নতুন স্মার্টফোন বাজারে আসার সঙ্গে সঙ্গে অনেকের মনেই পুরোনো ডিভাইস বদলে নতুন মডেল কেনার আগ্রহ তৈরি হয়। উন্নত ক্যামেরা, দ্রুতগতির প্রসেসর কিংবা নতুন এআই সুবিধার প্রচারণা সেই আগ্রহ আরও বাড়িয়ে দেয়। তবে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতি বছর বা দুই বছর পরপর ফোন বদলানো এখন আর আগের মতো প্রয়োজনীয় নয়।
বর্তমান সময়ে একটি স্মার্টফোন অন্তত তিন বছর ব্যবহার করার পর নতুন ডিভাইসে আপগ্রেড করাই সবচেয়ে যুক্তিসংগত সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন তাঁরা। এতে যেমন অর্থের সাশ্রয় হয়, তেমনি নতুন প্রযুক্তির বাস্তব উন্নয়নও স্পষ্টভাবে অনুভব করা যায়।
আরও পড়ুন-২০০MP ক্যামেরা ও ১TB স্টোরেজ নিয়ে আসছে অপোর নতুন ফোল্ডিং OPPO Find N6
একসময় স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের বড় একটি অংশ এক থেকে দুই বছর পরপর নতুন ফোন কিনতেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রিমিয়াম স্মার্টফোনের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বর্তমানে শীর্ষ ব্র্যান্ডগুলোর ফ্ল্যাগশিপ ডিভাইসের দাম সহজেই এক হাজার ডলার ছাড়িয়ে যায়। ফলে প্রতি বছর নতুন ফোন কেনা অধিকাংশ ব্যবহারকারীর জন্য আর বাস্তবসম্মত নয়।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক স্মার্টফোনে বছরে বছরে যে উন্নয়ন আসে, তা অনেক ক্ষেত্রেই দৈনন্দিন ব্যবহারে খুব বেশি চোখে পড়ে না। নতুন প্রসেসর সাধারণত আগের বছরের তুলনায় সীমিত পরিমাণে গতি বাড়ায়। ফলে এক বছর ব্যবধানে দুটি ডিভাইসের মধ্যে পার্থক্য অনেক ব্যবহারকারীই অনুভব করতে পারেন না।
তবে তিন বছরের ব্যবধানে পরিস্থিতি ভিন্ন হয়। এই সময়ের মধ্যে প্রসেসর, গ্রাফিক্স সক্ষমতা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর ফিচার এবং সফটওয়্যার অপটিমাইজেশনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসে। ফলে নতুন ফোন ব্যবহারের অভিজ্ঞতা অনেক বেশি উন্নত মনে হয়।
স্মার্টফোন পরিবর্তনের আরেকটি বড় কারণ ক্যামেরা। গত কয়েক বছরে মোবাইল ফটোগ্রাফিতে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। উন্নত সেন্সর, অপটিক্যাল জুম, এআই-ভিত্তিক ইমেজ প্রসেসিং এবং উন্নত ভিডিও রেকর্ডিং সুবিধার কারণে নতুন প্রজন্মের ফোনগুলো ছবি ও ভিডিও ধারণে আগের তুলনায় অনেক এগিয়ে।
তিন বছর আগের একটি ডিভাইসের সঙ্গে বর্তমান সময়ের একটি ফ্ল্যাগশিপ ফোন তুলনা করলে ক্যামেরার পার্থক্য সহজেই চোখে পড়ে। বিশেষ করে কম আলোতে ছবি তোলা, জুম সুবিধা এবং ভিডিও ধারণের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন আরও স্পষ্ট।
ব্যাটারিও স্মার্টফোনের এমন একটি অংশ, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কার্যক্ষমতা হারায়। সাধারণত দুই থেকে তিন বছর ব্যবহারের পর ব্যাটারির চার্জ ধরে রাখার ক্ষমতা কমতে শুরু করে। তখন অনেক ব্যবহারকারীকে দিনে একাধিকবার ফোন চার্জ দিতে হয়।
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ফোন বদলানোর জন্য এটি অন্যতম বাস্তব কারণ। কারণ নতুন ফোনে শুধু উন্নত ব্যাটারি নয়, আরও দক্ষ বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনাও পাওয়া যায়।
তবে স্মার্টফোনের আয়ু বাড়াতে নির্মাতারাও এখন নতুন পদক্ষেপ নিচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠান পাঁচ থেকে সাত বছর পর্যন্ত সফটওয়্যার আপডেট ও নিরাপত্তা সেবা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। ফলে পুরোনো ডিভাইসও দীর্ঘ সময় আধুনিক ফিচার ও নিরাপত্তা সুবিধা পেয়ে থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু নতুন মডেল বাজারে এসেছে বলেই ফোন পরিবর্তন করার প্রয়োজন নেই। যদি বর্তমান ডিভাইস দৈনন্দিন কাজ নির্বিঘ্নে করতে পারে, ব্যাটারি সন্তোষজনক থাকে এবং প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার আপডেট পায়, তাহলে কয়েক বছর ব্যবহার করাই বুদ্ধিমানের কাজ।
তাঁদের পরামর্শ, নতুন ফোন কেনার আগে নিজের প্রয়োজন, বাজেট এবং বর্তমান ডিভাইসের কার্যক্ষমতা বিবেচনা করা উচিত। অধিকাংশ ব্যবহারকারীর জন্য তিন বছরের আপগ্রেড চক্রই সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ সিদ্ধান্ত হতে পারে।
সূত্র: আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি
আরও পড়ুন-২০০ মেগাপিক্সেল ক্যামেরা ও ৭০৫০mAh ব্যাটারি নিয়ে আসছে অপোর নতুন ফ্ল্যাগশিপ
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔










