ঈদকে সামনে রেখে যাত্রীসেবায় নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আন্তঃনগর ট্রেনে পরীক্ষামূলকভাবে ফ্রি ওয়াইফাই চালু করা হয়েছে, যা যাত্রীদের ভ্রমণ অভিজ্ঞতায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করা হচ্ছে। ডিজিটাল সুবিধা বাড়াতে নেওয়া এই পদক্ষেপ ইতিমধ্যেই প্রযুক্তিপ্রেমীদের নজর কেড়েছে।
গত শুক্রবার ঢাকা–চট্টগ্রাম–কক্সবাজার রেলপথ-এ প্রথমবারের মতো এই ফ্রি ইন্টারনেট সেবা চালু করা হয়। যাত্রাপথে যাত্রীরা সরাসরি ট্রেনেই ইন্টারনেট ব্যবহার করার সুযোগ পান।
আরও পড়ুন-পহেলা বৈশাখে টেলিটকের মেগা অফার, ৫৩ টাকায় ৩.৩৩GB ইন্টারনেটসহ মিনিট ও এসএমএস
এই সেবায় ব্যবহার করা হয়েছে Starlink-এর স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট এবং আধুনিক Power over Ethernet প্রযুক্তি। এর মাধ্যমে একই কেবলে বিদ্যুৎ ও ডেটা একসঙ্গে সরবরাহ করা সম্ভব হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসাদ জানিয়েছেন, এই উদ্যোগটি সরকারের বৃহৎ পরিকল্পনার অংশ। জনসাধারণের গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিনামূল্যে ইন্টারনেট সেবা দেওয়ার লক্ষ্য থেকেই এটি শুরু করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, শিগগিরই আরও তিনটি গুরুত্বপূর্ণ রুটে এই সেবা চালু করা হবে। সেগুলো হলো—ঢাকা–রাজশাহী, ঢাকা–সিলেট এবং ঢাকা–খুলনা রেলপথ।
পরীক্ষামূলক ব্যবহারে পাওয়া গেছে আশাব্যঞ্জক ফলাফল। ট্রেনে চলাচলের সময় ডাউনলোড স্পিড ছিল প্রায় ৮ থেকে ৮৮ এমবিপিএস এবং আপলোড স্পিড ১৩ থেকে ৪৭ এমবিপিএসের মধ্যে। ল্যাটেন্সি ছিল ২৩ থেকে ৪৭ মিলিসেকেন্ড।
এছাড়া Starlink App ব্যবহার করে পরীক্ষায় সর্বোচ্চ প্রায় ১৩৬ এমবিপিএস ডাউনলোড স্পিডও পাওয়া গেছে, যা চলন্ত ট্রেনের জন্য বেশ উল্লেখযোগ্য।
এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে Satellite Company Limited, যা বাংলাদেশে Starlink-এর অনুমোদিত প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করছে। তাদের তত্ত্বাবধানে পুরো প্রযুক্তিগত অবকাঠামো স্থাপন করা হয়েছে।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ঈদের আগেই দেশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান—বিশেষ করে বড় রেলস্টেশন ও বিমানবন্দরে—উচ্চগতির ফ্রি ওয়াইফাই চালু করা হবে।
এছাড়া হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর-এ ঈদের পর উন্নত ওয়াইফাই সেবা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে যাত্রীরা ট্রেনে বসেই ইন্টারনেট ব্যবহার করে কাজ, বিনোদন বা যোগাযোগ চালিয়ে যেতে পারবেন। বিশেষ করে দীর্ঘ দূরত্বের ভ্রমণে এটি বড় সুবিধা এনে দেবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের সেবা চালু হলে দেশের ডিজিটাল সংযোগ আরও শক্তিশালী হবে এবং স্মার্ট বাংলাদেশ গঠনের পথে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে কাজ করবে।
ঈদযাত্রাকে আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে ট্রেনে ফ্রি ওয়াইফাই চালুর এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। পরীক্ষামূলক পর্যায়ে ভালো ফল পাওয়ায় এটি দ্রুত বিস্তৃত হলে যাত্রীসেবায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
আরও পড়ুন-৬ মাসে ১০,৫৬৮ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াই-ফাই চালুর ঘোষণা
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔









