বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বিমান চলাচল খাতেও যুক্ত হচ্ছে নতুন নতুন উদ্ভাবন। সেই ধারাবাহিকতায় এবার বিমানবন্দরের কাজে মানবাকৃতির রোবট ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে Japan Airlines। কর্মীদের কাজের চাপ কমানো এবং দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
জানা গেছে, প্রথম পর্যায়ে দুই বছরের পরীক্ষামূলক প্রকল্প হিসেবে টোকিওর Haneda Airport-এ এই রোবট ব্যবহার করা হবে। ইতোমধ্যে প্রকল্পের অংশীদার GMO AI & Robotics প্রযুক্তিটি গণমাধ্যমের সামনে প্রদর্শন করেছে।
আরও পড়ুন-হাতের রেখা দেখে ভবিষ্যৎ বলছে এআই চ্যাটজিপিটির নতুন ট্রেন্ডে চাঞ্চল্য
প্রাথমিকভাবে এসব মানবাকৃতির রোবট কার্গো কনটেইনার লোডিং ও আনলোডিংয়ের মতো শারীরিক পরিশ্রমের কাজ করবে। আগামী মে মাস থেকে এই কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জাপানের বিমান চলাচল খাতে বর্তমানে বড় একটি চ্যালেঞ্জ হলো শ্রমিক সংকট। দেশটিতে কর্মক্ষম জনসংখ্যা কমে যাওয়া এবং পর্যটকের সংখ্যা বাড়ার কারণে বিমানবন্দরগুলোর ওপর চাপ বেড়েছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম দুই মাসেই জাপানে ৭০ লাখের বেশি বিদেশি পর্যটক ভ্রমণ করেছেন। ফলে বিমানবন্দর পরিচালনায় দক্ষতা বাড়াতে প্রযুক্তির ব্যবহার এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে মানবাকৃতির রোবট ব্যবহারের সিদ্ধান্তকে যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ভারী কাজগুলোতে রোবট ব্যবহার করলে কর্মীদের শারীরিক চাপ কমবে এবং কাজের গতি বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
Tomohiro Uchida জানিয়েছেন, বিমানবন্দর বাইরে থেকে যতটা স্বাভাবিক মনে হয়, ভেতরে কাজের চাপ ততটাই বেশি। এই চাপ সামাল দিতে রোবট বড় সহায়ক হতে পারে।
অন্যদিকে Yoshiteru Suzuki বলেন, নিরাপত্তা ও সংবেদনশীল দায়িত্বগুলো এখনো মানুষের হাতেই থাকবে। তবে অন্যান্য সহায়ক কাজে রোবট ব্যবহারের সুযোগ অনেক বেশি।
বর্তমানে জাপানের বিভিন্ন বিমানবন্দরে নিরাপত্তা টহল, গ্রাহকসেবা এবং খুচরা বিক্রির মতো কাজেও রোবট ব্যবহার করা হচ্ছে। নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে সেই ব্যবহারের পরিধি আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভবিষ্যতে এসব রোবট দিয়ে কেবিন পরিষ্কার, লাগেজ হ্যান্ডলিং এবং অন্যান্য গ্রাউন্ড সাপোর্ট কাজও করানো যেতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সব মিলিয়ে, মানবাকৃতির রোবটের এই ব্যবহার বিমান চলাচল খাতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে। প্রযুক্তি ও মানবশক্তির সমন্বয়ে আরও আধুনিক ও কার্যকর বিমানবন্দর গড়ে তোলাই এখন প্রধান লক্ষ্য।
সুত্রঃ BBC
আরও পড়ুন-এআইয়ের স্বাস্থ্য পরামর্শে বড় ঝুঁকি প্রায় অর্ধেক ক্ষেত্রেই ভুল তথ্য
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔








