বর্তমান সময়ে স্মার্টওয়াচ শুধু সময় দেখার যন্ত্র নয়, বরং এটি এখন স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ, ফিটনেস ট্র্যাকিং, কল-বার্তা গ্রহণ এমনকি ডিজিটাল পেমেন্টের গুরুত্বপূর্ণ ডিভাইসে পরিণত হয়েছে। প্রযুক্তির দ্রুত উন্নয়নের ফলে বাজারে এখন অসংখ্য স্মার্টওয়াচ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক ডিভাইস বেছে নেওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।
আরও পড়ুন-একবার চার্জে ৩৩ দিন চলবে ভিভোর নতুন স্মার্টওয়াচ
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্মার্টওয়াচ কেনার আগে শুধু ডিজাইন দেখে সিদ্ধান্ত নিলে পরে হতাশ হতে পারেন। বরং ব্যবহার, ব্যাটারি, ফিচার ও ফোনের সঙ্গে সামঞ্জস্য বিবেচনা করেই ডিভাইস নির্বাচন করা উচিত।
ফোনের সঙ্গে সামঞ্জস্যতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
স্মার্টওয়াচ কেনার আগে নিশ্চিত হতে হবে সেটি আপনার স্মার্টফোনের সঙ্গে ঠিকভাবে কাজ করবে কি না। অনেক ওয়াচ শুধুমাত্র অ্যান্ড্রয়েড অথবা আইফোনের জন্য তৈরি করা হয়।
অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য Samsung Galaxy Watch, Google Pixel Watch বা Amazfit ভালো বিকল্প হতে পারে। অন্যদিকে আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য সবচেয়ে উপযোগী হচ্ছে Apple Watch।
ডিসপ্লের মান গুরুত্বপূর্ণ
স্মার্টওয়াচের ডিসপ্লেই ব্যবহারকারীর প্রধান ইন্টারঅ্যাকশন মাধ্যম। তাই ডিসপ্লের মান ভালো হওয়া জরুরি। বর্তমানে AMOLED ডিসপ্লে সবচেয়ে জনপ্রিয়, কারণ এটি উজ্জ্বল ও রঙিন হওয়ার পাশাপাশি রোদেও পরিষ্কার দেখা যায়।
অন্যদিকে LCD ডিসপ্লের ওয়াচ তুলনামূলক কম দামে পাওয়া গেলেও ব্যাটারি খরচ কম হয়। এছাড়া হাতের আকার অনুযায়ী স্ক্রিন সাইজ নির্বাচন করাও গুরুত্বপূর্ণ।
ব্যাটারি ব্যাকআপে নজর দিন
অনেক ব্যবহারকারীর জন্য ব্যাটারি ব্যাকআপই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিছু স্মার্টওয়াচ এক থেকে দুই দিন চার্জ ধরে রাখলেও কিছু ব্র্যান্ডের ওয়াচ টানা এক সপ্তাহের বেশি চলতে পারে।
বিশেষ করে Huawei, Fitbit এবং Amazfit–এর কিছু মডেলে দীর্ঘ ব্যাটারি ব্যাকআপ পাওয়া যায়।
স্বাস্থ্য ও ফিটনেস ফিচার যাচাই করুন
বর্তমানে বেশিরভাগ মানুষ স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণের জন্য স্মার্টওয়াচ ব্যবহার করেন। তাই হার্ট রেট মনিটর, ব্লাড অক্সিজেন (SpO2) সেন্সর, স্লিপ ট্র্যাকিং, স্ট্রেস মনিটর ও জিপিএস সুবিধা আছে কি না দেখে নেওয়া জরুরি।
যারা নিয়মিত হাঁটাহাঁটি, সাইক্লিং বা দৌড়ান, তাদের জন্য বিল্ট-ইন জিপিএস খুবই কার্যকর।
কল ও নোটিফিকেশন সুবিধা
অনেক স্মার্টওয়াচে সরাসরি কল রিসিভ ও মেসেজ রিপ্লাই করার সুবিধা থাকে। তবে সব মডেলে এই সুবিধা নেই। তাই কেনার আগে ব্লুটুথ কলিং বা LTE সাপোর্ট আছে কি না দেখে নেওয়া ভালো।
সফটওয়্যার ও অ্যাপ সাপোর্ট
স্মার্টওয়াচের অপারেটিং সিস্টেমও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীদের জন্য Wear OS–ভিত্তিক ওয়াচ ভালো অ্যাপ সাপোর্ট দেয়। অন্যদিকে অ্যাপল ওয়াচে থাকে watchOS সুবিধা।
ডিজাইন ও আরামদায়ক স্ট্র্যাপ
স্মার্টওয়াচ যেহেতু প্রতিদিন ব্যবহার করা হয়, তাই এটি আরামদায়ক হওয়া জরুরি। হালকা ওজনের এবং পরিবর্তনযোগ্য স্ট্র্যাপযুক্ত ওয়াচ ব্যবহারকারীদের কাছে বেশি জনপ্রিয়।
ওয়াটার রেজিস্ট্যান্স ফিচার থাকলে ভালো
যারা ব্যায়াম করেন বা বৃষ্টিতে বাইরে চলাফেরা করেন, তাদের জন্য IP68 বা 5ATM রেটিংযুক্ত স্মার্টওয়াচ উপযোগী। এতে পানির কারণে সহজে ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি কম থাকে।
ব্র্যান্ড ও বিক্রয়োত্তর সেবা
বাজেটের মধ্যে ভালো ব্র্যান্ডের স্মার্টওয়াচ কেনা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি সফটওয়্যার আপডেট এবং অফিসিয়াল সার্ভিস সেন্টার আছে কি না, সেটিও যাচাই করা উচিত।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, স্মার্টওয়াচ কেনার আগে রিভিউ ও ভিডিও দেখে বাস্তব ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ধারণা নিলে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ হয়।
সূত্র: Jagonews24
আরও পড়ুন-স্মার্টওয়াচের বিকল্প হয়ে উঠছে স্মার্ট রিং, যেভাবে কাজ করে নতুন এই ডিভাইস
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔






