গরমের দিনে হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়া এখন অনেক পরিবারের জন্যই নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ঝড়-বৃষ্টি কিংবা কালবৈশাখীর সময় দীর্ঘ লোডশেডিং হলে সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা শুরু হয় ফ্রিজে রাখা মাছ-মাংস নিয়ে। সামনে কোরবানির ঈদ থাকায় অনেকেই আগেভাগেই ডিপ ফ্রিজ ভর্তি করে রাখছেন মাংস। ফলে বিদ্যুৎ না থাকলে খাবার কতক্ষণ নিরাপদ থাকবে—এই প্রশ্ন এখন বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞ এবং বিভিন্ন ফ্রিজ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পরও ফ্রিজের ভেতরের ঠান্ডা কিছু সময় পর্যন্ত বজায় থাকে। তবে এটি নির্ভর করে ফ্রিজের ধরন, ভেতরে কত খাবার আছে এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—ফ্রিজের দরজা খোলা হচ্ছে কি না।
আরও পড়ুন-ফ্রিজের বিদ্যুৎ বিল কমানোর ১২ সহজ উপায়
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ ফ্রিজ বা রেফ্রিজারেটরের অংশে রাখা খাবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর সাধারণত প্রায় ৪ ঘণ্টা পর্যন্ত নিরাপদ থাকে। এই সময়ের মধ্যে ফ্রিজের দরজা বন্ধ রাখা হলে ভেতরের ঠান্ডা বাতাস দীর্ঘসময় ধরে রাখা সম্ভব হয়।
অন্যদিকে ডিপ ফ্রিজ বা ফ্রিজারের ক্ষেত্রে সময়টা আরও বেশি। একটি সম্পূর্ণ ভর্তি ডিপ ফ্রিজে মাছ-মাংস ৪৮ ঘণ্টা পর্যন্ত জমাট অবস্থায় থাকতে পারে।
তবে যদি ফ্রিজার অর্ধেক খালি থাকে, তাহলে সাধারণত ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত নিরাপদ থাকে খাবার। কারণ ভেতরে যত বেশি বরফ ও খাবার থাকবে, ঠান্ডা তাপমাত্রা তত বেশি সময় ধরে বজায় থাকবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লোডশেডিংয়ের সময় সবচেয়ে বড় ভুল হচ্ছে বারবার ফ্রিজের দরজা খোলা। এতে ভেতরের ঠান্ডা বাতাস দ্রুত বের হয়ে যায় এবং বাইরের গরম বাতাস ভেতরে ঢুকে খাবার নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
তাই বিদ্যুৎ চলে গেলে ফ্রিজ বা ডিপ ফ্রিজ যতটা সম্ভব বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি ১ থেকে ২ দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ ফিরে আসে এবং ফ্রিজের ভেতরের বরফ পুরোপুরি না গলে, তাহলে মাছ-মাংস সাধারণত নিরাপদ থাকে।
তবে ৪৮ ঘণ্টার বেশি সময় বিদ্যুৎ না থাকলে ঝুঁকি বাড়তে শুরু করে। তখন বরফ গলে গিয়ে খাবারের তাপমাত্রা বেড়ে যায় এবং ব্যাকটেরিয়া জন্মানোর আশঙ্কা তৈরি হয়।
বিশেষ করে কাঁচা মাংস ও মাছ দীর্ঘসময় ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে থাকলে তা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে।
খাবার নিরাপদ রাখতে বিশেষজ্ঞরা কিছু কার্যকর কৌশলের পরামর্শ দিয়েছেন।
প্রথমত, লোডশেডিং হওয়ার আগেই ডিপ ফ্রিজে অতিরিক্ত বরফ তৈরি করে রাখা যেতে পারে। ছোট বোতল বা পলিথিনে পানি জমিয়ে বরফ তৈরি করে রাখলে বিদ্যুৎ না থাকলেও দীর্ঘসময় ঠান্ডা বজায় থাকে।
দ্বিতীয়ত, মাছ-মাংস আলাদা আলাদা না রেখে কাছাকাছি গাদাগাদি করে রাখলে সেগুলো দীর্ঘসময় ঠান্ডা থাকে।
তৃতীয়ত, প্রয়োজন ছাড়া ফ্রিজের দরজা একদম না খোলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
অনেক বিশেষজ্ঞ আবার ফ্রিজের ভেতরে থার্মোমিটার ব্যবহারেরও পরামর্শ দেন। বিদ্যুৎ ফিরে আসার পর যদি দেখা যায় ভেতরের তাপমাত্রা এখনও ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার নিচে রয়েছে, তাহলে খাবার সাধারণত নিরাপদ বলে ধরা হয়।
তবে যদি মাংস পুরোপুরি গলে যায়, দুর্গন্ধ তৈরি হয় বা অস্বাভাবিক রঙ দেখা যায়, তাহলে সেটি না খাওয়াই ভালো।
বর্তমানে আধুনিক অনেক ডিপ ফ্রিজে উন্নত ইনসুলেশন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে, যা দীর্ঘসময় ঠান্ডা ধরে রাখতে সাহায্য করে। তবে পুরোনো ফ্রিজের ক্ষেত্রে সময়টা তুলনামূলক কম হতে পারে।
সব মিলিয়ে, লোডশেডিংয়ের সময় আতঙ্কিত না হয়ে কিছু সাধারণ নিয়ম মেনে চললেই মাছ-মাংস দীর্ঘসময় নিরাপদ রাখা সম্ভব। সামান্য সচেতনতাই আপনার খাবার ও অর্থ—দুটোই সুরক্ষিত রাখতে পারে।
সূত্র: US Food Safety Guidelines
আরও পড়ুন-ফ্রিজে ১, ২, ৩, ৪, ৫ নম্বরের আসল মানে কী? জেনে নিন সঠিক ব্যবহার
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔







