শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি প্রয়োজন হলেও তার চেয়েও বেশি জরুরি হলো সেই অর্থের স্বচ্ছ ও কার্যকর ব্যবহার। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিচালিত এক জরিপে উঠে এসেছে, শিক্ষা বাজেট বাস্তবায়নের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে তারা দুর্নীতি, অপচয় এবং দুর্বল জবাবদিহিতাকে দায়ী করছেন।
শুক্রবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা অধিকার সংসদ শিক্ষা বাজেটবিষয়ক এই জরিপের ফলাফল প্রকাশ করে।
আরও পড়ুন-মোবাইল আসক্তি ঠেকাতে শিক্ষার্থীদের জন্য কঠোর পদক্ষেপ পোল্যান্ডের
জরিপের তথ্য উপস্থাপন করে সংগঠনটির সদস্য সচিব এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক মো. শাহনেওয়াজ খান চন্দন বলেন, শিক্ষার্থীদের বড় একটি অংশ মনে করেন, শিক্ষা খাতে বরাদ্দকৃত অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা না গেলে বাজেট বাড়িয়েও কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, দুর্নীতি ও অপচয়ের পাশাপাশি পরিকল্পনার ঘাটতি, প্রশাসনিক জটিলতা, রাজনৈতিক প্রভাব এবং দুর্বল তদারকির কারণে শিক্ষা খাত প্রত্যাশিত সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। ফলে বাজেট বৃদ্ধি পেলেও তার ইতিবাচক প্রভাব অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছায় না।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ৩৫০ জন শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে জরিপটি পরিচালিত হয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৬১ দশমিক ১ শতাংশ স্নাতক পর্যায়ের এবং ৩৬ শতাংশ স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থী।
জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৬২ শতাংশ শিক্ষার্থী মত দিয়েছেন, শিক্ষা খাতে জিডিপির অন্তত ৫ শতাংশ বা তার বেশি বরাদ্দ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তাদের মতে, বিদ্যমান বরাদ্দ দেশের শিক্ষাব্যবস্থার চাহিদা ও উন্নয়ন লক্ষ্য পূরণের জন্য যথেষ্ট নয়।
শিক্ষার্থীরা মনে করেন, শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় বাজেটের আকার বৃদ্ধি পেলেও শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আসবে না।
জরিপের ফলাফলে আরও দেখা গেছে, শিক্ষার্থীরা বাজেট বরাদ্দের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন প্রাথমিক শিক্ষাকে। তাদের মতে, শিক্ষার ভিত্তি মজবুত না হলে উচ্চশিক্ষাসহ অন্য কোনো স্তরে দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন সম্ভব নয়। এজন্য প্রাথমিক শিক্ষায় বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের ওপর জোর দিয়েছেন তারা।
একই সঙ্গে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাকেও অগ্রাধিকার দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন অংশগ্রহণকারীরা। তাদের মতে, শিক্ষার বিভিন্ন স্তরের মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত না হলে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা কঠিন হয়ে পড়বে।
ভবিষ্যতের কর্মসংস্থান এবং চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি গবেষণা ও উদ্ভাবন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শিক্ষা এবং বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতভিত্তিক (এসটিইএম) শিক্ষার প্রসারে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তুলতে এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে এসব খাতে পর্যাপ্ত বিনিয়োগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অন্যথায় বৈশ্বিক শ্রমবাজারে দেশের তরুণরা পিছিয়ে পড়তে পারেন।
গ্রামীণ ও সুবিধাবঞ্চিত অঞ্চলের শিক্ষার মান উন্নয়নের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বড় সুপারিশ ছিল দক্ষ ও প্রশিক্ষিত শিক্ষক নিয়োগ। তাদের মতে, অবকাঠামো উন্নয়ন ও প্রযুক্তিগত সুবিধা গুরুত্বপূর্ণ হলেও মানসম্মত শিক্ষক ছাড়া শিক্ষার গুণগত পরিবর্তন সম্ভব নয়।
সংবাদ সম্মেলনে মো. শাহনেওয়াজ খান চন্দন বলেন, বিভিন্ন সরকার শিক্ষা খাতের গুরুত্বের কথা বললেও জিডিপির অনুপাতে শিক্ষা বাজেট দীর্ঘদিন ধরেই প্রায় ২ শতাংশ বা তার নিচে অবস্থান করছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড এবং দেশের প্রয়োজনের তুলনায় এটি যথেষ্ট নয়।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা এমন একটি শিক্ষা বাজেট প্রত্যাশা করেন, যা শুধু বরাদ্দের অঙ্কে বড় হবে না; বরং দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে। কারণ শিক্ষা খাতের টেকসই উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং অর্থের কার্যকর ব্যবহার—দুইটিই সমান গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: শিক্ষা অধিকার সংসদের জরিপ প্রতিবেদন
আরও পড়ুন-অনলাইন ক্লাস নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতা মন্ত্রিপরিষদের নির্দেশনার অপেক্ষায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔








