বিশ্বজুড়ে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবায় প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হতে যাচ্ছে। প্রযুক্তি জায়ান্ট Amazon ঘোষণা দিয়েছে, তাদের নতুন স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা ‘লিও’ (Leo) ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময় নাগাদ চালু করা হবে।
প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী Andy Jassy জানিয়েছেন, প্রকল্পটি এখন চালুর দ্বারপ্রান্তে রয়েছে এবং ইতোমধ্যে বিভিন্ন করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থার কাছ থেকে সেবা ব্যবহারের আগ্রহ পাওয়া গেছে। এতে বোঝা যাচ্ছে, বাজারে আসার আগেই ‘লিও’ নিয়ে বড় প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন-মস্তিষ্কের তরঙ্গ থেকেই সরাসরি শব্দ অনুবাদে নতুন সাফল্য
এই উদ্যোগের শুরু ২০১৯ সালে ‘Project Kuiper’ নামে। পরে এটিকে নতুনভাবে ‘লিও’ নামে ব্র্যান্ড করা হয়। বর্তমানে নিম্ন কক্ষপথে প্রায় ২০০টি স্যাটেলাইট স্থাপন করেছে অ্যামাজন। আগামী কয়েক বছরে আরও হাজার হাজার স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা রয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী ইন্টারনেট কভারেজ বাড়াতে সহায়ক হবে।
অ্যামাজনের এই সেবা সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে SpaceX পরিচালিত Starlink-এর সঙ্গে। বর্তমানে স্টারলিংকের প্রায় ১০ হাজার স্যাটেলাইট মহাকাশে সক্রিয় রয়েছে এবং ভবিষ্যতে এই সংখ্যা আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সেই তুলনায় অ্যামাজন এখনও পিছিয়ে থাকলেও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও বিনিয়োগের কারণে প্রতিযোগিতা জমে উঠবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অ্যামাজন জানিয়েছে, ‘লিও’ সেবাটি তাদের ক্লাউড প্ল্যাটফর্ম Amazon Web Services (AWS)-এর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করবে। এর ফলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থাগুলো সহজেই ডেটা সংরক্ষণ, বিশ্লেষণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর সেবা নিতে পারবে।
এদিকে ইতোমধ্যে Delta Air Lines তাদের বিমানে ভবিষ্যৎ ইন-ফ্লাইট ওয়াইফাই হিসেবে ‘লিও’ ব্যবহারের পরিকল্পনা জানিয়েছে। ২০২৮ সাল থেকে ৫০০টি বিমানে এই সেবা চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি JetBlue, AT&T, Vodafone এবং NASA-সহ আরও কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠান এ প্রকল্পে যুক্ত হওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে।
তবে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। বিশেষ করে স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের ক্ষেত্রে শুরুতে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানের রকেটের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে অ্যামাজনকে। যদিও Blue Origin ২০২৭ সাল থেকে এই দায়িত্ব নেওয়ার পরিকল্পনা করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, Jeff Bezos এবং Elon Musk-এর মধ্যে এই প্রতিযোগিতা ভবিষ্যতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট ও মহাকাশভিত্তিক প্রযুক্তির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
সব মিলিয়ে, ‘লিও’ স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা চালু হলে বিশ্বব্যাপী দ্রুতগতির ইন্টারনেট বিস্তারে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে, বিশেষ করে দুর্গম ও অবকাঠামো-বঞ্চিত অঞ্চলে এর প্রভাব উল্লেখযোগ্য হতে পারে।
সুত্রঃ The Guardian
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
আরও পড়ুন-হোয়াটসঅ্যাপকে টক্কর দিতে আসছে এক্সচ্যাট, জানা গেল সম্ভাব্য ফিচার
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔






