তরঙ্গ নবায়নে মূল্যছাড়, দীর্ঘমেয়াদি কিস্তি ও লাইসেন্সের মেয়াদ বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন এমটব। অন্যদিকে গ্রাহক অধিকারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, আর্থিক সুবিধার পাশাপাশি নেটওয়ার্ক উন্নয়ন, কলড্রপ কমানো ও সাশ্রয়ী ইন্টারনেট নিশ্চিত করার শর্তও থাকতে হবে।
আরও পড়ুন- টেলিটকের ৭০০ মেগাহার্টজ স্পেকট্রাম সংগ্রহ শুরু, নেটওয়ার্কে আসতে পারে পরিবর্তন
মোবাইল অপারেটরদের তরঙ্গ নবায়নে একের পর এক আর্থিক সুবিধার প্রস্তাব সামনে এলেও গ্রাহকসেবার মানোন্নয়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। তরঙ্গের দাম কমানো, লাইসেন্সের মেয়াদ বাড়ানো এবং দীর্ঘ সময় ধরে কিস্তিতে অর্থ পরিশোধের সুযোগ চাওয়ার পাশাপাশি অপারেটরদের কাছ থেকে উন্নত নেটওয়ার্ক ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন গ্রাহক অধিকারসংশ্লিষ্টরা।
গ্রামীণফোন, রবি ও বাংলালিংকের হাতে থাকা মোট ৭৯ দশমিক ২ মেগাহার্টজ তরঙ্গের মেয়াদ আগামী ১০ নভেম্বর শেষ হচ্ছে। এসব তরঙ্গ নবায়নে বিটিআরসি গবেষণার ভিত্তিতে নতুন মূল্য নির্ধারণের সুপারিশ করেছে। পাশাপাশি লাইসেন্সের মেয়াদ ২০ বছর এবং মূল্য পরিশোধের কিস্তি আটটি থেকে বাড়িয়ে ১২টি করার প্রস্তাব দিয়েছে সংস্থাটি। এর মধ্যেই আরও সুবিধা চেয়ে নতুন দাবি জানিয়েছে মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন এমটব।
সংগঠনটি ১৫ বছরের জন্য নির্ধারিত দামেই ২০ বছরের লাইসেন্স, ২০ বছর ধরে কিস্তিতে মূল্য পরিশোধ এবং তরঙ্গ নবায়নে বার্ষিক চার্জ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। ২৫ অক্টোবর বিটিআরসি চেয়ারম্যান মো. এমদাদ উল বারীকে পাঠানো চিঠিতে এসব দাবি তুলে ধরে এমটব।
তবে অপারেটরদের আর্থিক সুবিধার বিপরীতে গ্রাহকরা কী ধরনের উন্নত সেবা পাবেন, সেই প্রশ্ন সামনে এনেছেন মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, দেশে মোবাইল অপারেটরদের কাছে গ্রাহকরা একপ্রকার জিম্মি। অপারেটররা সরকারের কাছ থেকে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পেলেও গ্রাহকদের নিম্নমানের সেবা নিতে হচ্ছে।
মহিউদ্দিন আহমেদের ভাষ্য, অপারেটররা বিপুল মুনাফা করলেও গ্রাহকদের কলড্রপ, দুর্বল নেটওয়ার্ক ও ধীরগতির ইন্টারনেটের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। তাই তরঙ্গ নবায়নে ছাড় দেওয়ার আগে গ্রাহকস্বার্থ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, তরঙ্গের দাম কমানো ও কিস্তিতে মূল্য পরিশোধের সুবিধা দেওয়া হলে এর সুফল গ্রাহকদেরও দিতে হবে। এ জন্য নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, কলড্রপ কমানো এবং সাশ্রয়ী দামে মানসম্মত ইন্টারনেট নিশ্চিত করার শর্ত দিতে হবে। শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে ছাড় প্রত্যাহারসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
বিটিআরসির স্পেকট্রাম বিভাগের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জুয়েল জানিয়েছেন, স্পেকট্রামের দাম ও লাইসেন্সের মেয়াদসংক্রান্ত প্রস্তাব ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দিলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপারেটরদের পক্ষ থেকে এমটব তাদের দাবি জানিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বিটিআরসির প্রস্তাব এবং এমটবের দাবি এখনো সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। ফলে অপারেটররা শেষ পর্যন্ত কী ধরনের আর্থিক সুবিধা পাবে, তা এখনো নির্ধারিত হয়নি। একইভাবে তরঙ্গ নবায়নের সঙ্গে গ্রাহকসেবার মানোন্নয়নের বাধ্যতামূলক শর্ত যুক্ত হবে কি না, সে বিষয়েও দেওয়া তথ্যের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের উল্লেখ নেই।
গ্রাহক অধিকারসংশ্লিষ্টদের দাবি, তরঙ্গ নবায়নের মূল্য ও কিস্তির সুবিধা নির্ধারণের সময় শুধু অপারেটরদের আর্থিক স্বার্থ বিবেচনা করলে চলবে না। এর সঙ্গে নেটওয়ার্কের মান, কলড্রপ, ইন্টারনেটের গতি এবং গ্রাহকদের সাশ্রয়ী সেবা পাওয়ার বিষয়গুলোও যুক্ত করা প্রয়োজন।
অপারেটরদের জন্য আর্থিক ছাড়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পাশাপাশি গ্রাহকসেবার উন্নয়ন কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, সেটিই এখন আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কারণ, তরঙ্গ নবায়নের সুবিধা অপারেটরদের ব্যবসায়িক কার্যক্রমে সহায়তা করলেও তার সুফল গ্রাহক পর্যায়ে পৌঁছানোর নিশ্চয়তা থাকা প্রয়োজন।
সূত্র: যুগান্তর নিউজ






