প্রতিদিন স্মার্টফোন, ল্যাপটপ, স্মার্টওয়াচ কিংবা ওয়্যারলেস ইয়ারবাড ব্যবহার করতে গিয়ে ‘ব্লুটুথ’ শব্দটির সঙ্গে আমাদের পরিচয় হয় বারবার। এক ডিভাইস থেকে আরেক ডিভাইসে তার ছাড়াই তথ্য আদান-প্রদানের এই প্রযুক্তি এখন দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ। তবে বহুল ব্যবহৃত এই প্রযুক্তির নামের পেছনে লুকিয়ে আছে প্রায় এক হাজার বছরের পুরোনো এক ইতিহাস, যা অনেকের কাছেই অজানা।
শুনতে প্রযুক্তিনির্ভর কোনো শব্দ মনে হলেও ‘ব্লুটুথ’ নামটির উৎস আসলে প্রযুক্তি জগত নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছেন দশম শতাব্দীর এক স্ক্যান্ডিনেভিয়ান রাজা, যিনি ইতিহাসে পরিচিত ছিলেন বিচ্ছিন্ন অঞ্চল ও জনগোষ্ঠীকে একত্রিত করার জন্য।
আরও পড়ুন-নতুন ইয়ারবাডস কেনার আগে না জানলেই ক্ষতি! দেখে নিন গুরুত্বপূর্ণ ৭ বিষয়
ইতিহাসবিদদের তথ্য অনুযায়ী, ডেনমার্কের রাজা হ্যারাল্ড ব্লুটুথ গর্মসন ৯৫৮ থেকে ৯৮৫ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত শাসন করেন। তাঁর শাসনামলে বর্তমান ডেনমার্ক ও নরওয়ের বিভিন্ন বিচ্ছিন্ন অঞ্চলকে একত্রিত করে শক্তিশালী একটি রাজ্য গড়ে তোলা হয়েছিল। এ কারণে তিনি স্ক্যান্ডিনেভিয়ার ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিবেচিত হন।
প্রযুক্তি দুনিয়ায় তাঁর নাম আসার গল্প শুরু হয় ১৯৯০-এর দশকে। সে সময় বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্বল্প দূরত্বে তারবিহীন যোগাযোগের জন্য একটি অভিন্ন মান বা স্ট্যান্ডার্ড তৈরির কাজ করছিল। প্রকল্পটিতে যুক্ত প্রকৌশলীরা এমন একটি নাম খুঁজছিলেন, যা বিভিন্ন প্রযুক্তি ও ডিভাইসকে একত্রে যুক্ত করার ধারণাকে তুলে ধরবে।
সেই সময় ইন্টেলের এক প্রকৌশলী ডেনিশ রাজা হ্যারাল্ড ব্লুটুথের নাম ব্যবহারের প্রস্তাব দেন। কারণ, ইতিহাসে রাজা হ্যারাল্ড যেমন বিভিন্ন গোত্র ও অঞ্চলকে একত্রিত করেছিলেন, তেমনি নতুন এই প্রযুক্তির লক্ষ্যও ছিল বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইসকে একই প্ল্যাটফর্মে সংযুক্ত করা।
প্রথমদিকে এটি শুধু একটি অস্থায়ী কোডনাম হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে নামটি এতটাই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে যে সেটিই প্রযুক্তিটির স্থায়ী নাম হয়ে যায়।
তবে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগতে পারে, ‘ব্লুটুথ’ বা ‘নীল দাঁত’ নামটি এল কোথা থেকে? এ বিষয়ে একটি প্রচলিত ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা রয়েছে। ধারণা করা হয়, রাজা হ্যারাল্ডের একটি দাঁত গাঢ় নীল বা কালচে রঙের ছিল। এ কারণেই তিনি ‘ব্লুটুথ’ নামে পরিচিতি পেয়েছিলেন। যদিও ইতিহাসবিদদের মধ্যে এ বিষয়ে কিছু মতভেদ রয়েছে, তবুও এই ব্যাখ্যাই সবচেয়ে বেশি প্রচলিত।
শুধু নাম নয়, ব্লুটুথের লোগোর সঙ্গেও জড়িয়ে আছে সেই রাজার ইতিহাস। পরিচিত নীল রঙের ব্লুটুথ চিহ্নটি আসলে কোনো সাধারণ ডিজাইন নয়। এটি প্রাচীন নর্ডিক রুনিক বর্ণমালার দুটি অক্ষরের সমন্বয়ে তৈরি।
রাজা হ্যারাল্ড ব্লুটুথের নামের আদ্যক্ষর ‘H’ এবং ‘B’-এর রুনিক প্রতীক একত্র করে বর্তমান ব্লুটুথ লোগো তৈরি করা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রযুক্তিটির নাম ও লোগো—দুটিই সরাসরি সেই ঐতিহাসিক রাজার স্মৃতির সঙ্গে সম্পর্কিত।
বর্তমানে স্মার্টফোন থেকে শুরু করে গাড়ি, স্মার্ট টিভি, হেডফোন এবং বিভিন্ন স্মার্ট ডিভাইসে ব্লুটুথ প্রযুক্তি ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রতিদিন কোটি কোটি মানুষ এই প্রযুক্তি ব্যবহার করলেও এর নামের পেছনের ইতিহাস সম্পর্কে খুব কম মানুষই জানেন।
প্রযুক্তি ও ইতিহাসের এমন ব্যতিক্রমী সংযোগই ব্লুটুথকে শুধু একটি যোগাযোগ প্রযুক্তি নয়, বরং আধুনিক উদ্ভাবন ও অতীত ঐতিহ্যের এক অনন্য উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে।
সূত্র: ব্লুটুথ স্পেশাল ইন্টারেস্ট গ্রুপ (SIG)
আরও পড়ুন-হেডফোন ব্যবহারে 60-60 নিয়ম মানছেন তো? নইলে হতে পারে শ্রবণক্ষতি
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔










