স্মার্টফোন থেকেই সরাসরি স্যাটেলাইট সংযোগ—শুনতে ভবিষ্যতের প্রযুক্তি মনে হলেও বাস্তবে সেটি এখনো বেশ জটিল। বিশেষ করে সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য এই সুবিধা চালু করতে বড় ধরনের প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার মুখে পড়েছে Apple। সম্প্রতি ভারতের কেন্দ্রীয় টেলিকম দপ্তরকে দেওয়া এক বার্তায় প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, আইফোনে ডিরেক্ট-টু-ডিভাইস বা ডিটুডি স্যাটেলাইট পরিষেবা চালু করতে গেলে বর্তমান হার্ডওয়্যারে বড় পরিবর্তন আনতে হতে পারে।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, ডিটুডি প্রযুক্তির মূল লক্ষ্য হলো মোবাইল টাওয়ার ছাড়াই সরাসরি স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ফোনে যোগাযোগ সুবিধা পৌঁছে দেওয়া। অর্থাৎ দুর্গম এলাকা, পাহাড়ি অঞ্চল বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়ও ব্যবহারকারীরা বার্তা পাঠানো কিংবা জরুরি যোগাযোগ করতে পারবেন।
আরও পড়ুন-এআই সুবিধায় ভরপুর স্যামসাংয়ের নতুন দুই স্মার্টফোন বাজারে
তবে বাস্তবে এই প্রযুক্তি স্মার্টফোনে যুক্ত করা সহজ নয় বলে জানিয়েছে অ্যাপল। প্রতিষ্ঠানটির মতে, বর্তমান আইফোনের হার্ডওয়্যার সরাসরি মহাকাশ থেকে সংকেত গ্রহণের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত নয়। এজন্য নতুন ধরনের অ্যান্টেনা, উন্নত সিগন্যাল প্রসেসিং প্রযুক্তি এবং বাড়তি সার্টিফিকেশনের প্রয়োজন হতে পারে।
শুধু অ্যাপল নয়, Google-ও একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির মতে, বর্তমান স্মার্টফোনে ব্যবহৃত ছোট আকারের অ্যান্টেনা এবং সীমিত ব্যাটারি ক্ষমতা এই প্রযুক্তি বাস্তবায়নের বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্যাটেলাইট সংকেত সাধারণ মোবাইল নেটওয়ার্কের তুলনায় অনেক দুর্বল হয়। ফলে সরাসরি ফোনে সেই সংকেত গ্রহণ করতে শক্তিশালী হার্ডওয়্যার প্রয়োজন হয়। কিন্তু স্মার্টফোনে জায়গার সীমাবদ্ধতার কারণে বড় অ্যান্টেনা ব্যবহার করা সম্ভব হয় না।
এছাড়া আরেকটি বড় উদ্বেগ হলো—বর্তমানে চালু থাকা ৪জি ও ৫জি নেটওয়ার্কের সঙ্গে স্যাটেলাইট সিগন্যালের সমন্বয়। প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো আশঙ্কা করছে, যথাযথ মান নির্ধারণ ছাড়া এই পরিষেবা চালু করলে মোবাইল নেটওয়ার্কে বিঘ্ন বা ইন্টারফেয়ারেন্স তৈরি হতে পারে।
এই কারণেই অনেক শিল্প বিশেষজ্ঞ ভারত সরকারকে এখনই এই প্রযুক্তি বাণিজ্যিকভাবে চালু না করার পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের মতে, প্রযুক্তিটি আরও পরিপক্ব না হওয়া পর্যন্ত অন্তত কয়েক বছর অপেক্ষা করা উচিত।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানিয়েছেন, ২০২৭ সালে অনুষ্ঠিতব্য World Radiocommunication Conference 2027 বা ডব্লিউআরসি-২৭ সম্মেলনে এই প্রযুক্তির জন্য আন্তর্জাতিক স্পেকট্রাম ব্যান্ড নির্ধারণ করা হতে পারে। সেই বৈশ্বিক মানদণ্ড চূড়ান্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত অনেক প্রতিষ্ঠানই সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
বর্তমানে বিশ্বের কিছু অঞ্চলে সীমিত পরিসরে স্যাটেলাইটভিত্তিক জরুরি বার্তা পাঠানোর সুবিধা চালু থাকলেও সেটি পূর্ণাঙ্গ মোবাইল নেটওয়ার্কের বিকল্প নয়। প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে স্মার্টফোন ও স্যাটেলাইট প্রযুক্তির সমন্বয় বড় পরিবর্তন আনতে পারে, তবে সেটির জন্য আরও গবেষণা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন প্রয়োজন।
ভারতের দুর্গম অঞ্চলে জরুরি যোগাযোগ নিশ্চিত করতে সরকার এই প্রযুক্তি নিয়ে আগ্রহ দেখালেও হার্ডওয়্যার সীমাবদ্ধতা এখন বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য সরাসরি স্যাটেলাইট সংযোগ চালু হতে আরও কয়েক বছর সময় লাগতে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতের স্মার্টফোনে স্যাটেলাইট যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ ফিচার হয়ে উঠতে পারে। তবে সেটি সফল করতে হলে শুধু নতুন সফটওয়্যার নয়, স্মার্টফোনের ডিজাইন ও নেটওয়ার্ক প্রযুক্তিতেও বড় পরিবর্তন আনতে হবে।
সুত্রঃ Apple Newsroom
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔









