বর্তমানে প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই খাবার সংরক্ষণের জন্য ফ্রিজ ব্যবহার করা হয়। তবে অনেকেই এখনও ফ্রিজ এবং ফ্রিজারের মধ্যে আসল পার্থক্যটি পরিষ্কারভাবে জানেন না। অনেক সময় সাধারণ ফ্রিজকেই অনেকে ফ্রিজার বলে থাকেন, আবার কেউ কেউ মনে করেন দুটিই একই জিনিস। বাস্তবে এই দুটি অংশের কাজ, তাপমাত্রা এবং ব্যবহার সম্পূর্ণ আলাদা।
প্রযুক্তিবিদদের মতে, ফ্রিজ মূলত খাবারকে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সতেজ ও ঠান্ডা রাখার জন্য ব্যবহার করা হয়। অন্যদিকে ফ্রিজার এমন একটি অংশ, যেখানে খাবারকে জমিয়ে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা সম্ভব।সাধারণ ফ্রিজের তাপমাত্রা সাধারণত ১ থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকে। এই অংশে রান্না করা খাবার, ফল, সবজি, দুধ, পানি কিংবা দৈনন্দিন ব্যবহারের খাবার রাখা হয়।
আরও পড়ুন-লোডশেডিংয়ে ফ্রিজের খাবার বাঁচাতে জানুন জরুরি ৫ কৌশল
ফ্রিজ খাবারকে ঠান্ডা রাখলেও সেটিকে পুরোপুরি বরফে পরিণত করে না। ফলে খাবারের স্বাভাবিক গঠন ও স্বাদ অনেকটাই ঠিক থাকে।অন্যদিকে ফ্রিজারের তাপমাত্রা সাধারণত মাইনাস ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তারও কম থাকে। এত কম তাপমাত্রার কারণে মাছ, মাংস, আইসক্রিম কিংবা হিমায়িত খাবার দীর্ঘদিন ভালো রাখা যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘ সময় খাবার সংরক্ষণের জন্য ফ্রিজারের বিকল্প নেই। কারণ এতে ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি অনেকাংশে বন্ধ হয়ে যায়।বর্তমানে বাজারে দুই ধরনের ফ্রিজ বেশি দেখা যায়—সাধারণ রেফ্রিজারেটর এবং ডিপ ফ্রিজার।
সাধারণ রেফ্রিজারেটরের ভেতরে ছোট একটি ফ্রিজার অংশ থাকে, যেখানে সীমিত পরিমাণ খাবার জমিয়ে রাখা যায়। আর ডিপ ফ্রিজার পুরোপুরি হিমায়িত সংরক্ষণের জন্য তৈরি।বিশেষ করে কোরবানির ঈদ বা দীর্ঘ সময়ের জন্য মাছ-মাংস সংরক্ষণে ডিপ ফ্রিজার বেশি কার্যকর।তবে অনেকেই ভুল করে ফ্রিজের সাধারণ অংশে দীর্ঘদিন মাছ-মাংস রেখে দেন, যার ফলে খাবার নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।আবার কেউ কেউ ফ্রিজারে ফল বা সবজি রেখে দেন, এতে খাবারের স্বাভাবিক গঠন নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিটি খাবারের জন্য আলাদা সংরক্ষণ তাপমাত্রা রয়েছে। তাই কোন খাবার ফ্রিজে আর কোনটি ফ্রিজারে রাখতে হবে, তা জানা জরুরি।এছাড়া বিদ্যুৎ সাশ্রয় ও ফ্রিজের কার্যক্ষমতা ঠিক রাখতে দরজা অযথা বেশি সময় খোলা রাখা উচিত নয়।
ফ্রিজ ও ফ্রিজারের ভেতর অতিরিক্ত বরফ জমলেও নিয়মিত পরিষ্কার করা প্রয়োজন। কারণ অতিরিক্ত বরফ জমে গেলে কুলিং সিস্টেমের ওপর চাপ পড়ে এবং বিদ্যুৎ খরচ বেড়ে যায়।বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, খাবার দীর্ঘদিন ভালো রাখতে চাইলে ফ্রিজ বা ফ্রিজারের তাপমাত্রা নিয়মিত পরীক্ষা করা উচিত।
সব মিলিয়ে, ফ্রিজ ও ফ্রিজার দেখতে একই যন্ত্রের অংশ হলেও তাদের কাজ সম্পূর্ণ ভিন্ন। সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে খাবার যেমন দীর্ঘদিন নিরাপদ থাকে, তেমনি বিদ্যুৎ খরচ ও যন্ত্রের ক্ষতির ঝুঁকিও কমে যায়।
সূত্র: Samsung Refrigerator Guide
আরও পড়ুন-ফ্রিজে ১, ২, ৩, ৪, ৫ নম্বরের আসল মানে কী? জেনে নিন সঠিক ব্যবহার
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔








