বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ প্রতিদিন যোগাযোগের জন্য ব্যবহার করছেন WhatsApp। ব্যক্তিগত চ্যাট থেকে শুরু করে অফিসিয়াল কাজ—সবকিছুতেই জনপ্রিয় এই মেসেজিং অ্যাপ। তবে সম্প্রতি হোয়াটসঅ্যাপে ধরা পড়া নতুন দুটি নিরাপত্তা ত্রুটি ব্যবহারকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, অজানা কোনো ফাইল বা লিংকে ক্লিক করলেই ঝুঁকিতে পড়তে পারে ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য ও ডিভাইস।
প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান Meta তাদের ২০২৬ সালের সিকিউরিটি অ্যাডভাইজরিতে জানিয়েছে, হোয়াটসঅ্যাপের নির্দিষ্ট কিছু ফিচারে এমন দুর্বলতা ছিল, যা কাজে লাগিয়ে সাইবার অপরাধীরা ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্ত করতে পারত।
আরও পড়ুন-হোয়াটসঅ্যাপে ভয়ংকর নিরাপত্তা ত্রুটি, হ্যাক হতে পারে আপনার ফোন
যদিও প্রতিষ্ঠানটি দ্রুত আপডেটের মাধ্যমে সমস্যাগুলোর সমাধান করেছে, তবুও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সবাইকে দ্রুত অ্যাপের সর্বশেষ সংস্করণ ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন।
মেটার তথ্যমতে, শনাক্ত হওয়া নিরাপত্তা ত্রুটিগুলোর একটি ছিল এআইভিত্তিক মেসেজিং ফিচারের সঙ্গে সম্পর্কিত। এই ত্রুটির মাধ্যমে আক্রমণকারীরা বিশেষভাবে তৈরি করা মেসেজ পাঠিয়ে ব্যবহারকারীকে অজান্তেই ক্ষতিকর কোনো ওয়েবসাইট বা ফিশিং লিংকে নিয়ে যেতে পারত।
সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের আক্রমণে ব্যবহারকারী বুঝতেই পারেন না যে তিনি বিপজ্জনক কোনো লিংকে প্রবেশ করছেন। ফলে ব্যক্তিগত তথ্য, লগইন তথ্য কিংবা ব্যাংকিং সংক্রান্ত ডেটা চুরির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
অন্যদিকে দ্বিতীয় ত্রুটিটি পাওয়া গেছে হোয়াটসঅ্যাপের উইন্ডোজ সংস্করণে। সেখানে সাধারণ ছবি, ডকুমেন্ট বা নিরীহ ফাইলের আড়ালে ক্ষতিকর সফটওয়্যার পাঠানোর সুযোগ ছিল বলে জানা গেছে। অর্থাৎ ব্যবহারকারী কোনো সাধারণ ফাইল ভেবে সেটি খুললেও আড়ালে ম্যালওয়্যার সক্রিয় হওয়ার আশঙ্কা ছিল।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের ফাইল ব্যবহার করে সরাসরি ফোন বা কম্পিউটার নিয়ন্ত্রণ নেওয়া না গেলেও হ্যাকারদের জন্য আক্রমণের দরজা অনেক সহজ হয়ে যায়। বিশেষ করে যারা অপরিচিত নম্বর থেকে আসা ফাইল বা লিংক যাচাই না করেই খুলে ফেলেন, তারা বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।
তবে এখন পর্যন্ত এই ত্রুটিগুলো ব্যবহার করে বড় ধরনের ক্ষতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে মেটা। তারপরও ঝুঁকি এড়াতে ব্যবহারকারীদের দ্রুত Google Play Store অথবা App Store থেকে হোয়াটসঅ্যাপের সর্বশেষ সংস্করণ আপডেট করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু অ্যাপ আপডেট করলেই নিরাপদ থাকা যাবে না। ব্যবহারকারীদের আরও সচেতন হতে হবে। অপরিচিত নম্বর থেকে আসা লিংক, ফাইল বা ভিডিও খোলার আগে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে অতিরিক্ত আকর্ষণীয় অফার, জরুরি সতর্কতা বা ভয় দেখিয়ে পাঠানো বার্তাগুলোকে সন্দেহের চোখে দেখতে বলা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, বর্তমানে সাইবার অপরাধীরা আগের চেয়ে অনেক বেশি উন্নত কৌশল ব্যবহার করছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির কারণে ভুয়া মেসেজ বা প্রতারণামূলক লিংক আগের তুলনায় আরও বিশ্বাসযোগ্য দেখাতে পারে। ফলে ব্যবহারকারীদের অসতর্ক মুহূর্তকে কাজে লাগিয়ে সহজেই ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে।
নিরাপদ থাকতে নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট, টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু রাখা এবং সন্দেহজনক ফাইল এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি কোনো অজানা লিংকে ক্লিক করার আগে সেটির উৎস যাচাই করাও জরুরি বলে মনে করছেন তারা।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, জনপ্রিয় মেসেজিং অ্যাপ হওয়ায় হোয়াটসঅ্যাপ সবসময়ই হ্যাকারদের বড় লক্ষ্য। তাই ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত নতুন সুরক্ষা ব্যবস্থা ও আপডেট আনছে মেটা।
সুত্রঃ Dhaka Mail
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔








