দেশের মানুষের কাছে আবহাওয়ার তথ্য ও আগাম সতর্কবার্তা আরও দ্রুত এবং সহজভাবে পৌঁছে দিতে নতুন মোবাইল অ্যাপ চালু করেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর (বিএমডি)। জাতীয় ক্লাইমেট অ্যাপ্লিকেশন ফোরাম ২০২৬-এ অ্যাপটির বেটা সংস্করণ উন্মোচন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন-ফোনে ই-সিম নাকি ফিজিক্যাল সিম ভালো? নিরাপত্তা ও সুবিধার দিক থেকে কোনটি এগিয়ে জেনে নিন
বৃহস্পতিবার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে আবহাওয়া পূর্বাভাস সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি সংস্থা, প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, উন্নয়ন সহযোগী এবং বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আসন্ন বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে আবহাওয়া পূর্বাভাস ও আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার লক্ষ্যেই এই আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম, আন্তর্জাতিক সংস্থা রাইমস (RIMES), বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (BLRI) এবং বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশনের প্রতিনিধিরা যৌথভাবে নতুন অ্যাপটির উদ্বোধন করেন।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, নতুন এই অ্যাপের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ সহজেই আবহাওয়ার পূর্বাভাস, দুর্যোগ সতর্কবার্তা এবং জলবায়ুসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানতে পারবেন। একই সঙ্গে আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্যসেবা আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশে চরম আবহাওয়ার ঘটনা বাড়ছে। ফলে নির্ভরযোগ্য পূর্বাভাস এবং দ্রুত সতর্কবার্তা মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নতুন অ্যাপটি সেই লক্ষ্য পূরণে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, জলবায়ু ও আবহাওয়ার তথ্য শুধু সংগ্রহ করলেই হবে না, সেগুলোকে বাস্তব প্রস্তুতি ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের কাজে ব্যবহার করতে হবে। নতুন অ্যাপটি তথ্যকে মানুষের দৈনন্দিন প্রয়োজনের সঙ্গে আরও কার্যকরভাবে যুক্ত করবে।
অনুষ্ঠানে জলবায়ু সহনশীলতা বাড়াতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। ব্রিটিশ হাইকমিশনের ক্লাইমেট অ্যান্ড লাইভলিহুডস অ্যাডভাইজার এ বি এম ফিরোজ আহমেদ বলেন, জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় নির্ভরযোগ্য তথ্য ও অংশীদারিত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ফোরামে চলতি বছরের আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা করা হয়। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, আধুনিক পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ ব্যবস্থার কারণে বন্যা পরিস্থিতিতে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হয়েছে, যা ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সহায়তা করেছে।
এ সময় আবহাওয়াবিদরা আগামী জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সম্ভাব্য আবহাওয়ার চিত্রও তুলে ধরেন। তাদের মতে, এ সময় স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি তাপমাত্রা, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত এবং তাপপ্রবাহের ঝুঁকি থাকতে পারে। পাশাপাশি আবহাওয়াজনিত রোগব্যাধিও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
ফোরামে কৃষি খাতে আবহাওয়ার তথ্য ব্যবহারের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। বিশেষজ্ঞরা বলেন, সঠিক পূর্বাভাসের মাধ্যমে কৃষকরা ফসলের পরিকল্পনা ও দুর্যোগ মোকাবিলায় আরও কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
বাংলাদেশে আবহাওয়া ও জলবায়ু তথ্যসেবা আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে চালু হওয়া নতুন মোবাইল অ্যাপটি ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষ, কৃষক, জেলে, পর্যটক এবং দুর্যোগপ্রবণ এলাকার বাসিন্দাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সূত্র: সময় নিউজ
আরও পড়ুন-মোবাইলে টাকা শেষ? সিমের ইমার্জেন্সি ব্যালেন্স নেওয়ার কোড জানুন
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔







