আমাদের Telegram চ্যানেলে যুক্ত হোন

দিনরাত এসিতে থাকলে কি স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে? যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

June 8, 2026 10:38 PM
দিনরাত এসিতে থাকলে কি স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ে? যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা

গ্রীষ্মের তীব্র গরমে স্বস্তির অন্যতম ভরসা এয়ার কন্ডিশনার বা এসি। কয়েক বছর আগেও যা ছিল বিলাসিতার প্রতীক, এখন তা অনেক পরিবারের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। বাসা, অফিস, গাড়ি—সবখানেই বাড়ছে এসির ব্যবহার। তবে দীর্ঘ সময় এসির মধ্যে থাকা শরীরের জন্য কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে উদ্বেগও কম নয়।

আরও পড়ুন-বারবার এসি অন-অফ করলে কি বিদ্যুৎ বিল বাড়ে? জেনে নিন আসল সত্য

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসি নিজে ক্ষতিকর নয়। বরং প্রচণ্ড গরমে হিট স্ট্রোক, অতিরিক্ত ঘাম এবং তাপজনিত অসুস্থতা থেকে সুরক্ষা দিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে অতিরিক্ত ব্যবহার বা ভুল রক্ষণাবেক্ষণের কারণে কিছু স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

দীর্ঘ সময় ঠান্ডা পরিবেশে থাকলে শরীরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থায় প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে গরম পরিবেশ থেকে হঠাৎ ঠান্ডা কক্ষে প্রবেশ করা কিংবা এসি রুম থেকে বের হয়ে তীব্র গরমে যাওয়ার ফলে অনেকের মাথাব্যথা, ক্লান্তি বা অস্বস্তি দেখা দেয়। কারও কারও ক্ষেত্রে সর্দি-কাশি কিংবা সাইনাসের সমস্যাও বাড়তে পারে।

এসি ব্যবহারের আরেকটি বড় প্রভাব পড়ে ত্বক ও চোখের ওপর। এসি চলাকালে ঘরের বাতাসের আর্দ্রতা কমে যায়। ফলে দীর্ঘ সময় এসির মধ্যে থাকলে ত্বক শুষ্ক হয়ে যাওয়া, ঠোঁট ফেটে যাওয়া এবং চোখে জ্বালাপোড়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যারা দীর্ঘ সময় কম্পিউটার বা মোবাইলের পর্দার দিকে তাকিয়ে কাজ করেন, তাদের মধ্যে চোখ শুষ্ক হয়ে যাওয়ার প্রবণতা বেশি দেখা যায়।

চিকিৎসকদের মতে, ঠান্ডা পরিবেশে থাকার কারণে অনেক সময় তৃষ্ণা কম অনুভূত হয়। ফলে প্রয়োজনের তুলনায় কম পানি পান করা হয়। এতে ধীরে ধীরে শরীরে পানিশূন্যতা তৈরি হতে পারে, যা ক্লান্তি ও দুর্বলতার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

শ্বাসযন্ত্রের জন্যও এসির রক্ষণাবেক্ষণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসির ফিল্টার নিয়মিত পরিষ্কার না করলে সেখানে ধুলাবালি, ফাঙ্গাস, ব্যাকটেরিয়া এবং বিভিন্ন অ্যালার্জিজনিত উপাদান জমতে থাকে। এসব দূষিত কণা বাতাসের সঙ্গে শরীরে প্রবেশ করলে অ্যালার্জি, হাঁপানি ও শ্বাসকষ্টের সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং যাদের আগে থেকেই শ্বাসনালির সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি।

দীর্ঘ সময় ঠান্ডা বাতাসে থাকার ফলে অনেকের ঘাড়, কাঁধ, কোমর কিংবা হাঁটুতে ব্যথা অনুভূত হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় একটানা ঠান্ডা পরিবেশে অবস্থান করলে পেশি শক্ত হয়ে যেতে পারে, যা পরে অস্বস্তি বা ব্যথার কারণ হয়।

তবে এসির ইতিবাচক দিকও কম নয়। প্রচণ্ড গরমে শরীরকে স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রাখতে, ভালো ঘুম নিশ্চিত করতে এবং কর্মক্ষেত্রে মনোযোগ ও উৎপাদনশীলতা বাড়াতে এসি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে তাপপ্রবাহের সময় এটি অনেক ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় হয়ে ওঠে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, এসির তাপমাত্রা ২৪ থেকে ২৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখা সবচেয়ে উপযোগী। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করা, নিয়মিত এসির ফিল্টার পরিষ্কার করা এবং মাঝে মাঝে খোলা বাতাসে সময় কাটানো উচিত। রাতে ঘুমানোর সময় সরাসরি ঠান্ডা বাতাস শরীরে না লাগানো এবং প্রয়োজনে হালকা চাদর ব্যবহার করাও ভালো অভ্যাস।

প্রযুক্তির এই যুগে এসি মানুষের জীবনকে অনেক বেশি আরামদায়ক করেছে। তবে এর সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত না করলে ধীরে ধীরে কিছু স্বাস্থ্যসমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই সচেতনভাবে এসি ব্যবহার করলে গরমের অস্বস্তি থেকে যেমন মুক্তি পাওয়া সম্ভব, তেমনি স্বাস্থ্যঝুঁকিও অনেকটাই এড়ানো যায়।

সুত্রঃ প্রথম আলো 

আরও পড়ুন-ফ্রিজের বিদ্যুৎ বিল কমানোর ১২ সহজ উপায়

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

Sobujar Alam

প্রযুক্তি, অনলাইন সেবা ও নাগরিক সুবিধাবিষয়ক তথ্যভিত্তিক কনটেন্ট নিয়ে নিয়মিত কাজ করি। সরকারি ভাতা, এনআইডি, পাসপোর্ট, জন্ম নিবন্ধন, মোবাইল ও ইন্টারনেটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেবা সহজ ভাষায় সবার কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করি। প্রযুক্তির নতুন আপডেট, ডিজিটাল নিরাপত্তা এবং অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে নির্ভরযোগ্য ও সহজবোধ্য তথ্য প্রকাশ করতে আমি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। নিয়মিত গাইডধর্মী ও তথ্যসমৃদ্ধ কনটেন্টের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের প্রযুক্তি ও নাগরিক সেবা সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে কাজ করছি।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now