কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট এখন দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছে। পড়াশোনা, অফিসের কাজ, আর্থিক পরিকল্পনা কিংবা সাধারণ তথ্য জানার জন্য কোটি কোটি মানুষ নিয়মিত ব্যবহার করছেন OpenAI-এর ChatGPT এবং Google-এর Gemini।
তবে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, প্রয়োজনের চেয়ে বেশি তথ্য শেয়ার করলে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। কারণ অনেক এআই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারকারীদের কথোপকথন ও ডেটা সংরক্ষণ করে, যা ভবিষ্যতে ঝুঁকির কারণ হতে পারে।
আরও পড়ুন-গুগল সার্চে এআই বিপ্লব বদলে যাচ্ছে তথ্য খোঁজার অভিজ্ঞতা
ব্যক্তিগত ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কিছু তথ্য কখনোই এআই চ্যাটবটের সঙ্গে শেয়ার করা উচিত নয়। তা নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
১. ব্যক্তিগত পরিচয় সম্পর্কিত তথ্য:চ্যাটবট ব্যবহার করার সময় নিজের পূর্ণ নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, পাসপোর্ট নম্বর, ড্রাইভিং লাইসেন্স কিংবা বাসার ঠিকানা দেওয়া উচিত নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের তথ্য পরিচয় চুরি বা ডিজিটাল জালিয়াতির ঝুঁকি বাড়াতে পারে। এমনকি কোনো ডেটা ফাঁসের ঘটনায় এই তথ্য হ্যাকারদের হাতে পৌঁছালে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা থাকে।
২. অফিস বা কর্মস্থলের গোপন তথ্য:আপনি কোথায় কাজ করেন, প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ তথ্য কী বা আপনার দায়িত্ব কী—এসব তথ্যও এআইকে না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
কারণ সাইবার অপরাধীরা অনেক সময় কর্মস্থলের তথ্য ব্যবহার করে ভুয়া ইমেইল, ফিশিং লিংক বা প্রতারণামূলক যোগাযোগ তৈরি করে থাকে।
৩. ব্যাংক ও ঋণের নির্দিষ্ট তথ্য:কোনো ব্যাংকের নাম, ঋণের পরিমাণ বা আর্থিক হিসাব এআই চ্যাটবটে শেয়ার করা নিরাপদ নয়।
অনেকেই আর্থিক পরামর্শ নিতে গিয়ে বিস্তারিত ব্যাংক তথ্য দিয়ে দেন। কিন্তু কোনোভাবে এই তথ্য ফাঁস হলে প্রতারকরা ব্যাংকের প্রতিনিধি সেজে প্রতারণার চেষ্টা করতে পারে।
৪. ব্যাংক স্টেটমেন্ট বা ট্যাক্স ফাইল:অনেকে বাজেট বা বিনিয়োগ বিশ্লেষণের জন্য ব্যাংক স্টেটমেন্ট, ট্যাক্স রিটার্ন বা আর্থিক নথি আপলোড করেন।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, ফাইলের কিছু অংশ ব্লার বা কালো করে দিলেও ভেতরে থাকা অন্যান্য তথ্য থেকে পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে।তাই এ ধরনের সংবেদনশীল নথি কখনোই এআই প্ল্যাটফর্মে আপলোড না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
৫. পাসওয়ার্ড ও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট তথ্য:কোনো এআই চ্যাটবটের আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বর, এটিএম পিন, ওটিপি কিংবা পাসওয়ার্ড জানার প্রয়োজন নেই।
তবুও অনেক ব্যবহারকারী ভুলবশত এসব তথ্য শেয়ার করেন, যা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির কারণ হতে পারে।সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এআই চ্যাটবট ব্যবহার করার আগে সবসময় প্ল্যাটফর্মটির প্রাইভেসি সেটিংস দেখে নেওয়া উচিত।
অনেক প্ল্যাটফর্মে “Chat History & Training” বা অনুরূপ অপশন থাকে, যেখানে ব্যবহারকারীরা নিজেদের চ্যাট ডেটা এআই প্রশিক্ষণে ব্যবহারের অনুমতি বন্ধ করতে পারেন।এআইকে সবসময় “সাধারণ সহকারী” হিসেবে ব্যবহার করা উচিত, ব্যক্তিগত ডায়েরি হিসেবে নয়।
বর্তমানে এআই প্রযুক্তি দ্রুত উন্নত হলেও অনলাইন নিরাপত্তা ঝুঁকিও একইসঙ্গে বাড়ছে। ফলে ব্যবহারকারীদের আরও সচেতন হওয়া জরুরি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।তাদের মতে, প্রযুক্তির সুবিধা নিতে গিয়ে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা যেন ঝুঁকিতে না পড়ে, সেদিকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
সব মিলিয়ে চ্যাটজিপিটি বা জেমিনির মতো এআই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করার সময় কম তথ্য শেয়ার করাই সবচেয়ে নিরাপদ উপায় বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র: OpenAI Privacy Policy, Google Gem
আরও পড়ুন-ফেস লকে বড় ঝুঁকি সামান্য ভুলেই হ্যাক হতে পারে স্মার্টফোন
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔










