বর্তমানে রেলস্টেশন, বিমানবন্দর, রেস্টুরেন্ট, শপিং মল কিংবা ক্যাফেতে ফ্রি ওয়াইফাই ব্যবহার করা অনেকের জন্য স্বাভাবিক অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। মোবাইল ডেটা বাঁচাতে কিংবা দ্রুত ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধায় অনেকেই চিন্তা না করেই এসব পাবলিক নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়ে যান। তবে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সামান্য অসতর্কতাই ডেকে আনতে পারে বড় ধরনের সাইবার বিপদ।
সাম্প্রতিক সময়ে সাইবার অপরাধীরা ফ্রি পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে নতুন ধরনের প্রতারণা ও তথ্য চুরির কৌশল ব্যবহার করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিরাপদ নেটওয়ার্ক ব্যবহার করলে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, মোবাইল ব্যাংকিং, পাসওয়ার্ড, ব্যক্তিগত ছবি এমনকি গুরুত্বপূর্ণ নথিও হ্যাকারদের হাতে চলে যেতে পারে।
আরও পড়ুন-বাংলাদেশের ৫ জনপ্রিয় ব্রডব্যান্ডে এলো নতুন স্পিড প্যাকেজ
সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, পাবলিক ওয়াইফাই নেটওয়ার্কে সংযুক্ত থাকা অবস্থায় একজন ব্যবহারকারীর অনলাইন কার্যক্রম সহজেই নজরদারিতে রাখা সম্ভব হয়। বিশেষ করে একই নেটওয়ার্কে থাকা হ্যাকাররা বিভিন্ন টুল ব্যবহার করে ব্যবহারকারীর ডেটা সংগ্রহ করতে পারে।
সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে অনলাইন ব্যাংকিং ও ডিজিটাল লেনদেন। অনেকে ফ্রি ওয়াইফাই ব্যবহার করেই মোবাইল ব্যাংকিং, অনলাইন শপিং বা ইউপিআই পেমেন্ট করে থাকেন। এতে ওটিপি, কার্ড নম্বর কিংবা লগইন তথ্য চুরি হওয়ার আশঙ্কা বেড়ে যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফ্রি ওয়াইফাই ব্যবহার করার সময় কখনোই ইন্টারনেট ব্যাংকিং বা আর্থিক লেনদেন করা উচিত নয়। জরুরি প্রয়োজন হলে মোবাইল ডেটা ব্যবহার করাই সবচেয়ে নিরাপদ।
এছাড়া হ্যাকাররা অনেক সময় ভুয়া ওয়াইফাই নেটওয়ার্কও তৈরি করে। নাম দেখে সেটি আসল মনে হলেও বাস্তবে সেটি সাইবার অপরাধীদের ফাঁদ হতে পারে। ব্যবহারকারী সেখানে যুক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তার ডেটা নজরদারিতে চলে যায়।
নিরাপদ থাকতে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা ভিপিএন বা ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন। ভিপিএন ইন্টারনেট সংযোগকে এনক্রিপ্ট করে দেয়, ফলে হ্যাকারদের জন্য তথ্য চুরি করা অনেক কঠিন হয়ে পড়ে।
এছাড়া যেকোনো ওয়েবসাইটে প্রবেশের আগে সেটির ঠিকানায় “HTTPS” রয়েছে কি না সেটিও নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। যদি ব্রাউজারে “Not Secure” লেখা দেখা যায়, তাহলে সেখানে কোনো ব্যক্তিগত তথ্য বা পাসওয়ার্ড দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
স্মার্টফোনের কিছু সাধারণ সেটিংস পরিবর্তন করেও নিরাপত্তা বাড়ানো সম্ভব। অনেক ফোনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আশপাশের ওয়াইফাই নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়ার অপশন চালু থাকে। এতে ব্যবহারকারী অজান্তেই ভুয়া নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়ে যেতে পারেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ফোনের “Auto Connect” অপশন বন্ধ রাখা উচিত। পাশাপাশি “File Sharing” বা “Nearby Sharing” ফিচারও বন্ধ রাখা নিরাপদ। এতে অন্য কেউ সহজে আপনার ফোনে প্রবেশ করতে পারবে না।
সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শও দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। যেমন—
- শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা।
- টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন চালু রাখা।
- নিয়মিত অ্যাপ ও ফোন আপডেট করা।
- সন্দেহজনক লিংক বা পপ-আপ এড়িয়ে চলা।
- পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহারের পর নেটওয়ার্ক “Forget” করে দেওয়া।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, বর্তমানে সাইবার অপরাধীরা আগের চেয়ে অনেক বেশি কৌশলী হয়ে উঠেছে। তাই শুধু প্রযুক্তির ওপর নির্ভর না করে ব্যবহারকারীদেরও সচেতন হতে হবে।
বিশ্বজুড়ে ডিজিটাল লেনদেন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাইবার হামলার ঝুঁকিও বাড়ছে। ফলে ফ্রি ইন্টারনেট ব্যবহারের সামান্য সুবিধার জন্য ব্যক্তিগত তথ্য ঝুঁকিতে ফেলা মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ নয়।
সব মিলিয়ে, ফ্রি পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহার করার আগে সতর্ক থাকা এখন সময়ের অন্যতম বড় প্রয়োজন। একটু সচেতনতা আপনার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং ব্যক্তিগত তথ্যকে বড় ধরনের বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারে।
সূত্র: Kaspersky Cybersecurity Tips
আরও পড়ুন-ফ্রি ওয়াইফাই চালু হলো দেশের বিমানবন্দর ও রেলস্টেশনে
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔










