স্মার্টফোন, ট্যাব কিংবা ল্যাপটপ ব্যবহারের কারণে এখন পাওয়ার ব্যাংক অনেকের নিত্যসঙ্গী। বিশেষ করে দীর্ঘ ভ্রমণ বা বিমানযাত্রায় চার্জ ফুরিয়ে যাওয়ার ভয় থেকে বাঁচতে যাত্রীরা সঙ্গে রাখেন পাওয়ার ব্যাংক। তবে অনেকেই জানেন না, বিমানে পাওয়ার ব্যাংক বহন ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে রয়েছে কঠোর নিয়ম। অসতর্কভাবে ব্যবহার করলে গুনতে হতে পারে বড় অঙ্কের জরিমানা, এমনকি কিছু দেশে হতে পারে জেলও।
বিমান নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারিযুক্ত পাওয়ার ব্যাংক অতিরিক্ত গরম হলে আগুন ধরে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এজন্যই বিশ্বের বেশিরভাগ এয়ারলাইনস ও বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কঠোর নিরাপত্তা নীতিমালা অনুসরণ করে।
আরও পড়ুন-বিমানবন্দরে কাজ করবে মানবাকৃতির রোবট জাপান এয়ারলাইনসের নতুন উদ্যোগ
বর্তমানে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা ICAO এবং আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থা IATA-এর নির্দেশনা অনুযায়ী, পাওয়ার ব্যাংক কখনোই চেক-ইন লাগেজে রাখা যাবে না। এটি অবশ্যই কেবিন ব্যাগ বা হ্যান্ড ক্যারিতে বহন করতে হবে। কারণ কার্গো অংশে আগুন লাগলে তা দ্রুত শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সবচেয়ে বড় ভুলগুলোর একটি হলো বিমানে বসে পাওয়ার ব্যাংক চার্জ দেওয়া বা সিটের নিচে চাপা অবস্থায় রাখা। এতে শর্ট সার্কিট বা অতিরিক্ত তাপ তৈরি হতে পারে। অনেক এয়ারলাইনস সরাসরি পাওয়ার ব্যাংক ব্যবহার সীমিত করেছে।
বিভিন্ন দেশের বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্ধারিত ক্ষমতার বেশি পাওয়ার ব্যাংক বহন করলেও জটিলতায় পড়তে পারেন যাত্রীরা। সাধারণত ১০০Wh পর্যন্ত পাওয়ার ব্যাংক অনুমোদিত হলেও এর বেশি ক্ষমতার ক্ষেত্রে বিশেষ অনুমতি প্রয়োজন হয়।
বিশেষ করে ১৬০Wh-এর বেশি ক্ষমতার পাওয়ার ব্যাংক অধিকাংশ এয়ারলাইনসেই নিষিদ্ধ। নিয়ম ভঙ্গ করলে বিমানবন্দরে ডিভাইস জব্দ, মোটা অঙ্কের জরিমানা কিংবা আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
সম্প্রতি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিমানে পাওয়ার ব্যাংক থেকে আগুন লাগার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে অনেক এয়ারলাইনস নিরাপত্তা নীতিমালা আরও কঠোর করেছে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, বিমানে ভ্রমণের সময় কিছু সতর্কতা অবশ্যই মেনে চলা উচিত।
প্রথমত, সবসময় ব্র্যান্ডেড এবং মানসম্মত পাওয়ার ব্যাংক ব্যবহার করা উচিত। নিম্নমানের বা নকল ব্যাটারি বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।
দ্বিতীয়ত, পাওয়ার ব্যাংককে সরাসরি রোদ, অতিরিক্ত চাপ বা গরম জায়গা থেকে দূরে রাখতে হবে।
তৃতীয়ত, বিমানে বসে পাওয়ার ব্যাংক চার্জে লাগানো বা দীর্ঘসময় ব্যবহার না করাই ভালো।
এছাড়া ব্যাগে রাখার সময় পাওয়ার ব্যাংকের পোর্ট ঢেকে রাখা নিরাপদ, যাতে ধাতব বস্তুর সংস্পর্শে এসে শর্ট সার্কিট না হয়।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, স্মার্ট ডিভাইসের যুগে পাওয়ার ব্যাংক প্রয়োজনীয় হলেও নিরাপত্তা নিয়ম না জানলে এটি বড় বিপদের কারণ হতে পারে।
সব মিলিয়ে, বিমানে পাওয়ার ব্যাংক ব্যবহারের আগে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসের নিয়ম জেনে নেওয়া এবং নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলাই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সুত্রঃ আন্তর্জাতিক বিমান নিরাপত্তা নির্দেশিকা
আরও পড়ুন-বাংলাদেশে হোম অ্যাপ্লায়েন্স পণ্য আনল শাওমি, স্মার্ট লাইফস্টাইলে নতুন সংযোজন
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔







