মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে নজিরবিহীন এক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে Iran। টানা ৫৪ দিন ধরে দেশটিতে চলছে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট, যা ইতোমধ্যেই বিশ্ব ইতিহাসে দীর্ঘতম ইন্টারনেট বন্ধের ঘটনাগুলোর একটি হিসেবে আলোচনায় উঠে এসেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি United States ও Israel যৌথভাবে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করার পরপরই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। হামলার কিছু সময়ের মধ্যেই ইরানি কর্তৃপক্ষ দেশের ইন্টারনেট ব্যবস্থায় কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে, যা পরবর্তীতে পূর্ণমাত্রার ব্ল্যাকআউটে রূপ নেয়।
আরও পড়ুন-হাইস্পিড ইন্টারনেটের স্বপ্ন বাস্তব ঢাকায় ৫জি, ছড়াচ্ছে সারাদেশে
ইন্টারনেট পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা NetBlocks জানিয়েছে, ইরানে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট টানা ১ হাজার ২৭২ ঘণ্টা অতিক্রম করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তারা উল্লেখ করে, এটি এখন ৫৪তম দিনে প্রবেশ করেছে।
এর আগে গত ৫ এপ্রিল ব্ল্যাকআউটের ৩৭তম দিনে সংস্থাটি জানায়, আধুনিক ইতিহাসে এত দীর্ঘ সময় ধরে ইন্টারনেট বন্ধ থাকার আর কোনো নজির পাওয়া যায়নি।
যদিও ‘সম্পূর্ণ ইন্টারনেট বন্ধ’—এমন দাবি পুরোপুরি সঠিক নয়। ইরানের অভ্যন্তরীণ ওয়েবসাইট ও কিছু স্থানীয় অ্যাপ এখনো সচল রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিদেশি অ্যাপ ব্যবহারে কঠোর বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে।
ফলে, বৈশ্বিক যোগাযোগ থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন দেশটির সাধারণ নাগরিকরা। বিশেষ করে ফ্রিল্যান্সার, অনলাইন ব্যবসায়ী এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগনির্ভর পেশাজীবীরা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
দীর্ঘদিন ধরে ইন্টারনেট সীমাবদ্ধতার কারণে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা এবং চাকরির ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। অনেক প্রতিষ্ঠান তাদের কার্যক্রম চালাতে হিমশিম খাচ্ছে।
তবে রাজধানী Tehran-সহ বিভিন্ন শহরে মানুষের দৈনন্দিন জীবন পুরোপুরি থেমে নেই। সীমিত যোগাযোগের মধ্যেও তারা স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন।
মূলত জানুয়ারিতে সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরু হলে প্রথম দফায় ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। পরে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হলে তা আরও কঠোর হয়ে ওঠে এবং বর্তমানে টানা ব্ল্যাকআউটে পরিণত হয়েছে।
পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক করতে গত ৮ এপ্রিল Pakistan-এর মধ্যস্থতায় দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি শুরু হয়। তবে সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার পরও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন, যাতে ইরানকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আরও সময় দেওয়া যায়।
সব মিলিয়ে, ইরানে চলমান ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট শুধু প্রযুক্তিগত নয়, বরং সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকটেও রূপ নিচ্ছে। দীর্ঘ এই বিচ্ছিন্নতা দেশের নাগরিকদের ওপর কী প্রভাব ফেলবে এবং পরিস্থিতি কবে স্বাভাবিক হবে—সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔









