বর্তমান সময়ে বাসাবাড়িতে সবচেয়ে বেশি সময় চালু থাকা বৈদ্যুতিক যন্ত্রগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো রেফ্রিজারেটর বা ফ্রিজ। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা সচল থাকায় মাস শেষে বিদ্যুৎ বিলের বড় একটি অংশই খরচ হয় এই যন্ত্রটির পেছনে। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি সাধারণ পরিবারের মোট বিদ্যুৎ খরচের প্রায় ১৮ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে শুধু ফ্রিজের জন্য।
আরও পড়ুন-রেফ্রিজারেটরের বাড়তি বিদ্যুৎ বিল কমানোর সহজ উপায় জেনে নিন
তবে সামান্য কিছু সচেতনতা ও সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে ফ্রিজের বিদ্যুৎ খরচ অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব। এতে শুধু বিদ্যুৎ বিলই কমবে না, বরং ফ্রিজের আয়ুও বাড়বে।
ফ্রিজের বিদ্যুৎ বিল কমানোর ১২ উপায়সমুহ
১. সঠিক তাপমাত্রা নির্ধারণ করুন।
ফ্রিজের সাধারণ অংশের তাপমাত্রা ৩° থেকে ৫° সেলসিয়াস এবং ফ্রিজারের তাপমাত্রা -১৮° সেলসিয়াস রাখুন। অতিরিক্ত ঠান্ডা করলে বিদ্যুৎ খরচ বাড়ে।
২. ফ্রিজ অতিরিক্ত খালি বা অতিরিক্ত ভর্তি রাখবেন না।
মাঝারি পরিমাণ খাবার থাকলে ঠান্ডা ধরে রাখতে সুবিধা হয়। তবে অতিরিক্ত খাবার রাখলে বাতাস চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়।
৩. নিয়মিত ডিফ্রস্ট করুন।
ফ্রিজে অতিরিক্ত বরফ জমলে কম্প্রেসর বেশি সময় চলে। তাই নিয়মিত বরফ পরিষ্কার করা জরুরি।
৪. দরজার রাবার বা সিল পরীক্ষা করুন।
দরজার সিল নষ্ট হলে ঠান্ডা বাতাস বেরিয়ে যায় এবং বিদ্যুৎ খরচ বাড়ে। প্রয়োজন হলে সিল পরিবর্তন করুন।
৫. বারবার দরজা খোলা এড়িয়ে চলুন।
প্রতিবার দরজা খোলার সময় গরম বাতাস ভেতরে ঢুকে পড়ে। তাই একসঙ্গে প্রয়োজনীয় জিনিস বের করার অভ্যাস করুন।
৬. সঠিক স্থানে ফ্রিজ রাখুন।
চুলা, ওভেন বা সরাসরি রোদ পড়ে এমন জায়গা থেকে দূরে ফ্রিজ রাখুন। দেয়াল থেকে কিছুটা ফাঁকা জায়গা রাখাও জরুরি।
৭. ভারী কভার ব্যবহার করবেন না।
ফ্রিজের ওপর ভারী কাপড় বা কভার দিলে বাতাস চলাচলে বাধা সৃষ্টি হয় এবং তাপ বের হতে সমস্যা হয়।
৮. মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার সরিয়ে ফেলুন।
অপ্রয়োজনীয় খাবার জমিয়ে রাখলে ভেতরে বাতাস চলাচল কমে যায়। নিয়মিত পরিষ্কার রাখুন।
৯. খাবার ঢেকে রাখুন।
খোলা খাবার থেকে আর্দ্রতা বের হয়ে ফ্রিজের ভেতরের চাপ বাড়ায়। তাই খাবার এয়ারটাইট পাত্রে সংরক্ষণ করুন।
১০. গরম খাবার সরাসরি ফ্রিজে রাখবেন না।
গরম খাবার ভেতরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দেয়। ফলে কম্প্রেসরকে অতিরিক্ত কাজ করতে হয়।
১১. কনডেন্সার কয়েল পরিষ্কার রাখুন।
ফ্রিজের পেছনের কয়েলে ধুলো জমলে তাপ বের হতে বাধা দেয় এবং বিদ্যুৎ খরচ বাড়ে। নিয়মিত পরিষ্কার করুন।
১২. ইনভার্টার প্রযুক্তির ফ্রিজ ব্যবহার করুন।
Inverter Compressor প্রযুক্তির ফ্রিজ তুলনামূলক কম বিদ্যুৎ খরচ করে এবং দীর্ঘমেয়াদে সাশ্রয়ী।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ছোট ছোট এই অভ্যাসগুলো মেনে চললে ফ্রিজের বিদ্যুৎ খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। একই সঙ্গে এটি পরিবেশবান্ধব জীবনযাপনেও সহায়তা করবে।
সুত্রঃ প্রথম আলো প্রতিবেদন
আরও পড়ুন-মানুষ বুঝে নিজেই বাতাস বদলাবে শাওমির নতুন স্মার্ট এসি
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔









