৯ হাজার ৯৫০ টাকা।
আরও পড়ুন-লিটারপ্রতি ৭২ কিলোমিটার মাইলেজের দাবি, নতুন সুপার স্প্লেন্ডর আনল হিরো
সম্প্রতি ঢাকার পূর্বাচলে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী প্রদর্শনী কেন্দ্রে আয়োজিত ‘সুজুকি ডে ২০২৬’ অনুষ্ঠানে বাইকটি বাজারজাত করার ঘোষণা দেওয়া হয়। দিনব্যাপী এ আয়োজনে মোটরসাইকেল উন্মোচনের পাশাপাশি স্টান্ট শো, ডার্ট রেস, ডিজে পারফরম্যান্স ও সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বড়সড় গড়ন, প্রশস্ত আসন এবং সুনিয়ন্ত্রিত হ্যান্ডেলবারের কারণে ভি-স্ট্রম এসএক্স ২৫০-কে দীর্ঘপথে ভ্রমণের উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে। এতে রয়েছে ডিজিটাল স্পিডোমিটার, যা ব্লুটুথ সংযোগের মাধ্যমে নেভিগেশন তথ্য দেখাতে পারে। হ্যান্ডেলবারে যুক্ত করা হয়েছে নাকল গার্ড, যা চালকের হাতকে বাতাস ও বাইরের কিছু আঘাত থেকে সুরক্ষা দিতে সহায়তা করে।
বাইকটির নকশায় সুজুকির ডিআর-জেড রেসার ও ডিআর-বিগ অফরোড মডেলের প্রভাব রয়েছে। সামনের এলইডি হেডলাইট ও পেছনের এলইডি টেইল লাইট এর নকশায় আধুনিকতা এনেছে। মহাসড়কে চলার সময় বিপরীত দিক থেকে আসা বাতাসের চাপ কমাতে এতে রয়েছে উইন্ডস্ক্রিন। পাশাপাশি ডুয়েল-এক্সিট মাফলার, ইঞ্জিন আন্ডারকাওলিং ও বিশেষ গ্রাফিকস বাইকটির বাহ্যিক বৈশিষ্ট্যকে আলাদা করেছে।
ইঞ্জিনের ক্ষেত্রে ভি-স্ট্রম এসএক্স ২৫০-এ ব্যবহার করা হয়েছে ২৪৯ সিসির চার-স্ট্রোক, এক সিলিন্ডার, এসওএইচসি ও চার-ভালভবিশিষ্ট ইঞ্জিন। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ৯ হাজার ৩০০ আরপিএমে ইঞ্জিনটির সর্বোচ্চ শক্তি ২৬.১ থেকে ২৬.৫ পিএস এবং ৭ হাজার ৩০০ আরপিএমে সর্বোচ্চ টর্ক ২২.২ নিউটনমিটার। এর সঙ্গে রয়েছে ছয় গতির কনস্ট্যান্ট-মেশ গিয়ারবক্স ও ফুয়েল ইনজেকশন ব্যবস্থা। বাইকটির সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় প্রায় ১৪০ কিলোমিটার বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
জ্বালানি দক্ষতা ও ইঞ্জিনের কার্যকারিতা বাড়ানোর জন্য এতে সুজুকি ইকো পারফরম্যান্স (এসইপি) এবং সুজুকি অয়েল কুলিং সিস্টেম (এসওসিএস) প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। পাশাপাশি মোটোজিপি থেকে অনুপ্রাণিত প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্যের কথাও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট পক্ষ। তবে প্রকৃত জ্বালানি খরচ নির্ভর করবে রাস্তার অবস্থা, গতি, রাইডিং স্টাইল ও মোটরসাইকেলের রক্ষণাবেক্ষণের ওপর।
দীর্ঘপথে ভ্রমণের সুবিধার জন্য বাইকটিতে রয়েছে ১২ লিটার ধারণক্ষমতার জ্বালানি ট্যাংক। এর ওজন ১৬৭ কেজি। দৈর্ঘ্য ২ হাজার ১৮০ মিলিমিটার, প্রস্থ ৮৮০ মিলিমিটার এবং উচ্চতা ১ হাজার ৩৫৫ মিলিমিটার। হুইলবেজ ১ হাজার ৪৪৫ মিলিমিটার এবং আসনের উচ্চতা ৮৩৫ মিলিমিটার। ২০৫ মিলিমিটার গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স থাকায় অসমতল সড়ক ও খানাখন্দযুক্ত পথে চলাচলের ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা পাওয়ার কথা।
সাসপেনশনে সামনে ১২০ মিলিমিটারের টেলিস্কোপিক ব্যবস্থা এবং পেছনে সুইংআর্ম টাইপ অয়েল-ড্যাম্পড সাসপেনশন ব্যবহার করা হয়েছে। সামনের চাকায় ১০০/৯০-১৯এম/সি এবং পেছনের চাকায় ১৪০/৭০-১৭এম/সি মাপের টিউবলেস টায়ার রয়েছে। ব্রেকিংয়ের জন্য সামনে ও পেছনে ডিস্ক ব্রেকের সঙ্গে ডুয়াল-চ্যানেল অ্যান্টি-লক ব্রেকিং সিস্টেম (এবিএস) দেওয়া হয়েছে।
সুজুকি বাংলাদেশের পরিবেশক র্যাংকন মোটরবাইকস লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী, ভি-স্ট্রম এসএক্স ২৫০-এর দাম ৪ লাখ ৪৯ হাজার ৯৫০ টাকা। অগ্রিম ফরমাশ দেওয়া গ্রাহকদের জন্য দাম রাখা হয়েছিল ৪ লাখ ২৯ হাজার ৯৫০ টাকা।
‘সুজুকি ডে ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মোটরসাইকেলপ্রেমীদের জন্য ছিল লাইভ স্টান্ট শো, ডার্ট রেস ও মোটরসাইকেলের যন্ত্রাংশ প্রদর্শনী। সন্ধ্যার আয়োজনে সংগীত পরিবেশন করে জেমস, ওয়ারফেজ ও কার্নিভাল। সব মিলিয়ে নতুন বাইক উন্মোচনের পাশাপাশি রাইডার ও দর্শকদের জন্য দিনটিকে উৎসবমুখর করে তোলার আয়োজন ছিল।
শহরের দৈনন্দিন যাতায়াতের পাশাপাশি দীর্ঘপথে ভ্রমণ ও অপেক্ষাকৃত অসমতল রাস্তায় চলাচলের কথা মাথায় রেখে তৈরি হয়েছে ভি-স্ট্রম এসএক্স ২৫০। তবে কেনার আগে সম্ভাব্য ক্রেতাদের নিজের উচ্চতা, বাইকের ওজন, আসনের উচ্চতা, রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় এবং স্থানীয় সড়কের পরিস্থিতির সঙ্গে মোটরসাইকেলটির উপযোগিতা বিবেচনা করা প্রয়োজন।
সুত্রঃ প্রথম আলো










