ইন্টারনেটনির্ভর জীবনে ওয়াইফাই রাউটার এখন ঘর ও অফিসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ডিভাইস। অনলাইন কাজ, ভিডিও স্ট্রিমিং, স্মার্ট টিভি, নিরাপত্তা ক্যামেরা কিংবা স্মার্ট হোম ডিভাইস সচল রাখতে অনেকেই রাউটার ২৪ ঘণ্টাই চালু রাখেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রে আগুন লাগা বা বিস্ফোরণের ঘটনা সামনে আসায় অনেকের মনেই প্রশ্ন উঠেছে—নিরবচ্ছিন্নভাবে চালু থাকা ওয়াইফাই রাউটারও কি বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে?
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ অবস্থায় একটি ওয়াইফাই রাউটারের বিস্ফোরণের ঝুঁকি খুবই কম। কারণ এসি, ফ্রিজ বা অন্যান্য উচ্চক্ষমতার বৈদ্যুতিক যন্ত্রের মতো এতে বড় কম্প্রেসার বা ভারী বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনা থাকে না। তবে তাই বলে এটি সম্পূর্ণ ঝুঁকিমুক্ত নয়।
আরও পড়ুন-ওয়াইফাই স্লো? গোপনে ইন্টারনেট ব্যবহার করছে না তো কেউ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘ সময় ব্যবহারের কারণে রাউটারের ভেতরের সার্কিট ও পাওয়ার অ্যাডাপ্টার কিছুটা গরম হয়ে ওঠে। সাধারণত এটি স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু যদি ডিভাইসের মান খারাপ হয়, বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যা থাকে অথবা পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের সুযোগ না থাকে, তাহলে অতিরিক্ত তাপের কারণে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিতে পারে।
ওয়াইফাই রাউটারের ভেতরে থাকা ইলেকট্রনিক উপাদানগুলো দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ প্রবাহের মধ্যে থাকায় ধীরে ধীরে তাপ উৎপন্ন করে। এই তাপ যদি ঠিকমতো বের হতে না পারে, তাহলে সার্কিট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। কিছু ক্ষেত্রে শর্ট সার্কিট, যন্ত্রাংশ গলে যাওয়া বা ছোট আকারের অগ্নিকাণ্ডও ঘটতে পারে।
রাউটার থেকে বিপদের ইঙ্গিত পাওয়া যায় কিছু সাধারণ লক্ষণের মাধ্যমে। যেমন—ডিভাইসটি স্পর্শ করলে অস্বাভাবিক গরম লাগা, বারবার ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া, পাওয়ার অ্যাডাপ্টার অতিরিক্ত উত্তপ্ত হয়ে যাওয়া কিংবা পোড়া গন্ধ বের হওয়া। এমন কোনো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত ডিভাইসটি পরীক্ষা করা উচিত।
নিরাপদ ব্যবহারের ক্ষেত্রে রাউটার কোথায় রাখা হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। অনেকেই ঘরের সৌন্দর্য বজায় রাখতে রাউটার টিভির পেছনে, বন্ধ তাকের ভেতরে বা অন্য ইলেকট্রনিক যন্ত্রের ওপর রেখে দেন। এতে ডিভাইসের চারপাশে বাতাস চলাচল বাধাগ্রস্ত হয় এবং ভেতরের তাপমাত্রা দ্রুত বেড়ে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, রাউটার সবসময় এমন খোলা স্থানে রাখা উচিত যেখানে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচল করতে পারে। ডিভাইসের ওপর কাপড়, বই বা অন্য কোনো ভারী বস্তু রাখা উচিত নয়। একই সঙ্গে নিয়মিত ধুলাবালি পরিষ্কার করলে তাপ নিয়ন্ত্রণ আরও কার্যকর হয়।
বিদ্যুতের ওঠানামাও রাউটারের জন্য একটি বড় ঝুঁকি। এজন্য আসল ও মানসম্মত পাওয়ার অ্যাডাপ্টার ব্যবহার করা জরুরি। পাশাপাশি সার্জ প্রোটেক্টর বা ভালো মানের মাল্টিপ্লাগ ব্যবহার করলে আকস্মিক ভোল্টেজ পরিবর্তনের কারণে ক্ষতির সম্ভাবনা কমে যায়।
কোনো তার, কেবল বা সংযোগস্থলে ক্ষতি দেখা গেলে দ্রুত তা পরিবর্তন করার পরামর্শ দিয়েছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। কারণ ক্ষতিগ্রস্ত কেবল অনেক সময় শর্ট সার্কিটের কারণ হতে পারে।
এ ছাড়া বহু বছর ধরে ব্যবহৃত পুরোনো রাউটারগুলোর ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকতে হবে। দীর্ঘদিন ব্যবহারে ডিভাইসের কার্যক্ষমতা কমে গেলে বা অতিরিক্ত গরম হওয়ার প্রবণতা দেখা দিলে নতুন রাউটার ব্যবহার করাই নিরাপদ।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, দীর্ঘ সময়ের জন্য বাড়ির বাইরে থাকলে বা ভ্রমণে গেলে রাউটার বন্ধ করে রাখা ভালো। এতে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পাশাপাশি যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঝুঁকিও কমে আসে।
সার্বিকভাবে বলা যায়, ওয়াইফাই রাউটারের ক্ষেত্রে এসির মতো বড় ধরনের বিস্ফোরণের ঘটনা অত্যন্ত বিরল। তবে সঠিকভাবে ব্যবহার না করলে অতিরিক্ত তাপ, শর্ট সার্কিট বা অগ্নিকাণ্ডের মতো ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিরাপদ স্থাপনার মাধ্যমে রাউটারকে দীর্ঘদিন ঝুঁকিমুক্ত রাখা সম্ভব।
সূত্র: প্রযুক্তি নিরাপত্তাবিষয়ক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
আরও পড়ুন-ফ্রি ওয়াইফাই ব্যবহারেই খালি হতে পারে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔










