আমাদের Telegram চ্যানেলে যুক্ত হোন

তথ্য নয় আস্থার সংকট: কেন মানুষের সঙ্গে বিজ্ঞানের দূরত্ব কমানো জরুরি

June 5, 2026 7:49 PM
তথ্য নয় আস্থার সংকট

করোনাভাইরাস মহামারির সময় একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে উঠেছিল—সমস্যা শুধু তথ্যের ঘাটতি নয়, বরং মানুষের আস্থার সংকট। স্বাস্থ্যবিষয়ক নির্দেশনা পরিবর্তন, সংক্রমণ ও মৃত্যুর তথ্য নিয়ে বিতর্ক কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর প্রচারণা অনেক মানুষকে বৈজ্ঞানিক পরামর্শ থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছিল। এর ফল ছিল ভয়াবহ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিজ্ঞান কেবল গবেষণাগারে সীমাবদ্ধ থাকলে তার মূল্য সীমিত। কোনো বৈজ্ঞানিক তথ্য বা সতর্কবার্তা যদি মানুষের কাছে বিশ্বাসযোগ্য না হয়, তাহলে সেই জ্ঞান বাস্তব জীবনে কাঙ্ক্ষিত ফল দিতে পারে না। ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস, বন্যা সতর্কতা বা জনস্বাস্থ্য নির্দেশনা—সব ক্ষেত্রেই মানুষের আস্থা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

আরও পড়ুন-এআই প্রযুক্তিতে বদলে গেছে ইউটিউব মুখ না দেখিয়েও মিলছে আয়ের সুযোগ

বাংলাদেশের মতো দেশে প্রতিদিনের জীবনযাত্রার সঙ্গে অসংখ্য বৈজ্ঞানিক সিদ্ধান্ত জড়িয়ে আছে। কৃষি উৎপাদন, আবহাওয়া পূর্বাভাস, পানির নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা কিংবা পরিবেশ—প্রতিটি ক্ষেত্রেই বিজ্ঞান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থা কমে যাওয়ায় বৈজ্ঞানিক তথ্যও অনেক সময় সন্দেহের মুখে পড়ে।

বিশ্লেষকদের মতে, দুর্নীতি, তথ্য গোপন, রাজনৈতিক প্রভাব এবং জবাবদিহির অভাব মানুষের মধ্যে অবিশ্বাসের সংস্কৃতি তৈরি করেছে। ফলে অনেক ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীর বক্তব্যও সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা হারায়, যদিও তথ্যটি সঠিক হতে পারে।

মানুষ কাদের কথা বেশি বিশ্বাস করে?

বাংলাদেশের গ্রামীণ ও প্রান্তিক এলাকাগুলোতে অনেক মানুষ এখনো চিকিৎসক বা বিজ্ঞানীর চেয়ে স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি, ধর্মীয় নেতা কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জনপ্রিয় মুখদের ওপর বেশি আস্থা রাখেন।

এটি শুধু শিক্ষার অভাবের কারণে নয়। বরং দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা থেকে মানুষ এমন উৎসকে বিশ্বাস করে, যাদের সঙ্গে তাদের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। ফলে বৈজ্ঞানিক তথ্য মানুষের কাছে পৌঁছাতে গেলে শুধু তথ্য দিলেই হয় না, বিশ্বাসযোগ্য যোগাযোগও গড়ে তুলতে হয়।

বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম দেশের অন্যতম প্রধান তথ্য উৎসে পরিণত হয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে এটি ভুল তথ্য, ষড়যন্ত্রতত্ত্ব এবং ভুয়া চিকিৎসা–সংক্রান্ত কনটেন্ট ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রও হয়ে উঠেছে। ফলে নির্ভরযোগ্য বিজ্ঞানভিত্তিক তথ্য আরও বেশি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে।

গবেষণায় স্বচ্ছতা না থাকলে আস্থা বাড়বে না

বিজ্ঞানকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে হলে প্রথমে গবেষণা ও একাডেমিক পরিবেশে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

গবেষণায় চৌর্যবৃত্তি, নিম্নমানের প্রকাশনা কিংবা স্বার্থসংশ্লিষ্ট গবেষণা বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করে। এসব ঘটনা প্রকাশ্যে এলে সাধারণ মানুষের মধ্যেও সন্দেহ তৈরি হয়।

তাই বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে স্বাধীন গবেষণানৈতিকতা কাঠামো গড়ে তোলা, তথ্য উন্মুক্ত করা এবং গবেষণা যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি করা জরুরি বলে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিজ্ঞানের ভাষা হতে হবে মানুষের ভাষা

বাংলাদেশে বিজ্ঞান যোগাযোগের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ ভাষা। অধিকাংশ গবেষণা ইংরেজিতে প্রকাশিত হলেও সাধারণ মানুষের কাছে সেই তথ্য সহজ ভাষায় পৌঁছায় না।

ফলে গবেষণাগারে তৈরি হওয়া জ্ঞান অনেক সময় জনগণের কাজে আসে না। বিজ্ঞানীদের আরও বেশি জনসম্পৃক্ত হতে হবে এবং জটিল বিষয়গুলো সহজ বাংলায় ব্যাখ্যা করার দক্ষতা অর্জন করতে হবে।

করোনা মহামারির সময় কিছু প্রতিষ্ঠান নিয়মিত সংবাদ সম্মেলন, তথ্য প্রকাশ এবং জনসচেতনতা কার্যক্রমের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জনে সফল হয়েছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের উদ্যোগ বাড়ানো প্রয়োজন।

মানুষের অংশগ্রহণেই বাড়তে পারে আস্থা

বন্যা পূর্বাভাস, কৃষি তথ্য বা পরিবেশ পর্যবেক্ষণের মতো ক্ষেত্রে দেখা গেছে, বিজ্ঞান যখন সরাসরি মানুষের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে, তখন মানুষ সেটিকে সহজেই গ্রহণ করে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নাগরিকদের গবেষণা ও তথ্য সংগ্রহ প্রক্রিয়ার অংশীদার করা গেলে বিজ্ঞানের প্রতি মালিকানাবোধ তৈরি হবে। আর সেই মালিকানাবোধ থেকেই জন্ম নেবে দীর্ঘমেয়াদি আস্থা।

বিজ্ঞানের সবচেয়ে বড় শক্তি তথ্য নয়, বিশ্বাসযোগ্যতা। গবেষণার মানোন্নয়ন, স্বচ্ছতা, সহজ ভাষায় তথ্য প্রচার এবং মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে বিজ্ঞান ও সমাজের মধ্যে দূরত্ব কমবে। আর সেই সেতুবন্ধনই ভবিষ্যতের বাংলাদেশকে আরও জ্ঞানভিত্তিক ও প্রস্তুত সমাজে পরিণত করতে পারে।

সূত্র:প্রথম আলোতে প্রকাশিত

আরও পড়ুন-জেমিনি ও চ্যাটজিপিটিতে ব্যক্তিগত তথ্য দিচ্ছেন? জানুন ঝুঁকি

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

Inky khan

প্রযুক্তি ,স্মার্টফোন, ইন্টারনেট, মোবাইল টিপস সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের তথ্য আপনাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করি প্রযুক্তি সকল তথ্য সহজ ভাষায় আপনাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আমার মূল লক্ষ্য।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now