তীব্র গরমে স্বস্তি পেতে এখন প্রায় প্রতিটি ঘরেই নিয়মিত ব্যবহার হচ্ছে এয়ার কন্ডিশনার বা এসি। বিশেষ করে গরমের রাতে এসি ছাড়া স্বাভাবিকভাবে ঘুমানো অনেকের জন্যই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে আবহাওয়া হঠাৎ খারাপ হলে, বিশেষ করে বজ্রপাত ও ঝড়বৃষ্টির সময় এসি চালিয়ে রাখা নিরাপদ কি না—এই প্রশ্ন নিয়ে অনেকের মধ্যেই রয়েছে দ্বিধা।
বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বজ্রপাতের সময় এসি চালিয়ে রাখা মোটেও নিরাপদ নয়। শুধু এসি নয়, টিভি, ফ্রিজ, ডেস্কটপ কম্পিউটারসহ প্রায় সব ধরনের বৈদ্যুতিক যন্ত্রই এ সময় ঝুঁকির মধ্যে থাকে। তবে এসির মতো উচ্চক্ষমতার ডিভাইস সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
আরও পড়ুন-এসি ১৬ ডিগ্রির নিচে যায় না কেন জানলে অবাক হবেন
বিশেষজ্ঞদের মতে, বজ্রপাতের সময় বিদ্যুৎ লাইনে হঠাৎ করেই অতিরিক্ত ভোল্টেজ বা ‘পাওয়ার সার্জ’ তৈরি হয়। এই অতিরিক্ত বৈদ্যুতিক চাপ কয়েক লাখ ভোল্ট পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। বিদ্যুৎ লাইনের মাধ্যমে এই শক্তিশালী সার্জ সরাসরি ঘরের বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিতে প্রবেশ করে।
এমন পরিস্থিতিতে এসি চালু থাকলে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়ে এর কম্প্রেসর, মাদারবোর্ড এবং অভ্যন্তরীণ সার্কিট। কারণ আধুনিক এসিতে অত্যন্ত সংবেদনশীল ইলেকট্রনিক উপাদান ব্যবহার করা হয়, যা অতিরিক্ত ভোল্টেজ সহ্য করতে পারে না।
প্রযুক্তিবিদদের ভাষায়, বজ্রপাতের কারণে সৃষ্ট উচ্চ ভোল্টেজ মুহূর্তের মধ্যেই এসির সার্কিট পুড়িয়ে ফেলতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগা বা বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটতে পারে।
অনেকেই মনে করেন, ঝড় শুরু হলে রিমোট দিয়ে এসি বন্ধ করে দিলেই বিপদ এড়ানো যায়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা।
কারণ রিমোট দিয়ে বন্ধ করলে এসি পুরোপুরি বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয় না। তখনও ডিভাইসটি ‘স্ট্যান্ডবাই মোডে’ বিদ্যুতের লাইনের সঙ্গে যুক্ত থাকে। ফলে বজ্রপাতের সময় বিদ্যুতের অতিরিক্ত চাপ এসির ভেতরে পৌঁছে যন্ত্রাংশ নষ্ট করতে পারে।
এই ঝুঁকি এড়াতে বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিয়েছেন, বজ্রপাত শুরু হলে শুধু রিমোট নয়, দেয়ালের সকেট থেকেও এসির প্লাগ খুলে রাখা উচিত।
যেসব এসির সরাসরি প্লাগ খোলার ব্যবস্থা নেই, সেসব ক্ষেত্রে মেইন সুইচ বা সার্কিট ব্রেকার বন্ধ করে দেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে অনেক বাসাবাড়িতে সার্জ প্রটেক্টর ব্যবহার করা হলেও সেটি শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না। বিশেষ করে সরাসরি বজ্রপাত হলে সাধারণ সার্জ প্রটেক্টরও অনেক সময় কার্যকর থাকে না।
তাই বজ্রপাতের সময় বাড়তি সতর্কতা নেওয়া জরুরি। শুধু এসি নয়, ওয়াইফাই রাউটার, টেলিভিশন, ডেস্কটপ কম্পিউটার ও চার্জারে লাগানো ডিভাইসগুলোও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা ভালো।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে গরম ও বর্ষাকালে বজ্রপাতের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। বিশেষ করে এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত সময়কে বজ্রপাতপ্রবণ মৌসুম হিসেবে ধরা হয়।
ফলে এই সময়ে বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহারে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন বলে মনে করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক সময় সামান্য অসচেতনতার কারণে কয়েক হাজার বা লাখ টাকার ইলেকট্রনিক যন্ত্র মুহূর্তের মধ্যে নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই ঝড়-বৃষ্টির সময় বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে, বজ্রপাতের সময় এসি চালিয়ে রাখা শুধু যন্ত্রের জন্য নয়, পুরো পরিবারের নিরাপত্তার জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই বৈরী আবহাওয়ায় সচেতনতা এবং দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করাই সবচেয়ে নিরাপদ সমাধান।
সূত্র: National Weather Service Safety Tips
আরও পড়ুন-দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা এসি চালুর আগে সতর্কতা: না জানলে হতে পারে ভয়াবহ দুর্ঘটনা
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔







