দেশে দ্রুত বাড়তে থাকা হ্যাকিং, অনলাইন প্রতারণা ও তথ্য চুরির ঝুঁকি মোকাবিলায় বড় উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে সরকার। প্রায় ৫৫ মিলিয়ন ডলারের একটি প্রকল্পের আওতায় দেশে আধুনিক সাইবার নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনসহ একটি সমন্বিত সাইবার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ ‘জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সংস্থার সক্ষমতা শক্তিশালীকরণ’ শীর্ষক এই প্রকল্প হাতে নিয়েছে। এটি বাস্তবায়ন করবে জাতীয় সাইবার সিকিউরিটি এজেন্সি। ইতোমধ্যে প্রকল্পটির প্রাথমিক প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন-৮২.৪ শতাংশ ব্যবহারকারী কনটেন্ট কপি-পেস্টে নির্ভরশীল
প্রকল্পটি ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এ সময়ের মধ্যে দেশের ৬৪টি জেলায় সাইবার নজরদারি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য অবকাঠামোকে একটি কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে।
এই প্রকল্পের অন্যতম প্রধান অংশ হিসেবে একটি আধুনিক সিকিউরিটি অপারেশনস সেন্টার (SOC) স্থাপন করা হবে, যা সার্বক্ষণিকভাবে দেশের সাইবার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবে। একই সঙ্গে গঠন করা হবে একটি জাতীয় কম্পিউটার ইমার্জেন্সি রেসপন্স টিম (CERT), যা যেকোনো সাইবার হামলা বা ঝুঁকির ক্ষেত্রে দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।
এছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলায় নেটওয়ার্ক অপারেশন সেন্টার স্থাপন করে স্থানীয় পর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করা হবে।
সাইবার অপরাধ তদন্তকে আরও কার্যকর করতে একটি জাতীয় ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবরেটরি স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে। এই ল্যাবের মাধ্যমে ডিজিটাল প্রমাণ বিশ্লেষণ করে অপরাধীদের শনাক্ত করা সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
একই সঙ্গে প্রকল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে একটি আধুনিক সাইবার নিরাপত্তা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হবে। এখানে প্রযুক্তিবিদ, শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। আন্তর্জাতিক সনদ কোর্স চালুর মাধ্যমে দক্ষ জনবল তৈরি করা হবে, যা ভবিষ্যতে দেশের সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করবে।
সাধারণ মানুষের সহায়তার জন্য একটি এআইভিত্তিক সাইবার নিরাপত্তা হেল্পলাইন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে নাগরিকরা হ্যাকিং বা অনলাইন প্রতারণার শিকার হলে তাৎক্ষণিক পরামর্শ ও সহায়তা পাবেন।
এছাড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ‘সাইবার স্বেচ্ছাসেবক’ নিয়োগ দিয়ে জনসচেতনতা বাড়ানো হবে। তারা ফিশিং, ভুয়া লিংক ও অনলাইন প্রতারণা সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করবেন।
প্রকল্পটির প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৫৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৬৭২ কোটি টাকার সমান। অর্থায়নের ক্ষেত্রে সরকারি অর্থের পাশাপাশি বৈদেশিক সহায়তা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের সহায়তা চাওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, দেশে ডিজিটাল সেবা, অনলাইন লেনদেন ও প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রম দ্রুত বাড়ছে। এর ফলে সাইবার ঝুঁকিও বাড়ছে। হ্যাকিং, ডাটা চুরি ও আর্থিক প্রতারণার মতো ঘটনা বাড়ায় একটি শক্তিশালী ও সমন্বিত সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শফিউল আলম খান বলেন, সাধারণ মানুষের সাইবার নিরাপত্তা সম্পর্কে ন্যূনতম ধারণা থাকাই অনেক ঝুঁকি কমাতে পারে। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় ফিশিং ও অনলাইন প্রতারণার ঘটনা বেশি ঘটছে, যা সচেতনতার মাধ্যমে অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া তথ্য ও বিভ্রান্তি কমাতেও সাইবার সচেতনতা অত্যন্ত জরুরি।
সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের সাইবার নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। তবে শুধু অবকাঠামো নয়, এর কার্যকর ব্যবহার, দক্ষ জনবল এবং সচেতনতা—সবকিছুর সমন্বয়েই একটি নিরাপদ ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
সুত্রঃ Dhaka Mail
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
আরও পড়ুন-এআইকে এক প্রশ্নেই খরচ হয় ১০ ওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ জানলে অবাক হবেন
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔





