মাতৃত্ব একজন নারীর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল সময়। এই সময়ে একজন গর্ভবতী নারীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত পুষ্টি, চিকিৎসা ও বিশ্রামের প্রয়োজন হয়। কিন্তু বাংলাদেশের অনেক অসচ্ছল ও দরিদ্র পরিবারের নারীরা আর্থিক সমস্যার কারণে সেই প্রয়োজনীয় যত্ন থেকে বঞ্চিত হন।
এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ সরকার “মাতৃত্বকালীন ভাতা কর্মসূচি” চালু করেছে। বর্তমানে এই ভাতা পাওয়ার জন্য অনলাইনে আবেদন করার সুবিধা চালু হয়েছে, ফলে ঘরে বসেই সহজে আবেদন করা যাচ্ছে।
আরও পড়ুন-বাংলাদেশে ইন্টারনেট স্পিড বাড়ানোর ১০টি কার্যকর উপায়
মাতৃত্বকালীন ভাতা কী?
মাতৃত্বকালীন ভাতা হলো বাংলাদেশ সরকারের একটি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, যা মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত হয়। এর উদ্দেশ্য হলো—
-
গর্ভবতী ও সদ্য সন্তান প্রসবকারী দরিদ্র নারীদের আর্থিক সহায়তা প্রদান ।
-
মা ও শিশুর পুষ্টি নিশ্চিত করা ।
-
মাতৃ ও শিশু মৃত্যুর হার কমানো ।
মাতৃত্বকালীন ভাতা কত টাকা?
বর্তমানে সরকারি কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগী মায়েদের প্রতি মাসে নির্দিষ্ট অর্থ প্রদান করা হয়। যদিও সরকারি ঘোষণার ভিত্তিতে ২০২৫-২৬ পর্যন্ত অনেক মাধ্যমিক সংবাদে এই ভাতার তথ্য এসেছে, সরকার পরিস্থিতির ভিত্তিতে ভাতার পরিমাণ আপডেট করতে পারে। সাধারণত এ ধরণের ভাতা প্রতি মাসে স্থির পরিমাণ প্রদান করা হয় এবং তা সরাসরি ব্যাংক/মোবাইল ব্যাংকিং থেকে পাওয়া যায়।
বর্তমানে সরকার প্রতি উপকারভোগী নারীকে—
-
মাসিক ৮০০ টাকা ।
-
মোট ৩৬ মাস (৩ বছর) ।
-
সর্বমোট ২৮,৮০০ টাকা ।
এই অর্থ সরাসরি ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ/নগদ) এর মাধ্যমে প্রদান করা হয়।
কারা মাতৃত্বকালীন ভাতা আবেদন করতে পারবেন?
মাতৃত্বকালীন ভাতা পাওয়ার জন্য আবেদনকারীর নিচের শর্তগুলো পূরণ করতে হবে—
-
আবেদনকারী অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে ।
-
নারী হতে হবে এবং গর্ভবতী অথবা সদ্য সন্তান প্রসব করেছেন ।
-
বয়স সাধারণত ২০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে ।
-
পরিবারের মাসিক আয় সীমিত (দরিদ্র/নিম্ন আয়ের পরিবার) ।
-
সরকারি কোনো চাকরিজীবী হওয়া যাবে না ।
-
একাধিক সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা গ্রহণকারী হলে অযোগ্য হতে পারেন ।
মাতৃত্বকালীন ভাতা অনলাইন আবেদন করার নিয়ম
বর্তমানে অনলাইনে মাতৃত্বকালীন ভাতা আবেদন করা খুবই সহজ। নিচে ধাপে ধাপে পদ্ধতি দেওয়া হলো—
ধাপ ১: অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত সামাজিক সেবা পোর্টালে প্রবেশ করতে হবে।
ধাপ ২: আবেদন ফরম পূরণ
অনলাইন ফরমে সঠিকভাবে তথ্য দিতে হবে—
-
আবেদনকারীর নাম ।
-
জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ।
-
মোবাইল নম্বর ।
-
ঠিকানা ।
-
গর্ভাবস্থার তথ্য ।
-
স্বামীর তথ্য ।
ধাপ ৩: প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই
দেওয়া তথ্য জাতীয় ডাটাবেজের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়।
ধাপ ৪: আবেদন সাবমিট
সব তথ্য সঠিক হলে আবেদন সাবমিট করুন এবং একটি আবেদন নম্বর সংরক্ষণ করুন।
মাতৃত্বকালীন ভাতা আবেদনের জন্য যেসব তথ্য লাগবে
-
জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) ।
-
মোবাইল নম্বর (নিজের নামে হলে ভালো) ।
-
সন্তানের তথ্য (যদি থাকে) ।
-
ব্যাংক/মোবাইল ব্যাংকিং তথ্য ।
-
ঠিকানা ও ইউনিয়ন পরিষদের তথ্য ।
মাতৃত্বকালীন ভাতা আবেদন বাতিল হওয়ার কারণ
অনেক সময় আবেদন বাতিল হয়ে যায়। এর সাধারণ কারণগুলো হলো—
-
ভুল NID নম্বর দেওয়া ।
-
একাধিক ভাতা গ্রহণ করা ।
-
আয় সংক্রান্ত ভুল তথ্য ।
-
ভুয়া বা অসম্পূর্ণ তথ্য ।
-
যোগ্যতা পূরণ না হওয়া ।
👉 তাই আবেদন করার সময় সব তথ্য শতভাগ সঠিক দিতে হবে।
মাতৃত্বকালীন ভাতা আবেদন স্ট্যাটাস কিভাবে জানবেন?
আবেদন সাবমিট করার পর—
-
অনলাইন পোর্টালে লগইন করে ।
-
অথবা স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ/মহিলা বিষয়ক অফিসে যোগাযোগ করে
আবেদন স্ট্যাটাস জানা যায়।
মাতৃত্বকালীন ভাতার সুবিধাসমূহ
-
গর্ভবতী নারীর পুষ্টি নিশ্চিত ।
-
চিকিৎসা ব্যয় বহনে সহায়তা ।
-
পরিবারে আর্থিক স্বস্তি ।
-
মা ও শিশুর স্বাস্থ্য উন্নয়ন ।
-
সামাজিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি ।
প্রশ্ন ও উত্তর
❓ মাতৃত্বকালীন ভাতা অনলাইনে আবেদন করা কি বাধ্যতামূলক?
✔️ না, তবে অনলাইন আবেদন করলে প্রক্রিয়া দ্রুত হয়।
❓ একাধিক সন্তান থাকলে কি একাধিকবার ভাতা পাওয়া যাবে?
✔️ সাধারণত প্রথম সন্তানের জন্যই এই ভাতা দেওয়া হয়।
❓ ভাতা পেতে কত সময় লাগে?
✔️ আবেদন যাচাই শেষে কয়েক মাসের মধ্যে ভাতা চালু হয়।
❓ মোবাইল দিয়ে আবেদন করা যাবে?
✔️ হ্যাঁ, স্মার্টফোন দিয়ে অনলাইন আবেদন করা যায়।
❓ ভাতা কোন মাধ্যমে পাওয়া যায়?
✔️ ব্যাংক একাউন্ট বা বিকাশ/নগদের মাধ্যমে।
উপসংহার
মাতৃত্বকালীন ভাতা অনলাইন আবেদন ব্যবস্থা চালু হওয়ায় বাংলাদেশের হাজার হাজার দরিদ্র নারী উপকৃত হচ্ছেন। সঠিক তথ্য দিয়ে সময়মতো আবেদন করলে সহজেই এই সরকারি সহায়তা পাওয়া সম্ভব। আপনি বা আপনার পরিচিত কেউ যদি যোগ্য হন, তাহলে দেরি না করে দ্রুত আবেদন করুন।
সরকারের এই উদ্যোগ মাতৃত্বকে নিরাপদ ও সম্মানজনক করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
আরও পড়ুন-ভোটার আইডি কার্ড অনলাইন কপি ডাউনলোড(আপডেট)
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔









