আমাদের Telegram চ্যানেলে যুক্ত হোন

এসি ও ফ্যান একসঙ্গে চালালে কি বাড়ে বিদ্যুৎ বিল, নাকি কমে খরচ

এসি ও ফ্যান একসঙ্গে চালালে কি বাড়ে বিদ্যুৎ বিল

গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশের অনেক পরিবারেই বেড়েছে এসি ব্যবহারের প্রবণতা। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে তীব্র তাপদাহে স্বস্তি পেতে এখন এসি যেন নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় যন্ত্রে পরিণত হয়েছে। তবে আরামের পাশাপাশি মাস শেষে বিদ্যুৎ বিল নিয়ে দুশ্চিন্তাও বাড়ছে অনেকের। আর সেই কারণেই অনেকেই ভাবেন, এসির সঙ্গে ফ্যান চালানো কি আদৌ ঠিক, নাকি এতে বিদ্যুৎ খরচ আরও বেড়ে যায়?

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধারণার বেশিরভাগই ভুল। বরং সঠিকভাবে ব্যবহার করলে এসি ও ফ্যান একসঙ্গে চালানো বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের কার্যকর উপায় হতে পারে। এমনকি এতে মাসিক বিদ্যুৎ বিল ১৫ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত কমানোর সুযোগও রয়েছে।

আরও পড়ুন-এসির রিমোটেই বিদ্যুৎ বিল কমানোর গোপন কৌশল

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসি যখন ঘর ঠান্ডা করে তখন ঠান্ডা বাতাস স্বাভাবিকভাবেই নিচের দিকে জমে থাকে। ফলে ঘরের সব অংশ সমানভাবে ঠান্ডা হতে সময় লাগে। কিন্তু একই সময়ে যদি সিলিং ফ্যান চালু থাকে, তাহলে সেই ঠান্ডা বাতাস দ্রুত পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ঘর কম সময়েই আরামদায়ক হয়ে ওঠে।

ফলে এসির কম্প্রেসরকে দীর্ঘ সময় অতিরিক্ত চাপ নিয়ে কাজ করতে হয় না। এতে শুধু বিদ্যুৎ সাশ্রয়ই হয় না, এসির কর্মক্ষমতাও ভালো থাকে দীর্ঘদিন।

অনেকেই এসির তাপমাত্রা খুব কমিয়ে ১৮ বা ২০ ডিগ্রিতে সেট করেন, যাতে ঘর দ্রুত ঠান্ডা হয়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি বিদ্যুৎ খরচ বাড়ানোর অন্যতম কারণ। ফ্যান একসঙ্গে চালালে এসির তাপমাত্রা ২৪ থেকে ২৬ ডিগ্রির মধ্যেই রাখা যায় এবং তাতেও পর্যাপ্ত শীতলতা পাওয়া সম্ভব।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি গবেষণা সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, এসির তাপমাত্রা প্রতি এক ডিগ্রি বাড়ালে প্রায় ৬ শতাংশ পর্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয় হতে পারে। অর্থাৎ খুব কম তাপমাত্রায় এসি চালানোর বদলে মাঝারি তাপমাত্রা ও ফ্যান ব্যবহার করলে বিদ্যুৎ খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

শুধু বিদ্যুৎ সাশ্রয় নয়, এই পদ্ধতিতে ঘরের পরিবেশও আরও আরামদায়ক থাকে। অনেক সময় দীর্ঘক্ষণ এসি চালালে ঘর অতিরিক্ত ঠান্ডা বা শুষ্ক হয়ে যায়, যা শরীরের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে। কিন্তু ফ্যান চললে বাতাসের স্বাভাবিক চলাচল বজায় থাকে এবং ঘরে একটি ভারসাম্যপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হয়।

এছাড়া এসির ওপর চাপ কম পড়ায় যন্ত্রটির রক্ষণাবেক্ষণ খরচও কমে আসে। দীর্ঘসময় অতিরিক্ত লোডে চলতে না হওয়ায় কম্প্রেসর ও অন্যান্য যন্ত্রাংশ তুলনামূলক ভালো থাকে। ফলে এসির আয়ুও বাড়তে পারে।

তবে বিশেষজ্ঞরা একটি বিষয় বিশেষভাবে মনে করিয়ে দিচ্ছেন। এসির সঙ্গে ফ্যান চালালেও সেটি খুব বেশি গতিতে চালানোর প্রয়োজন নেই। মাঝারি বা কম গতিতে ফ্যান চালালেই কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায়। এতে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পাশাপাশি আরামও বজায় থাকে।

এছাড়া ঘরের দরজা-জানালা ঠিকভাবে বন্ধ রাখা, নিয়মিত এসির ফিল্টার পরিষ্কার করা এবং সরাসরি রোদ ঘরে প্রবেশ কমানোও বিদ্যুৎ বিল কমানোর গুরুত্বপূর্ণ উপায় হিসেবে বিবেচিত হয়।

তাই গরমে স্বস্তি পেতে এসির সঙ্গে ফ্যান ব্যবহার করাকে এখন অনেক বিশেষজ্ঞই কার্যকর ও সাশ্রয়ী সমাধান হিসেবে দেখছেন। সঠিক তাপমাত্রা নির্বাচন এবং সচেতন ব্যবহারের মাধ্যমে একদিকে যেমন আরাম নিশ্চিত করা সম্ভব, অন্যদিকে মাস শেষে বিদ্যুৎ বিলও রাখা যাবে নিয়ন্ত্রণের মধ্যে।

সুত্রঃ Dhaka Mall

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

বাংলা টেক নিউজ টিম

বাংলা টেক নিউজ টিম একটি অভিজ্ঞ, দায়িত্বশীল ও পেশাদার কনটেন্ট রাইটারদের সমন্বয়ে গঠিত একটি লেখক দল, যারা বাংলা ভাষায় নির্ভুল, তথ্যভিত্তিক ও পাঠক-বান্ধব কনটেন্ট তৈরিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের প্রতিটি লেখক প্রযুক্তি, ব্রেকিং নিউজ, অনলাইন আয়, স্বাস্থ্য, লাইফস্টাইল, ডিজিটাল ট্রেন্ড ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে গভীর গবেষণার মাধ্যমে কনটেন্ট তৈরি করে থাকেন।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now