দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মোকাবিলা এবং গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে পাঁচ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এ–সংক্রান্ত একাধিক প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বুধবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৈঠকে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের উত্থাপিত প্রস্তাবের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে এলএনজি সংগ্রহের বিষয়টি অনুমোদন পায়।
আরও পড়ুন-জ্বালানি সংকটে স্কুল-কলেজে অনলাইন ক্লাস নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ৮ এপ্রিল
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, পাঁচ কার্গোর মধ্যে যুক্তরাজ্য থেকে দুই কার্গো, সুইজারল্যান্ড থেকে দুই কার্গো এবং সিঙ্গাপুর থেকে এক কার্গো এলএনজি কেনা হবে। এর মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার চেষ্টা করা হবে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের প্রস্তাব অনুযায়ী, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০২৫-এর আওতায় আন্তর্জাতিক কোটেশন বা আরএফকিউ পদ্ধতিতে তিন কার্গো এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী জুন ও জুলাই মাসে ২৬তম, ২৭তম এবং ২৮তম কার্গো দেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, সিঙ্গাপুরভিত্তিক BP Singapore Pte. Limited থেকে একটি এবং যুক্তরাজ্যভিত্তিক TotalEnergies Gas & Power Limited থেকে দুটি কার্গো এলএনজি সংগ্রহ করা হবে।
এই তিন কার্গো এলএনজি আমদানিতে সরকারের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৩৭২ কোটি ২১ লাখ টাকার বেশি। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামের ওঠানামার মধ্যেও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এ ছাড়া পৃথক আরেকটি প্রস্তাবের মাধ্যমে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক SOCAR Trading SA থেকে সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) ভিত্তিতে আরও দুই কার্গো এলএনজি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
তবে এই দুই কার্গো আমদানিতে মোট কত ব্যয় হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মূল্য নির্ধারণের প্রক্রিয়া শেষ হলে ব্যয়ের বিষয়টি স্পষ্ট হবে।
জ্বালানি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, স্পট মার্কেটের তুলনায় অপেক্ষাকৃত প্রতিযোগিতামূলক মূল্যে এলএনজি সংগ্রহের লক্ষ্যে এসওসিএআর ট্রেডিংয়ের সঙ্গে আলোচনা চালানো হয়। এর ধারাবাহিকতায় প্রতিষ্ঠানটির কাছ থেকে স্বল্পমেয়াদি ভিত্তিতে এলএনজি আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি নীতিগতভাবে এসওসিএআর ট্রেডিংয়ের কাছ থেকে ২০২৬ সালে এলএনজি আমদানির প্রস্তাবে সম্মতি দেয়।
মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, জাপান-কোরিয়া মার্কেট (জেকেএম) মূল্যসূচকের ভিত্তিতে প্রতি এমএমবিটিইউতে জেকেএম মূল্যের সঙ্গে অতিরিক্ত ০.১২৫ মার্কিন ডলার যোগ করে দুই কার্গো এলএনজি কেনা হবে। প্রতিটি কার্গোতে প্রায় ৩৩ লাখ ৬০ হাজার এমএমবিটিইউ এলএনজি থাকবে।
জ্বালানি খাতসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, স্থানীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে উৎপাদন কমে আসা এবং শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে চাহিদা বাড়ার কারণে আমদানিনির্ভর এলএনজির ওপর বাংলাদেশের নির্ভরতা ক্রমেই বাড়ছে। ফলে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ বজায় রাখতে নিয়মিত এলএনজি আমদানি এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সূত্র: জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ
আরও পড়ুন-অনলাইন ক্লাস নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতা মন্ত্রিপরিষদের নির্দেশনার অপেক্ষায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔










