অনলাইনে নিরাপদ থাকতে শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহারের পরামর্শ বহুদিন ধরেই দিয়ে আসছেন সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। তবে বাস্তবে এখনো বিপুল সংখ্যক ব্যবহারকারী সহজ ও অনুমানযোগ্য পাসওয়ার্ড ব্যবহার করছেন, যা হ্যাকারদের কাজ আরও সহজ করে দিচ্ছে। গ্লোবাল সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান Kaspersky-এর সাম্প্রতিক এক গবেষণায় এমন তথ্যই উঠে এসেছে।
বিশ্ব পাসওয়ার্ড দিবস উপলক্ষে পরিচালিত এই গবেষণায় ২০২৩ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে ফাঁস হওয়া ২৩ কোটি ১০ লাখের বেশি ইউনিক পাসওয়ার্ড বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ফাঁস হওয়া পাসওয়ার্ডগুলোর অর্ধেকের বেশি সংখ্যায় শেষ হয়েছে। এছাড়া উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পাসওয়ার্ডের শুরুতেও সংখ্যা ব্যবহার করা হয়েছে, যা সাইবার অপরাধীদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করছে।
আরও পড়ুন-ডিভাইস হ্যাক হওয়ার ৩ লক্ষণ, যেভাবে বুঝবেন ফোন ঝুঁকিতে
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনেক ব্যবহারকারী এখনো পাসওয়ার্ডের শেষে জন্মসাল, মোবাইল নম্বরের অংশ কিংবা ধারাবাহিক সংখ্যা যোগ করেন। এতে ব্রুট-ফোর্স আক্রমণের মাধ্যমে খুব দ্রুত পাসওয়ার্ড অনুমান করা সম্ভব হয়। এই পদ্ধতিতে সম্ভাব্য অক্ষর, সংখ্যা ও চিহ্নের বিভিন্ন সমন্বয় পরীক্ষা করে অ্যাকাউন্টে প্রবেশের চেষ্টা চালানো হয়।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, প্রায় ১৭ শতাংশ পাসওয়ার্ড সংখ্যার মাধ্যমে শুরু হয়েছে। এছাড়া প্রায় ১২ শতাংশ পাসওয়ার্ডে জন্মতারিখ বা পরিচিত সংখ্যার ব্যবহার পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, ৩ শতাংশ পাসওয়ার্ডে ‘১২৩৪’-এর মতো সাধারণ কিবোর্ড প্যাটার্নও পাওয়া গেছে।
শুধু সংখ্যা নয়, ব্যবহারকারীদের শব্দ বাছাইয়েও মিল পাওয়া গেছে। “লাভ”, “ম্যাজিক”, “অ্যাঞ্জেল” কিংবা “এডেন”-এর মতো ইতিবাচক শব্দের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি দেখা গেছে। আবার কিছু ব্যবহারকারী “ডেভিল” বা “হেল”-এর মতো নেতিবাচক শব্দও ব্যবহার করেছেন।
গবেষণায় আলোচিত আরেকটি বিষয় হলো ইন্টারনেট সংস্কৃতির প্রভাব। সাম্প্রতিক সময়ে জনপ্রিয় হওয়া “স্কিবিডি” শব্দটির ব্যবহার কয়েক বছরের ব্যবধানে ৩৬ গুণ পর্যন্ত বেড়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রেন্ড অনুসরণ করে পাসওয়ার্ড তৈরি করার প্রবণতাও নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
ক্যাসপারস্কির ডেটা সায়েন্স টিম লিড Alexey Antonov বলেন, ব্যবহারকারীরা সাধারণত পরিচিত সংখ্যা, তারিখ বা সহজ চিহ্ন ব্যবহার করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। বিশেষ করে পাসওয়ার্ডের শুরু বা শেষে এই উপাদানগুলো বেশি যোগ করা হয়। কিন্তু এ ধরনের প্যাটার্ন হ্যাকারদের কাছে খুবই পরিচিত হওয়ায় পাসওয়ার্ড ভাঙা তুলনামূলক সহজ হয়ে পড়ে।
তিনি আরও জানান, শুধুমাত্র একটি শব্দের সঙ্গে সংখ্যা বা বিশেষ চিহ্ন যোগ করলেই সেটি শক্তিশালী পাসওয়ার্ড হয়ে যায় না। কারণ এ ধরনের ফরম্যাট এখন অত্যন্ত অনুমানযোগ্য। বরং একাধিক সম্পর্কহীন শব্দ, এলোমেলো সংখ্যা এবং ভিন্নধর্মী বিশেষ চিহ্ন ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব পাসওয়ার্ডে মাত্র একটি বিশেষ চিহ্ন ব্যবহার করা হয়েছে, সেখানে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়েছে ‘@’। এরপর রয়েছে ‘.’ এবং ‘!’ চিহ্ন। বিশেষজ্ঞদের মতে, সীমিত সংখ্যক চিহ্নের ওপর নির্ভর করাও নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ায়।
সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে শুধু শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করাই যথেষ্ট নয়। এর পাশাপাশি টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন বা টুএফএ চালু রাখা জরুরি। এতে পাসওয়ার্ড ফাঁস হলেও অতিরিক্ত যাচাইকরণ ছাড়া অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি নিরাপদ পাসওয়ার্ড হতে হবে দীর্ঘ, এলোমেলো এবং অপ্রত্যাশিত। পরিচিত নাম, ধারাবাহিক সংখ্যা, জন্মতারিখ বা সহজ শব্দ এড়িয়ে চলাই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়। একই সঙ্গে বিভিন্ন অ্যাকাউন্টে আলাদা পাসওয়ার্ড ব্যবহার করার পরামর্শও দিয়েছেন তারা।
সুত্রঃ ইন্টারনেট
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔







