সরকার দেশের দরিদ্র ও নিম্ন-মধ্যআয়ের পরিবারগুলোর জন্য ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে পরিবারভিত্তিক আর্থিক সহায়তা এবং সামাজিক নিরাপত্তা সহজভাবে পৌঁছে দেওয়া যায়। ১০ মার্চ থেকে পাইলট পর্যায়ে এই কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানা গেছে। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—এই ফ্যামিলি কার্ড কীভাবে পাবেন এবং আবেদনে কোন কোন কাগজপত্র লাগবে? আসুন ধাপে ধাপে জেনে নিই ।
আরও পড়ুন-ঈদের আগেই চালু হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড, প্রাথমিকভাবে সুবিধা পাবেন যারা
ফ্যামিলি কার্ড কী?
ফ্যামিলি কার্ড হলো একটি নতুন সামাজিক নিরাপত্তা উদ্যোগ, যার মাধ্যমে সরকার দরিদ্র, প্রান্তিক ও নিম্ন-মধ্যআয়ের পরিবারগুলিকে নিয়মিত আর্থিক সহায়তা এবং সম্ভাব্য পণ্য বা অন্যান্য সুবিধা দেবে। এই কর্মসূচির লক্ষ্য হলো সামাজিক নিরাপত্তা জোরদার করা এবং দরিদ্র পরিবারের আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করা।
✳️ প্রাথমিকভাবে ১৪টি উপজেলায় ১০ মার্চ থেকে পাইলট কর্মসূচি চালু হবে।
আবেদন কখন থেকে শুরু হবে?
বর্তমানে পূর্ণ-পুরি আবেদন শুরু হয়নি, তবে সরকার এই কর্মসূচিটি ১০ মার্চ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করবে এবং ধাপে-ধাপে প্রচার করবে। পরিবারভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাই করার পর আবেদন নেওয়া হবে।
কি কি কাগজপত্র লাগবে?
আবেদনের সময় সাধারণত নিচের কাগজপত্র/তথ্যগুলো প্রয়োজন হবে (সরকারি ঘোষণায় সম্ভাব্য তালিকা অনুযায়ী) —
আবেদনে মূল কিছু কাগজপত্র
জাতীয় পরিচয়পত্র (NID)
-
আবেদনকারীর NID কার্ড বাধ্যতামূলক
-
পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের NID থাকলে তা সংযুক্ত করা যেতে পারে
পাসপোর্ট সাইজ রঙিন ছবি
-
খোলা মুখের ছবি
-
সাধারণ ফটো আকার
সচল মোবাইল নম্বর
-
আবেদনের পর আপডেট ও যোগাযোগের জন্য
-
কোন SMS/OTP যাচাইকরণ লাগলে সঠিক নম্বর থাকা জরুরি
জমি বা ঠিকানা প্রমাণ (যদি প্রয়োজন হয়)
-
বাসস্থানের ঠিকানা উল্লেখ
-
ইউনিয়ন/ওয়ার্ড/পৌরসভা-জেলা তথ্য
পরিবারের সদস্য বিবরণ
-
পরিবারের সদস্যদের NID / বয়স / সম্পর্ক বিবরণ
এটি দরকার হতে পারে যখন পরিবারভিত্তিক সুবিধা যাচাই করা হয়।
বিশুদ্ধ আবেদন করার জন্য এই কাগজগুলো ঠিকভাবে প্রস্তুত রাখা ভালো। সরকারি আবেদন শুরু হলে অফিসিয়াল ফরমাল লিস্ট ঘোষণা করা হবে।
Online / Offline আবেদন পদ্ধতি
Offline আবেদন
- স্থানীয় ইউনিয়ন/ওয়ার্ড কাউন্সিলর অফিস থেকে আবেদন ফরম সংগ্রহ।
- প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ ফরম পূরণ।
- সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন/পৌরসভা/সিটি করপোরেশন অফিসে জমা।
এভাবে জমা দিলে স্থানীয় প্রশাসনিক প্রতিনিধি তথ্য যাচাই করবেন।
Online আবেদন (সম্ভাব্য)
সরকারী ডিজিটাল Management Information System (MIS) তৈরি করা হচ্ছে, যেখানে—
- জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) দিয়ে আবেদন
- মোবাইল/কম্পিউটার থেকে ফরম পূরণ
- ফটো/প্রমাণপত্র আপলোড
- আবেদন স্থিতি অনলাইনে ট্র্যাক করা
এই অনলাইন পদ্ধতি আগামী দিনগুলোতে চালু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
কারা আবেদন করতে পারবেন?
ফ্যামিলি কার্ডের প্রাথমিক লক্ষ্য হলো —
- অত্যন্ত দরিদ্র পরিবার
- দরিদ্র ও নিম্ন-মধ্যআয়ের পরিবার
- প্রান্তিক অঞ্চলের মানুষ
- বিশেষ চাহিদা/সহায়তা প্রয়োজন পরিবার
সরকার দরিদ্র পরিবারকে অগ্রাধিকার দেবে এবং দরিদ্র পর্যায়ে দরখাস্তকারীদের তথ্য সংগ্রহ করবে।
শুরুতে ১৪ উপজেলায় এক ইউনিয়নের এক ওয়ার্ডে পরীক্ষামূলক বিতরণ শুরু হবে।
পরে ধাপে-ধাপে বিভিন্ন এলাকায় কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।
সুবিধা কীভাবে পাবেন?
একবার কার্ড পেলে—
- প্রত্যেক পরিবারের মাসিক আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে (প্রাথমিকভাবে প্রায় Tk2,500)।
- সহায়তা সরাসরি মোবাইল ফাইনান্সিয়াল সার্ভিস (MFS) বা ব্যাঙ্কে প্রবেশ করবে।
- কার্ডধারীরা সরকারি অন্যান্য নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা পেতে পারে (পরবর্তীতে)।
সতর্কতা ও টিপস
- আবেদনে সরকারিভাবে ঘোষিত পোর্টাল/অফিস ছাড়া কোথাও টাকা দেবেন না — এটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যে।
- কোনো জাল মানিব্যাগ/ব্রোকারের মাধ্যমে আবেদন করবেন না — ক্ষমতাপ্রাপ্ত অফিস ছাড়া কাউকে কমিশন দেবেন না।
- আপনার NID ও মোবাইল নম্বর ঠিক আছে কি না আগে যাচাই করে নিন।
উপসংহার
ফ্যামিলি কার্ড একটি বড় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি যা দরিদ্র ও নিম্ন-মধ্যআয়ের পরিবারগুলোকে আর্থিক ও অন্যান্য সহায়তা প্রদান করবে। যদিও পুরো আবেদন কার্যক্রম এখনও শুরু হয়নি, প্রাথমিকভাবে NID, রঙিন ছবি ও সচল মোবাইল নম্বর সংগ্রহে রাখলে আপনি দ্রুত আবেদন করতে পারবেন যখন সরকার অফিসিয়ালি আবেদন শুরু করবে।
পরবর্তীতে অনলাইন আবেদন পোর্টাল চালু হলে NID দিয়ে ঘরে বসেই আবেদন করার সুযোগও পাবেন—এতে সরকারি সহায়তা দ্রুত পৌঁছবে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
আরও পড়ুন-টিসিবি স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড আবেদন করার নিয়ম ২০২৬
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔









