আমাদের Telegram চ্যানেলে যুক্ত হোন

ফাইভজির যুগে আবারও ফোরজি সম্প্রসারণ, প্রশ্ন তুলছে পরিকল্পনা কমিশন

ফাইভজির যুগে আবারও ফোরজি সম্প্রসারণ

দেশ যখন ধীরে ধীরে ফাইভজি প্রযুক্তির দিকে এগোচ্ছে, ঠিক সেই সময় নতুন করে ফোরজি নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনায় এসেছে রাষ্ট্রায়ত্ত মোবাইল অপারেটর টেলিটক। দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মহাসড়ক, স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র এবং দুর্গম পর্যটন এলাকায় ফোরজি নেটওয়ার্ক বিস্তারে প্রায় ১৪০০ কোটি টাকার তিনটি প্রকল্প প্রস্তাব করেছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে এই উদ্যোগের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পরিকল্পনা কমিশন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে এখনো অনেক এলাকায় স্থিতিশীল মোবাইল ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত হয়নি। ফলে সাধারণ ব্যবহারকারীরা প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

আরও পড়ুন-দেশে ব্যান্ডউইথ সংকটের শঙ্কা নেই জানাল সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি

রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থী জেডআই ফেরদৌস ইবতিদার অভিজ্ঞতাও সেই বাস্তবতারই প্রতিচ্ছবি। তিনি জানান, দুর্বল মোবাইল নেটওয়ার্কের কারণে জরুরি ফাইল পাঠানো, ভিডিও দেখা কিংবা অনলাইন ক্লাসে অংশ নেওয়ার সময় প্রায়ই সমস্যায় পড়তে হয়। বিশেষ করে শহরের বাইরে গেলে ইন্টারনেটের গতি আরও কমে যায়।

ইবতিদার ভাষায়, বর্তমানে পড়াশোনা, চাকরির আবেদন থেকে শুরু করে প্রায় সব কাজেই ইন্টারনেট অপরিহার্য। কিন্তু এখনো দেশের অনেক জায়গায় নির্ভরযোগ্য নেটওয়ার্ক সেবা পাওয়া যায় না।

এই বাস্তবতা সামনে রেখেই টেলিটক নতুন তিনটি উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তাব দিয়েছে। প্রকল্পগুলোর লক্ষ্য হলো নির্দিষ্ট অঞ্চলে ভয়েস ও ডাটা সেবার মান উন্নয়ন এবং নেটওয়ার্ক কাভারেজ বাড়ানো।

তবে পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, যখন সারাদেশে ফাইভজি বাস্তবায়নের জন্য প্রায় ২ হাজার ২৩৮ কোটি টাকার বড় প্রকল্প ইতোমধ্যে চলমান রয়েছে, তখন আলাদা করে ফোরজি সম্প্রসারণ কতটা প্রয়োজনীয়, সেটি গভীরভাবে মূল্যায়ন করা উচিত।

পরিকল্পনা কমিশনের একটি সূত্র জানিয়েছে, ২০২১ সাল থেকেই ফাইভজি অবকাঠামো উন্নয়নে জাতীয় পর্যায়ের প্রকল্প বাস্তবায়ন হচ্ছে। এর উদ্দেশ্য হলো দেশের টেলিযোগাযোগ খাতকে আধুনিক করা এবং উচ্চগতির ইন্টারনেট সেবা নিশ্চিত করা।

এই পরিস্থিতিতে নতুন করে খণ্ড খণ্ড ফোরজি প্রকল্প গ্রহণকে অনেক কর্মকর্তা সমন্বয়হীন উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পরিকল্পনা কমিশনের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, একই ধরনের কাজের জন্য একাধিক ছোট প্রকল্প গ্রহণ করলে সামগ্রিক উন্নয়ন পরিকল্পনায় অসামঞ্জস্য তৈরি হতে পারে। সরকারের নীতিমালাতেও সমন্বিত প্রকল্প গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের অভিযোগ, কিছু প্রকল্প ইচ্ছাকৃতভাবে ছোট আকারে ভাগ করা হয়েছে, যাতে অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ হয়। কারণ ৫০ কোটি টাকার নিচের প্রকল্পের ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা বাধ্যতামূলক নয়। টেলিটকের প্রতিটি প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪৫ থেকে ৪৭ কোটি টাকার মধ্যে।

এছাড়া প্রকল্পগুলোর আর্থিক বিশ্লেষণ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সম্ভাব্য আয়, বিনিয়োগ ফেরতের সময়সীমা এবং বাস্তব চাহিদার স্পষ্ট তথ্য না থাকায় অনেকেই এর অর্থনৈতিক যৌক্তিকতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করছেন।

কিছু যন্ত্রপাতির মূল্যও আন্তর্জাতিক বাজারদরের তুলনায় বেশি দেখানো হয়েছে বলে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেছে সংশ্লিষ্টরা।

তবে প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, ফাইভজি চালুর প্রস্তুতি থাকলেও দেশের অনেক এলাকায় এখনো স্থিতিশীল ফোরজি সেবা পৌঁছায়নি। ফলে বাস্তব ব্যবহারকারীদের জন্য আপাতত ফোরজি নেটওয়ার্ক উন্নয়নও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

সুত্রঃ পরিকল্পনা কমিশন, টেলিটক সংশ্লিষ্ট সূত্র

আরও পড়ুন-ওয়াইফাই রাউটারের পাশে এই জিনিসগুলো রাখলেই কমে যাবে ইন্টারনেটের গতি

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

বাংলা টেক নিউজ টিম

বাংলা টেক নিউজ টিম একটি অভিজ্ঞ, দায়িত্বশীল ও পেশাদার কনটেন্ট রাইটারদের সমন্বয়ে গঠিত একটি লেখক দল, যারা বাংলা ভাষায় নির্ভুল, তথ্যভিত্তিক ও পাঠক-বান্ধব কনটেন্ট তৈরিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের প্রতিটি লেখক প্রযুক্তি, ব্রেকিং নিউজ, অনলাইন আয়, স্বাস্থ্য, লাইফস্টাইল, ডিজিটাল ট্রেন্ড ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে গভীর গবেষণার মাধ্যমে কনটেন্ট তৈরি করে থাকেন।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now