আমাদের Telegram চ্যানেলে যুক্ত হোন

এসি ১৬ ডিগ্রির নিচে যায় না কেন জানলে অবাক হবেন

এসি ১৬ ডিগ্রির নিচে যায় না কেন

প্রচণ্ড গরমে বাসায় ফিরেই অনেকেই এসির রিমোট হাতে নিয়ে তাপমাত্রা একেবারে সর্বনিম্নে নামিয়ে দিতে চান। বিশেষ করে বাইরে যখন তাপমাত্রা ৪৫ থেকে ৫০ ডিগ্রির কাছাকাছি পৌঁছে যায়, তখন ঠান্ডা বাতাসের জন্য এসির ওপর নির্ভরতা আরও বেড়ে যায়। কিন্তু আপনি কি কখনো খেয়াল করেছেন, প্রায় সব এয়ার কন্ডিশনারেই সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নামানো যায়? এর নিচে আর কোনো অপশন থাকে না।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর পেছনে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক ও প্রযুক্তিগত কারণ। এটি শুধু একটি নির্ধারিত সীমা নয়, বরং এসির নিরাপত্তা ও কার্যক্ষমতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।

আরও পড়ুন-বিদ্যুৎ ছাড়াই ঘর ঠান্ডা রাখবে নতুন প্রযুক্তি দাবি বিজ্ঞানীদের

একটি এসির ভেতরে মূলত থাকে ইভ্যাপোরেটর নামের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই অংশের মাধ্যমেই রেফ্রিজারেন্ট বা কুল্যান্ট ঠান্ডা হয়ে ঘরের গরম বাতাস শীতল করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি এসিকে ১৬ ডিগ্রির নিচে নামানোর সুযোগ দেওয়া হতো, তাহলে ইভ্যাপোরেটরের ভেতরে অতিরিক্ত ঠান্ডার কারণে বরফ জমতে শুরু করত। এতে বাতাস স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারত না এবং পুরো কুলিং সিস্টেম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতো।

প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ইভ্যাপোরেটরে বরফ জমে গেলে এসির কার্যক্ষমতা কমে যায়। অনেক ক্ষেত্রে কম্প্রেসরের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে এবং দীর্ঘমেয়াদে মেশিন বিকল হয়ে যেতে পারে।

এই কারণেই বিশ্বের প্রায় সব এসি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসকে নিরাপদ সর্বনিম্ন সীমা হিসেবে নির্ধারণ করেছে। এটি মূলত একটি সেফটি ফিচার, যাতে ব্যবহারকারীর ভুল সেটিংয়ের কারণে যন্ত্রের ক্ষতি না হয়।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, বাস্তবে ১৬ ডিগ্রি এবং তার নিচের তাপমাত্রার মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য অনুভূত হয় না। কারণ একটি নির্দিষ্ট সীমার পর মানবদেহ অতিরিক্ত ঠান্ডা পরিবেশে দ্রুত অস্বস্তি অনুভব করতে শুরু করে।

এছাড়া খুব কম তাপমাত্রায় এসি চালালে বিদ্যুৎ খরচও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। ফলে অনেকেই মনে করেন ১৬ ডিগ্রিতে রাখলে ঘর দ্রুত ঠান্ডা হবে, কিন্তু বাস্তবে এতে এসির ওপর বাড়তি চাপ পড়ে এবং বিদ্যুৎ বিলও বাড়ে।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, আরামদায়ক এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী ব্যবহারের জন্য এসির আদর্শ তাপমাত্রা সাধারণত ২৪ থেকে ২৬ ডিগ্রির মধ্যে রাখা উচিত। এতে বিদ্যুৎ খরচ কম হয় এবং শরীরের ওপরও অতিরিক্ত চাপ পড়ে না।

একইভাবে এসির সর্বোচ্চ তাপমাত্রাও নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখা হয়। সাধারণত বেশিরভাগ এসিতে সর্বোচ্চ ৩০ ডিগ্রি পর্যন্ত সেট করা যায়।

কারণ ৩০ ডিগ্রির ওপরে তাপমাত্রা হলে মানুষ সাধারণত গরম অনুভব করতে শুরু করে। আর এসির মূল কাজ যেহেতু বাতাস ঠান্ডা করা, তাই এর কার্যকর সীমাও সেই অনুযায়ী নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেকেই ভুলভাবে মনে করেন কম তাপমাত্রায় এসি চালালে ঘর দ্রুত ঠান্ডা হবে। বাস্তবে এসি নির্দিষ্ট গতিতেই ঘর ঠান্ডা করে। বরং অতিরিক্ত কম তাপমাত্রা সেট করলে কম্প্রেসর দীর্ঘসময় চালু থাকে এবং বিদ্যুৎ অপচয় বাড়ে।

বর্তমানে আধুনিক ইনভার্টার এসিগুলোতে আরও উন্নত তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে কম বিদ্যুৎ খরচে দীর্ঘসময় আরামদায়ক ঠান্ডা পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে।

সব মিলিয়ে এসির ১৬ ডিগ্রি সীমা শুধু একটি সাধারণ সেটিং নয়, বরং এটি যন্ত্রের নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ সাশ্রয় এবং ব্যবহারকারীর আরাম নিশ্চিত করার জন্যই নির্ধারণ করা হয়েছে।

সূত্র: Daikin Global, Carrier Air Conditioning

আরও পড়ুন-এসি ও ফ্যান একসঙ্গে চালালে কি বাড়ে বিদ্যুৎ বিল, নাকি কমে খরচ

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

বাংলা টেক নিউজ টিম

বাংলা টেক নিউজ টিম একটি অভিজ্ঞ, দায়িত্বশীল ও পেশাদার কনটেন্ট রাইটারদের সমন্বয়ে গঠিত একটি লেখক দল, যারা বাংলা ভাষায় নির্ভুল, তথ্যভিত্তিক ও পাঠক-বান্ধব কনটেন্ট তৈরিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের প্রতিটি লেখক প্রযুক্তি, ব্রেকিং নিউজ, অনলাইন আয়, স্বাস্থ্য, লাইফস্টাইল, ডিজিটাল ট্রেন্ড ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে গভীর গবেষণার মাধ্যমে কনটেন্ট তৈরি করে থাকেন।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now