পবিত্র হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং মূল রোকন হলো আরাফাতের ময়দানে অবস্থান। ইসলামী শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে আরাফায় উপস্থিত না হতে পারলে হজ আদায় সম্পূর্ণ হয় না। এ কারণেই হজের পুরো সফরের মধ্যে আরাফার দিনটিকে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দিন হিসেবে গণ্য করা হয়।
হাদিসে রাসুলুল্লাহ (স.) স্পষ্টভাবে বলেছেন, “হজ হলো আরাফা।” Jami’ at-Tirmidhi–এর বর্ণিত এই হাদিস থেকেই আরাফার গুরুত্ব বোঝা যায়।
আরও পড়ুন-নফল রোজাদারকে ইফতার করালে পাওয়া যায় কতো সওয়াব
ফিকহবিদদের ঐকমত্য অনুযায়ী, ৯ জিলহজ জোহরের সময় শুরু হওয়ার পর থেকে ১০ জিলহজ সুবহে সাদিক পর্যন্ত যেকোনো সময় আরাফার সীমানার ভেতরে অবস্থান করা হজের ফরজ।
হানাফি মাজহাবের প্রসিদ্ধ গ্রন্থগুলোতে উল্লেখ করা হয়েছে, এই সময়ের মধ্যে অল্প সময়ের জন্য হলেও আরাফার ময়দানে উপস্থিত থাকলে ফরজ আদায় হয়ে যায়। এমনকি কেউ রাতের বেলায় পৌঁছালেও তার হজ সহিহ হবে।
তবে সূর্যাস্ত পর্যন্ত অবস্থান করাকে হানাফি ফিকহে ওয়াজিব বলা হয়েছে। কারণ বিদায় হজের সময় রাসুলুল্লাহ (স.) জোহরের পর আরাফায় অবস্থান করে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সেখানেই ছিলেন।
এরপর মাগরিবের নামাজ না পড়ে তিনি মুজদালিফার উদ্দেশে রওনা হন। Sahih Muslim–এ এ সম্পর্কিত বর্ণনা এসেছে।
ফিকহবিদদের মতে, কেউ যদি সূর্যাস্তের আগে আরাফা ত্যাগ করেন, তাহলে তার ওপর ‘দম’ বা কোরবানি ওয়াজিব হবে।
ইসলামী চিন্তাবিদরা বলেন, আরাফার দিন মূলত দোয়া, কান্না, তাওবা ও আত্মসমর্পণের দিন। এ দিন আল্লাহ তাআলা সবচেয়ে বেশি বান্দাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন।
হাদিসে এসেছে, “আরাফার দিনের চেয়ে এমন কোনো দিন নেই, যেদিন আল্লাহ সবচেয়ে বেশি মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন।”
তাই এই সময় অহেতুক ব্যস্ততা বা দুনিয়াবি কাজে সময় নষ্ট না করে বেশি বেশি ইবাদতে মনোযোগ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন আলেমরা।
আরাফার দিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো তাওবা ও ইস্তেগফার। অতীতের গুনাহের জন্য বিনয়ের সঙ্গে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা এ দিনের সবচেয়ে ফজিলতপূর্ণ আমলগুলোর একটি।এছাড়া বেশি বেশি দোয়া করার কথাও বলা হয়েছে। হাদিস অনুযায়ী, “সর্বোত্তম দোয়া হলো আরাফার দিনের দোয়া।”
রাসুলুল্লাহ (স.) এ দিনে যে দোয়াটি বেশি পড়তেন তা হলো—
“লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু, ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাই’ইন কাদির।”
হাজিদের জন্য তালবিয়া পাঠ করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আমল। বিশেষ করে উচ্চস্বরে তালবিয়া, তাসবিহ, তাহলিল ও তাকবির পাঠ করার প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তালবিয়া হলো—
“লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান নিমাতা লাকা ওয়াল মুলক, লা শারিকা লাক।”
এছাড়া কোরআন তেলাওয়াত, দরুদ শরিফ পাঠ এবং নফল ইবাদতে সময় কাটানোরও বিশেষ ফজিলত রয়েছে।
আরাফার দিন মসজিদে নামিরা থেকে ইমাম খুতবা প্রদান করেন। এরপর জোহর ও আছরের নামাজ একসঙ্গে আদায় করা সুন্নত।তবে যারা জামাতে অংশ নিতে পারবেন না, তারা নিজ নিজ তাঁবুতে আলাদা সময়ে নামাজ আদায় করবেন।
ইসলামী বিশ্লেষকদের মতে, আরাফার ময়দান মানুষকে হাশরের দিনের কথাও স্মরণ করিয়ে দেয়। সাদা ইহরামের কাপড়ে লাখো মানুষ সেখানে একসঙ্গে দাঁড়িয়ে থাকেন, যেখানে ধনী-গরিব বা জাতিগত কোনো বিভেদ থাকে না।
সব মিলিয়ে, আরাফার দিনটি একজন মুসলমানের জীবনে আত্মশুদ্ধি, ক্ষমা প্রার্থনা এবং আল্লাহর রহমত লাভের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হয় । আল্লাহ তাআলা সকল হাজির হজ কবুল করুন এবং সবাইকে তাঁর ঘর জিয়ারতের তাওফিক দান করুন। আমিন।
সূত্র: Sunnah.com Hadith Collection
আরও পড়ুন-ফিতরা দেওয়ার নিয়ম ২০২৬ – কত টাকা দিতে হবে ও কারা পাবে
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔










