ভোটার আইডি কার্ড বা জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য একটি অপরিহার্য সরকারি নথি। এই কার্ডের মাধ্যমে পাসপোর্ট তৈরি, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, চাকরিতে আবেদন, মোবাইল সিম রেজিস্ট্রেশনসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ সেবা গ্রহণ করা হয়। তবে অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, ভোটার আইডি কার্ডে নামের বানান ভুল, অসম্পূর্ণ নাম অথবা বাংলা ও ইংরেজি নামের মধ্যে অসামঞ্জস্য রয়েছে।
এ ধরনের ভুল নামের কারণে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি কাজে জটিলতা তৈরি হয়। এসব সমস্যা সমাধানের জন্য বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন অনলাইনে ভোটার আইডি কার্ড নাম সংশোধনের সুযোগ চালু রেখেছে। ২০২৬ সালের হালনাগাদ ব্যবস্থায় ঘরে বসেই সহজভাবে নাম সংশোধনের আবেদন করা সম্ভব।
আরও পড়ুন-অনলাইনে ভোটার আইডি কার্ডে জন্ম তারিখ সংশোধনের নিয়ম ২০২৬(আপডেট)
ভোটার আইডি কার্ডে নাম সংশোধনের প্রয়োজন কেন
ভোটার আইডি কার্ডে নাম সংশোধনের প্রয়োজন সাধারণত যেসব কারণে হয়ে থাকে—
-
নামের বানান ভুল থাকা।
-
পূর্ণ নামের পরিবর্তে সংক্ষিপ্ত নাম থাকা।
-
বাংলা ও ইংরেজি নামের মধ্যে অমিল।
-
জন্ম নিবন্ধন বা শিক্ষাগত সনদের সাথে নাম না মেলা।
-
বিয়ের পর নাম পরিবর্তনের প্রয়োজন।
-
ডাটা এন্ট্রির সময় টাইপিং ভুল।
এই সমস্যাগুলো দীর্ঘমেয়াদে নাগরিক সেবা গ্রহণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।
২০২৬ সালে নাম সংশোধন ব্যবস্থায় কী পরিবর্তন এসেছে
২০২৬ সালে ভোটার আইডি সংশোধন ব্যবস্থায় কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আপডেট আনা হয়েছে—
-
অনলাইন আবেদন ফরম আরও সহজ করা হয়েছে।
-
ডকুমেন্ট যাচাই প্রক্রিয়া শক্তিশালী করা হয়েছে।
-
অযৌক্তিক নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কঠোরতা বাড়ানো হয়েছে।
-
আবেদন ট্র্যাকিং সিস্টেম উন্নত করা হয়েছে।
ফলে সঠিক কাগজপত্র থাকলে আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তি হচ্ছে।
ভোটার আইডি কার্ডে নাম সংশোধনের ধরন
নাম সংশোধন সাধারণত দুই ধরনের হয়ে থাকে—
১. সাধারণ বা ছোট সংশোধন
-
বানান ভুল সংশোধন
-
একটি বা দুটি অক্ষরের পরিবর্তন
-
বাংলা বা ইংরেজি নামের সামান্য সংশোধন
২. বড় ধরনের সংশোধন
-
পুরো নাম পরিবর্তন
-
নামের গঠন পরিবর্তন
-
নতুন নাম সংযোজন বা বাদ দেওয়া
বড় ধরনের সংশোধনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত যাচাই করা হয়।
নাম সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
আবশ্যক ডকুমেন্ট:
-
জন্ম নিবন্ধন সনদ (অনলাইন কপি)।
-
ভোটার আইডি কার্ডের কপি।
-
এসএসসি বা সমমানের সনদ (থাকলে)।
-
আবেদনকারীর ছবি।
বিশেষ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ডকুমেন্ট:
-
নিকাহনামা বা বিবাহ নিবন্ধন সনদ (বিয়ের পর নাম পরিবর্তনে)।
-
হলফনামা (প্রয়োজন হলে)।
-
পাসপোর্ট (যদি থাকে)।
সব ডকুমেন্টে নামের বানান অবশ্যই একই হতে হবে।
অনলাইনে ভোটার আইডি কার্ড নাম সংশোধনের নিয়ম
ধাপ ১: NID Application System–এ প্রবেশ
প্রথমে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের অফিসিয়াল এনআইডি সেবার ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।
🔗 URL: https://services.nidw.gov.bd
এখানে প্রবেশ করার পর উপরের ডান পাশে লগইন অপশন দেখতে পাবেন।
ধাপ ২: এনআইডি অ্যাকাউন্টে লগইন
নিজের এনআইডি নম্বর ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে লগইন করুন।
লগইন সফল হলে ড্যাশবোর্ডে নিচের মেনুগুলো দেখা যাবে—
-
হোম
-
প্রোফাইল
-
রিভিউ
👉 এখানে “প্রোফাইল” অপশনে ক্লিক করুন।
ধাপ ৩: প্রোফাইল পেজে এডিট অপশন নির্বাচন
প্রোফাইল পেজে প্রবেশ করার পর ডান পাশে একটি নীল রঙের “এডিট” বাটন দেখা যাবে।
👉 জন্ম তারিখ সংশোধনের জন্য এই এডিট বাটনে ক্লিক করতে হবে।
ধাপ ৪: ব্যক্তিগত তথ্য ট্যাব নির্বাচন
এডিট মোডে প্রবেশ করার পর নিচে তিনটি ট্যাব দেখা যাবে—
-
ব্যক্তিগত তথ্য
-
অন্যান্য তথ্য
-
ঠিকানা
এডিট মোডে গিয়ে “ব্যক্তিগত তথ্য” ট্যাব নির্বাচন করুন। এখানেই নাম সংশোধনের অপশন থাকে।
ধাপ ৫: নাম সংশোধনের তথ্য প্রদান
এখন—
-
সঠিক বাংলা নাম লিখুন।
-
সঠিক ইংরেজি নাম লিখুন।
-
সংশোধনের কারণ নির্বাচন করুন।
⚠️ জন্ম নিবন্ধন ও শিক্ষাগত সনদের সাথে মিল রেখে নাম লিখতে হবে।
ধাপ ৬: প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট আপলোড
নাম সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র স্ক্যান করে আপলোড করুন। ডকুমেন্ট পরিষ্কার ও স্পষ্ট হতে হবে।
ধাপ ৭: আবেদন সাবমিট
সব তথ্য যাচাই করে সাবমিট বাটনে ক্লিক করুন।
সফলভাবে আবেদন জমা হলে একটি আবেদন নম্বর পাওয়া যাবে।
এই নম্বরটি ভবিষ্যতে স্ট্যাটাস চেকের জন্য সংরক্ষণ করুন।
অফলাইনে নাম সংশোধনের নিয়ম
যারা অনলাইনে আবেদন করতে অক্ষম, তারা—
-
উপজেলা নির্বাচন অফিস
-
জেলা নির্বাচন অফিস
সরাসরি গিয়ে নির্ধারিত ফরম পূরণ করে আবেদন করতে পারবেন।
নাম সংশোধনে কত সময় লাগে
সাধারণত—
-
ছোট সংশোধন: ১৫–৩০ কার্যদিবস
-
বড় সংশোধন: ৩০–৬০ কার্যদিবস
ডকুমেন্ট যাচাইয়ের ওপর সময় নির্ভর করে।
আবেদন বাতিল হওয়ার সাধারণ কারণ
অনেক সময় নাম সংশোধনের আবেদন বাতিল হয় যেসব কারণে—
-
জন্ম নিবন্ধনের সাথে নামের অমিল
-
অস্পষ্ট বা ভুয়া ডকুমেন্ট
-
অযৌক্তিক বড় নাম পরিবর্তন
-
বারবার সংশোধনের চেষ্টা
এসব বিষয় এড়ালে আবেদন সফল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
FAQ – প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
প্রশ্ন ১: অনলাইনে ভোটার আইডি কার্ডের নাম সংশোধন করা যায়?
উত্তর: হ্যাঁ, নির্বাচন কমিশনের এনআইডি সেবার মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করা যায়।
প্রশ্ন ২: নাম সংশোধনে কি কোনো ফি লাগে?
উত্তর: সাধারণত কোনো সরকারি ফি নেই।
প্রশ্ন ৩: একবারের বেশি নাম সংশোধন করা যায়?
উত্তর: সাধারণত একবারই অনুমোদন দেওয়া হয়।
প্রশ্ন ৪: আবেদন বাতিল হলে কী করবো?
উত্তর: ত্রুটি সংশোধন করে পুনরায় আবেদন বা নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করতে হবে।
প্রশ্ন ৫: নাম সংশোধনের পর নতুন এনআইডি কপি কীভাবে পাবো?
উত্তর: অনলাইন থেকে ডাউনলোড করা যাবে বা স্মার্ট এনআইডি সংগ্রহ করা যাবে।
উপসংহার
ভোটার আইডি কার্ডে ভুল নাম থাকলে নাগরিক সেবা গ্রহণে নানা জটিলতা দেখা দেয়। ২০২৬ সালের হালনাগাদ অনলাইন ব্যবস্থায় ঘরে বসেই সহজভাবে ভোটার আইডি কার্ড নাম সংশোধনের আবেদন করা সম্ভব। সঠিক তথ্য ও নির্ভুল কাগজপত্র দিয়ে আবেদন করলে দ্রুত ও ঝামেলামুক্তভাবে নাম সংশোধন করা যায়।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
আরও পড়ুন-ভোটার আইডি কার্ড অনলাইন কপি ডাউনলোড(আপডেট)
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔









