বাংলাদেশের চা-শ্রমিকরা দীর্ঘদিন ধরে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। অথচ জীবনযাত্রার মান, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা সুবিধার দিক থেকে তারা এখনো পিছিয়ে। এই বাস্তবতা বিবেচনা করে বাংলাদেশ সরকার সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় “চা-শ্রমিক ভাতা” চালু করেছে।
বর্তমানে এই ভাতার জন্য অনলাইনে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে, যার মাধ্যমে চা-বাগানে কর্মরত শ্রমিকরা ঘরে বসেই আবেদন করতে পারছেন।
আরও পড়ুন-২০২৬ HSC ফরম পূরণের নতুন তারিখ ঘোষণা
চা-শ্রমিক ভাতা কী?
চা-শ্রমিক ভাতা হলো বাংলাদেশ সরকারের একটি বিশেষ আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি, যা চা-বাগানে কর্মরত শ্রমিক ও তাদের পরিবারের জীবনমান উন্নয়নের উদ্দেশ্যে প্রদান করা হয়।
এই ভাতা মূলত দেওয়া হয়—
-
নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচে সহায়তা করতে ।
-
দরিদ্র চা-শ্রমিক পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ।
-
সামাজিক বৈষম্য কমাতে ।
কারা চা-শ্রমিক ভাতা পাবে? (যোগ্যতা)
চা-শ্রমিক ভাতার জন্য আবেদন করতে হলে সাধারণত নিচের শর্তগুলো পূরণ করতে হয়—
✅ আবেদনকারীকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে ।
✅ অবশ্যই চা-বাগানে কর্মরত শ্রমিক হতে হবে ।
✅ জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) থাকতে হবে ।
✅ একই সময়ে অন্য কোনো সরকারি নিয়মিত ভাতা গ্রহণ না করা ।
✅ মোবাইল ব্যাংকিং বা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে ।
📌 বিশেষ দ্রষ্টব্য: সরকার প্রয়োজন অনুযায়ী যোগ্যতার শর্ত পরিবর্তন করতে পারে।
চা-শ্রমিক ভাতা কত টাকা?
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চা-শ্রমিক ভাতা সাধারণত—
-
মাসিক নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা ।
-
অথবা নির্দিষ্ট সময় পরপর (চক্রভিত্তিক) প্রদান করা হয় ।
ভাতার পরিমাণ ও সময়সীমা অর্থবছরভেদে পরিবর্তিত হতে পারে।
চা-শ্রমিক ভাতা অনলাইন আবেদন করার নিয়ম (ধাপে ধাপে)
✅ ধাপ ১: অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রবেশ
চা-শ্রমিক ভাতার আবেদন নেওয়া হয় সমাজসেবা অধিদপ্তর (DSS)-এর মাধ্যমে।
👉 অফিসিয়াল ভাতা আবেদন পোর্টাল:
https://dss.bhata.gov.bd
✅ ধাপ ২: “চা-শ্রমিক ভাতা” নির্বাচন
ভাতা তালিকা থেকে Tea Worker Allowance / চা-শ্রমিক ভাতা অপশনটি নির্বাচন করুন।
✅ ধাপ ৩: ব্যক্তিগত তথ্য পূরণ
আবেদন ফর্মে দিতে হবে—
-
নাম (NID অনুযায়ী) ।
-
জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ।
-
জন্ম তারিখ ।
-
মোবাইল নম্বর ।
-
জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন ।
-
চা-বাগানের নাম ।
-
ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং তথ্য ।
⚠️ সব তথ্য অবশ্যই সঠিক ও মিল রেখে দিতে হবে।
✅ ধাপ ৪: ফর্ম সাবমিট
-
সব তথ্য যাচাই করে Submit বাটনে ক্লিক করুন ।
-
সাবমিট হলে একটি Tracking ID পাবেন ।
-
এই Tracking ID সংরক্ষণ করে রাখুন ।
আবেদন করার পর টাকা কিভাবে পাবেন?
চা-শ্রমিক ভাতার টাকা সাধারণত দুইভাবে দেওয়া হয়—
১. মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে
যেমন—
-
bKash ।
-
Nagad ।
-
Rocket ।
👉 আবেদন অনুমোদিত হলে টাকা সরাসরি আপনার মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে জমা হবে।
২. ব্যাংক অ্যাকাউন্টে
-
আবেদন ফর্মে দেওয়া ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠানো হবে ।
-
ATM বা ব্যাংক শাখা থেকে টাকা তুলতে পারবেন ।
কতদিনে টাকা পাওয়া যায়?
-
আবেদন যাচাই ও অনুমোদনে সাধারণত কয়েক সপ্তাহ সময় লাগে ।
-
অনুমোদনের পর নির্ধারিত সময় অনুযায়ী টাকা দেওয়া হয় ।
-
নিয়মিত ভাতা হলে মাসে একবার টাকা আসে ।
আবেদন স্ট্যাটাস কিভাবে চেক করবেন?
-
DSS ভাতা পোর্টালে প্রবেশ করুন ।
-
Tracking ID ব্যবহার করে Application Status চেক করুন ।
-
এখানে দেখবেন: Pending / Approved / Rejected ।
গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
-
ভুল NID বা মোবাইল নম্বর দিলে আবেদন বাতিল হতে পারে ।
-
একাধিক ভাতার জন্য আবেদন করলে সমস্যা হতে পারে ।
-
দালাল বা ভুয়া ওয়েবসাইট থেকে সাবধান থাকুন ।
-
শুধুমাত্র সরকারি ওয়েবসাইট ব্যবহার করুন ।
প্রশ্নোত্তর
❓ চা-শ্রমিক ভাতা কি সবাই পাবে?
👉 না, শুধুমাত্র যোগ্য চা-বাগান শ্রমিকরাই পাবে।
❓ আবেদন বাতিল হলে আবার আবেদন করা যাবে?
👉 হ্যাঁ, পরবর্তী সময়সীমায় সঠিক তথ্য দিয়ে আবার আবেদন করা যাবে।
❓ টাকা না এলে কোথায় যোগাযোগ করবো?
👉 উপজেলা সমাজসেবা অফিস বা DSS অফিসে যোগাযোগ করতে হবে।
❓ মোবাইল ব্যাংকিং না থাকলে কি হবে?
👉 ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা যাবে।
উপসংহার
চা-শ্রমিক ভাতা চা-বাগানে কর্মরত শ্রমিকদের জন্য সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক নিরাপত্তা উদ্যোগ। সঠিক তথ্য দিয়ে অনলাইনে আবেদন করলে ঘরে বসেই ভাতার টাকা পাওয়া সম্ভব। তাই আবেদন করার সময় ভুল না করে ধাপে ধাপে নিয়ম মেনে আবেদন করাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
আরও পড়ুন-ভাতা অনলাইন আবেদন ২০২৬: সম্পূর্ণ গাইড
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔


