বর্তমান সময়ে মোবাইল সিম আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। ব্যাংকিং, বিকাশ-নগদ, ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ থেকে শুরু করে সরকারি সেবা—সবকিছুতেই মোবাইল নাম্বার দরকার। কিন্তু আপনি কি জানেন, আপনার আইডি কার্ড (NID) দিয়ে কয়টি সিম কার্ড রেজিস্ট্রেশন হয়েছে?
অনেক সময় দেখা যায়, অজান্তেই আমাদের NID ব্যবহার করে অতিরিক্ত সিম রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে। এতে করে ভবিষ্যতে আইনি ঝামেলা, প্রতারণা বা ডিজিটাল সিকিউরিটির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই প্রত্যেক বাংলাদেশি নাগরিকেরই জানা উচিত—নিজের আইডি কার্ড দিয়ে কতগুলো সিম নিবন্ধিত আছে এবং কীভাবে তা চেক করবেন।
আর পড়ুন- মোবাইল সিম হারিয়ে গেলে বা ব্যবহার না করলে কীভাবে সিম বন্ধ করবেন?
আইডি কার্ড দিয়ে কয়টি সিম রেজিস্ট্রেশন হয়েছে জানার উপায়
বাংলাদেশে বর্তমানে ২টি অফিসিয়াল পদ্ধতিতে এই তথ্য জানা যায়—
১. SMS এর মাধ্যমে সিম চেক করার নিয়ম (সবচেয়ে সহজ)
এটি সবচেয়ে জনপ্রিয় ও দ্রুত পদ্ধতি।
🔹 যেভাবে করবেন:
-
আপনার যেকোনো মোবাইল থেকে মেসেজ অপশনে যান
-
লিখুন:
Koyti SIM -
পাঠান: 26969 নাম্বারে
📌 কিছুক্ষণের মধ্যেই আপনি একটি রিপ্লাই মেসেজ পাবেন, যেখানে উল্লেখ থাকবে—
-
আপনার NID দিয়ে মোট কয়টি সিম রেজিস্ট্রেশন হয়েছে ।
-
কোন কোন অপারেটরের সিম (Grameenphone, Robi, Banglalink, Teletalk) ।
👉 নোট: এই সার্ভিসটি সম্পূর্ণ ফ্রি।
২. অনলাইনে ওয়েবসাইটের মাধ্যমে চেক করার নিয়ম
যারা স্মার্টফোন বা কম্পিউটার ব্যবহার করেন, তাদের জন্য এটি সুবিধাজনক।
🔹 ধাপসমূহ:
-
একটি ব্রাউজার খুলুন ।
-
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (BTRC) অফিসিয়াল সিম চেক পোর্টালে যান ।
-
আপনার NID নাম্বার ও জন্মতারিখ দিন ।
-
OTP ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করুন ।
-
স্ক্রিনে দেখতে পাবেন আপনার নামে রেজিস্ট্রেশন হওয়া সব সিম ।
📌 এখানে অপারেটরভিত্তিক সিম সংখ্যা আলাদাভাবে দেখানো হয়।
আইডি কার্ড দিয়ে কতটি সিম রাখা আইনসম্মত?
BTRC নিয়ম অনুযায়ী—
-
একজন ব্যক্তির নামে সর্বোচ্চ ১৫টি সিম কার্ড রেজিস্ট্রেশন করা যাবে ।
-
এর বেশি হলে অতিরিক্ত সিম অবৈধ হিসেবে গণ্য হবে ।
যদি আপনার নামে ১৫টির বেশি সিম থাকে, তাহলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
অপ্রয়োজনীয় বা অপরিচিত সিম থাকলে কী করবেন?
যদি দেখেন এমন কোনো সিম আছে যেটা আপনি ব্যবহার করেন না—
করণীয়:
-
নিকটস্থ কাস্টমার কেয়ার সেন্টারে যান ।
-
NID কার্ডের মূল কপি সাথে রাখুন ।
-
সংশ্লিষ্ট অপারেটরকে জানিয়ে সিম বন্ধ করে দিন ।
👉 এটি আপনার ডিজিটাল নিরাপত্তার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশে একজন নাগরিক সর্বোচ্চ কয়টি সিম রাখতে পারে?
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (BTRC) অনুযায়ী—
-
একজন ব্যক্তির নামে সর্বোচ্চ ১৫টি সিম কার্ড রেজিস্ট্রেশন করা যাবে ।
-
এর বেশি হলে অতিরিক্ত সিম অবৈধ হিসেবে ধরা হয় ।
যদি দেখেন আপনার নামে ১৫টির বেশি সিম আছে, তাহলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
কেন নিয়মিত সিম চেক করা জরুরি?
-
প্রতারণা থেকে বাঁচতে ।
-
ফেক ফেসবুক/অনলাইন অপরাধ এড়াতে ।
-
আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ।
-
সরকারি যেকোনো তদন্তে ঝামেলা এড়াতে ।
বাংলাদেশে অনেক অপরাধমূলক কাজেই ভুয়া বা অতিরিক্ত সিম ব্যবহৃত হয়—যার দায় আপনার উপরও পড়তে পারে।
কোন কোন অপারেটরের সিম চেক হয়?
এই পদ্ধতিতে সব অপারেটরের সিম দেখা যায়—
-
Grameenphone
-
Robi
-
Banglalink
-
Teletalk
-
Airtel
সব তথ্য একসাথেই পাওয়া যায়।
প্রশ্ন ও উত্তর
❓ আইডি কার্ড দিয়ে সিম চেক করতে খরচ আছে?
না, SMS ও অনলাইন—দুটোই সম্পূর্ণ ফ্রি।
❓ অন্যের মোবাইল দিয়ে কি চেক করা যাবে?
হ্যাঁ, তবে NID মালিকের তথ্য ও OTP দরকার হবে।
❓ বিদেশে থাকলেও কি সিম চেক করা যায়?
হ্যাঁ, অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে সম্ভব।
❓ ভুল সিম থাকলে কি নিজে নিজে বন্ধ হবে?
না, কাস্টমার কেয়ারে গিয়ে বন্ধ করতে হবে।
উপসংহার
আইডি কার্ড দিয়ে কয়টি সিম রেজিস্ট্রেশন হয়েছে তা জানা এখন আর কঠিন কিছু নয়। মাত্র একটি SMS অথবা অনলাইন চেকের মাধ্যমেই আপনি আপনার নামে থাকা সব সিমের তথ্য জানতে পারবেন। নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত সিম চেক করা অভ্যাসে পরিণত করুন।
ডিজিটাল বাংলাদেশে নিরাপদ থাকতে হলে সচেতনতা সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
আরও পড়ুন-মাত্র ৫ মিনিটে মোবাইল সিম বন্ধ করার সহজ উপায়(আপডেট)
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔


