প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের যুগে প্রায় প্রতি বছরই বাজারে আসছে নতুন নতুন স্মার্টফোন। উন্নত ক্যামেরা, শক্তিশালী প্রসেসর কিংবা নতুন ডিজাইনের আকর্ষণে অনেকেই দ্রুত ফোন পরিবর্তন করেন। তবে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিকভাবে ব্যবহার ও যত্ন নিলে একটি স্মার্টফোন সহজেই কয়েক বছর ভালো অবস্থায় ব্যবহার করা সম্ভব। এতে যেমন অপ্রয়োজনীয় খরচ কমে, তেমনি ইলেকট্রনিক বর্জ্যও হ্রাস পায়।
আরও পড়ুন-মোবাইল কভারের পেছনে টাকা রাখেন? অজান্তেই ডেকে আনছেন বড় বিপদ
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্মার্টফোন দীর্ঘদিন ভালো রাখতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে ব্যাটারির স্বাস্থ্যের ওপর। অতিরিক্ত গরম বা অত্যন্ত ঠান্ডা পরিবেশে ফোন ব্যবহার করলে ব্যাটারির কার্যক্ষমতা দ্রুত কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে সবসময় ১০০ শতাংশ চার্জ না করে ২০ থেকে ৮০ শতাংশের মধ্যে চার্জ ধরে রাখলে ব্যাটারির আয়ু বাড়ে। বর্তমানে অনেক স্মার্টফোনে ‘অপটিমাইজড চার্জিং’ সুবিধা থাকায় সেটি চালু রাখারও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
ফোনের শারীরিক সুরক্ষাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিনের ব্যবহারে অসাবধানতাবশত ফোন পড়ে গিয়ে স্ক্রিন বা বডি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই ভালো মানের কভার এবং টেম্পারড গ্লাস বা স্ক্রিন প্রটেক্টর ব্যবহার করলে দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতির ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
দীর্ঘদিন ব্যবহারের ক্ষেত্রে ফোন নিয়মিত পরিষ্কার রাখাও জরুরি। চার্জিং পোর্ট, স্পিকার গ্রিল এবং স্ক্রিনে ধুলাবালি জমে গেলে ধীরে ধীরে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। নরম ও শুকনো কাপড় দিয়ে নিয়মিত ফোন পরিষ্কার রাখলে এসব ঝুঁকি কমে যায়।
সফটওয়্যার আপডেট উপেক্ষা করাও অনেকের সাধারণ অভ্যাস। কিন্তু প্রযুক্তিবিদরা বলছেন, নিয়মিত সফটওয়্যার ও নিরাপত্তা আপডেট ইনস্টল করলে শুধু নতুন ফিচারই পাওয়া যায় না, বরং ফোন সাইবার ঝুঁকি থেকেও সুরক্ষিত থাকে। পাশাপাশি পারফরম্যান্স ও ব্যাটারি ব্যবস্থাপনাও উন্নত হয়।
ফোনের স্টোরেজ ব্যবস্থাপনার দিকেও নজর রাখা প্রয়োজন। অপ্রয়োজনীয় ছবি, ভিডিও, অ্যাপ ও বড় ফাইল জমে গেলে ডিভাইস ধীরগতির হয়ে যেতে পারে। তাই নিয়মিত অপ্রয়োজনীয় ফাইল মুছে ফেলা এবং প্রয়োজন হলে ক্লাউড স্টোরেজ ব্যবহার করা ভালো অভ্যাস।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, ব্যাটারি দুর্বল হওয়া বা স্ক্রিন ভেঙে যাওয়ার মতো সমস্যায় অনেকেই দ্রুত নতুন ফোন কেনার সিদ্ধান্ত নেন। অথচ অধিকাংশ ক্ষেত্রে এসব সমস্যা মেরামতের মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব। ফলে নতুন ডিভাইস কেনার আগে মেরামতের সুযোগ আছে কি না, সেটিও বিবেচনা করা উচিত।
সঠিক যত্ন, সচেতন ব্যবহার এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে একটি স্মার্টফোনের কার্যক্ষমতা দীর্ঘদিন ধরে বজায় রাখা সম্ভব। তাই অপ্রয়োজনীয়ভাবে ফোন পরিবর্তনের পরিবর্তে বিদ্যমান ডিভাইসের যত্ন নেওয়াই হতে পারে সবচেয়ে সাশ্রয়ী ও বুদ্ধিমান সিদ্ধান্ত।
সূত্র: প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
আরও পড়ুন-মোবাইল ফোন রাতভর চার্জে রেখে ঘুমান? জেনে নিন নিরাপদ ব্যবহারের নিয়ম
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔








