বাজারে পড়াশোনার খরচ দিন দিন বেড়ে যাচ্ছে। অনেক মেধাবী কিন্তু অল্প আয়ের পরিবার থেকে হওয়া শিক্ষার্থীর জন্য শিক্ষা ভাতা বা উপবৃত্তি একটি বড় সহায়তা হিসেবে কাজ করে। বাংলাদেশ সরকার ও বিভিন্ন বোর্ড/ট্রাস্ট প্রতি বছর নির্দিষ্ট সংখ্যক শিক্ষার্থীকে আর্থিকভাবে সাহায্য করার জন্য শিক্ষা ভাতা বা বৃত্তির আবেদন আহ্বান করে থাকে। ২০২৬ সালের জন্যও বিভিন্ন বৃত্তি ও শিক্ষা ভাতার বিজ্ঞপ্তি এসেছে এবং আবেদন চলছে।
এই লেখায় আমরা সেই আবেদন করার সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া, যোগ্যতা, ডকুমেন্টস ও অনলাইনে ফরম পূরণ সম্পর্কিত সব তথ্য ধারাবাহিকভাবে জানাবো।
আরও পড়ুন-ফোনের সিম কার্ড কী? সিম ছাড়া কি মোবাইল চলে? জানলে অবাক হবেন!
শিক্ষা ভাতা/উপবৃত্তি কি?
শিক্ষা ভাতা বা শিক্ষা উপবৃত্তি হলো সরকার বা বিভিন্ন কল্যাণ ট্রাস্টের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য প্রদেয় আর্থিক সহায়তা, যাতে তারা পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে। এটি মূলত অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল বা মেধাবী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার খরচ কমাতে সাহায্য করে।
শিক্ষা ভাতা পাওয়ার যোগ্যতা (২০২৬)
বাংলাদেশে বিভিন্ন ধাপে শিক্ষা ভাতা বা বৃত্তির আবেদন থাকে — যেমন:
১. অনগ্রসর/দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য
-
সাধারণত প্রথম শ্রেণি থেকে স্নাতক পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা আবেদন করতে পারে।
-
পরিবারের আর্থিক অবস্থা প্রমাণ করতে হয়।
-
মেধা/অর্থনৈতিক শর্ত পূরণ থাকতে হয়।
২. সরকারি কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য
-
সরকারি বা তালিকাভুক্ত স্বায়ত্তশাসিত সংস্থার কর্মচারীদের সন্তানরা আবেদন করতে পারেন।
-
৬ষ্ঠ থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত শ্রেণির জন্য নির্দিষ্ট ভাতা আছে।
-
আবেদনের সময়সীমা সাধারণত জানুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত থাকে।
৩. প্রতিবন্ধী বা বিশেষ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের জন্য
-
সমাজসেবা অধিদপ্তর বিভিন্ন ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তির আওতায় প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের অনলাইন আবেদন গ্রহণ করে।
-
ভাতা পেতে জাতীয় পরিচয়পত্র ও অন্যান্য শর্ত পূরণ থাকতে হয়।
দরকারি কাগজপত্র
নিচের কাগজ/নথি সাধারণত আবেদনের জন্য প্রয়োজন:
✔️ জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) / জন্ম সনদ ।
✔️ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রমাণপত্র ।
✔️ পূর্ববর্তী পরীক্ষার মার্কশিট/শংসাপত্র ।
✔️ পরিবারের আয় সনদ / আর্থিক অবস্থার প্রমাণ
✔️ আবেদনকারীর ছবি ।
প্রতিটি ভাতার ক্ষেত্রে আলাদা আলাদা ডকুমেন্ট থাকতে পারে, তাই বিজ্ঞপ্তি ভালোভাবে পড়ে নিন।
অনলাইনে আবেদন করার ধাপ (সরকারি শিক্ষা বৃত্তি – উদাহরণ)
১. ওয়েবসাইটে যান:
‑ সাধারণত https://eservice.bkkb.gov.bd বা সরকার ঘোষিত পোর্টাল থেকে আবেদন করতে হয়।
২. রেজিস্ট্রেশন করুন:
‑ মোবাইল নম্বর ও NID দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।
৩. লগইন করুন:
‑ ভেরিফিকেশন কোড দ্বারা লগইন করে আবেদন ফরম পূরণ করবেন।
৪. ফরম পূরণ ও ডকুমেন্ট আপলোড:
‑ আবেদন ফরমে তথ্য দিন এবং স্ক্যান কপি আপলোড করুন।
৫. জমা দিন:
‑ শেষ হলে সাবমিট করে একটি ট্র্যাকিং নম্বর নোট করে রাখুন।
আবেদনের সময়সীমা
📌 সাধারণত সরকারি বা জেলা পর্যায়ের শিক্ষা বৃত্তির আবেদন জানুয়ারি – ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ভেতর থাকে।
📌 কিছু সোশ্যাল সিকিউরিটি ভিত্তিক ভাতার আবেদন অক্টোবর – নভেম্বর ২০২৫ পর্যন্তও হয়েছিল।
👉 ভাতা বা বৃত্তির নতুন বিজ্ঞপ্তি পেলে সরকারি ওয়েবসাইট বা পোর্টালে সঠিক সময় দেখে নিতে হবে।
শিক্ষা ভাতা/উপবৃত্তির ধরণ (জনপ্রিয় তালিকা)
| ধরণ | কী জন্য | কারা আবেদন করতে পারে |
|---|---|---|
| সরকারি কর্মচারীর সন্তান বৃত্তি | চাকরিজীবীর সন্তানদের জন্য | সরকারি কর্মচারীদের সন্তান |
| অনগ্রসর/দরিদ্র শিক্ষার্থী ভাতা | অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল ছাত্র | দরিদ্র ছাত্র/ছাত্রী |
| প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর শিক্ষা ভাতা | প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের | সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক নির্ধারিত শিক্ষার্থী |
| 👉 প্রতিটি ক্ষেত্রে শর্ত ও আবেদন পদ্ধতি আলাদা হতে পারে। |
প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন ১: শিক্ষা ভাতা কি শুধুমাত্র সরকারি স্কুলের শিক্ষার্থীর জন্য?
উত্তর: না। সরকার এবং বিভিন্ন বোর্ড/ট্রাস্টের ভাতা/বৃত্তির শর্ত অনুযায়ী সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষার্থী উভয়ই আবেদন করতে পারে।
প্রশ্ন ২: আবেদন ফি দিতে হয় কি?
উত্তর: সাধারণত সরকার কর্তৃক প্রদত্ত শিক্ষা ভাতা/বৃত্তির আবেদন বিনামূল্যে।
প্রশ্ন ৩: আবেদন করলে কত সময়ের মধ্যে ফল পাওয়া যায়?
উত্তর: সাধারণত বিজ্ঞপ্তিতে উক্ত সময়সীমা অনুযায়ী নির্বাচন ও যাচাই শেষে ফল প্রকাশ করা হয়। সময়মত ওয়েবসাইটে দেখতে পারেন।
উপসংহার
২০২৬ সালের শিক্ষা ভাতা/উপবৃত্তি আবেদন সম্পূর্ণ অনলাইনে, সঠিক তথ্য ও ডকুমেন্টসসহ করলে সহজেই করা যায়। সরকারি যেকোনো বৃত্তি বা ভাতার জন্য আবেদন করার আগে যোগ্যতা ও শর্তাবলী ভালোভাবে পড়ে নিতে হবে। অর্থনৈতিকভাবে অসচ্ছল হলেও এই ভাতা শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সঠিক সময়ে আবেদন করে তুমি তোমার শিক্ষার সহায়তা নিশ্চিত করতে পারবে!
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
আরও পড়ুন-অবৈধ লেনদেনের অন্যতম মাধ্যম এখন মোবাইল ব্যাংকিং
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔


