বর্তমান সময়ে মোবাইল ব্যাংকিং বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের জীবনের একটি অপরিহার্য অংশ। পরিবারে টাকা পাঠানো, জরুরি লেনদেন, ব্যবসার হিসাব—all কিছু এখন শুধু মোবাইল ফোনেই সম্পন্ন করা যায়। এই প্রক্রিয়ার মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম হলো বিকাশ (bKash)।
২০২৬ সালে ঘরে বসে বিকাশ একাউন্ট খোলা এখন আগের চেয়ে অনেক সহজ। আর্থিক লেনদেনের জন্য ব্যাংক বা শাখায় যাওয়া প্রয়োজন নেই, শুধু আপনার মোবাইল, ইন্টারনেট এবং আইডেন্টিটি ডকুমেন্ট থাকলেই কাজ সম্পন্ন। এই পোস্টে আমরা আপনাদের ধাপে ধাপে জানাবো কিভাবে ঘরে বসেই বিকাশ একাউন্ট খুলবেন, কি কি প্রয়োজন, খরচ কত হতে পারে, এবং ব্যবহার সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য।
আর পড়ুন- আইডি কার্ড দিয়ে কয়টি সিম রেজিস্ট্রেশন হয়েছে? ১ মিনিটেই জানুন সহজ উপায়
বিকাশ একাউন্ট: ঘরে বসে খোলার সহজ উপায়
১. বিকাশ অ্যাপ ব্যবহার করে খোলা
বর্তমানে বিকাশ অ্যাপ ব্যবহার করেই ঘরে বসে একাউন্ট খোলা যায়। প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ অনলাইন এবং নিরাপদ।
প্রয়োজনীয় জিনিস:
-
Android বা iPhone ফোন
-
ইন্টারনেট সংযোগ (Wi-Fi বা Mobile Data)
-
সচল মোবাইল নম্বর (GP, Robi, Banglalink, Teletalk)
-
আইডি ডকুমেন্ট (NID, পাসপোর্ট বা ড্রাইভিং লাইসেন্স)
ধাপগুলো:
-
Google Play বা App Store থেকে bKash অ্যাপ ডাউনলোড করুন।
-
অ্যাপ খুলে “Register / Sign Up” বাটনে ক্লিক করুন।
-
মোবাইল নম্বর দিন এবং OTP ভেরিফাই করুন।
-
আপনার নাম, ঠিকানা, জন্মতারিখ পূরণ করুন।
-
আইডি ডকুমেন্ট স্ক্যান বা ছবি আপলোড করুন।
-
যাচাইকরণের জন্য সেলফি তুলুন।
-
২৪–৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অ্যাকাউন্ট চালু হবে।
✅ একবার একাউন্ট যাচাই হয়ে গেলে PIN সেট করে বিকাশের সব ফিচার ব্যবহার করা যাবে।
২. বিকাশ একাউন্ট খোলার শর্তাবলী
-
আপনার NID বা বৈধ ডকুমেন্ট থাকতে হবে।
-
এক NID-তে শুধু একটি বিকাশ একাউন্ট খোলা যাবে।
-
মোবাইল নম্বর অবশ্যই বাংলাদেশে রেজিস্টার্ড হতে হবে।
-
অ্যাপের মাধ্যমে একাউন্ট খোলার সময় কোন ফি প্রযোজ্য হয় না।
৩. বিকাশ একাউন্ট খোলার সুবিধা
-
পরিবার ও বন্ধুকে টাকা পাঠানো ঘরে বসেই সম্ভব।
-
ব্যবসায়িক লেনদেন সহজ: ছোট দোকান বা অনলাইন ব্যবসার জন্য বিকাশ সুবিধাজনক।
-
বিনা ব্যাংক ভ্রমণ: ব্যাংকে গিয়ে ফি বা সময় নষ্ট করতে হবে না।
-
সেলফ সার্ভিস: নিজের ফোন থেকেই লেনদেন ও ব্যালেন্স চেক করা যাবে।
৪. বিকাশ সেন্ড মানি খরচ ২০২৬
প্রিয় নাম্বারে সেন্ড মানি:
-
মাসে ২৫,০০০ টাকা পর্যন্ত ফ্রি।
-
২৫,০০০–৫০,০০০ টাকা: প্রতি লেনদেন ৫ টাকা।
-
৫০,০০০ টাকার বেশি: প্রতি লেনদেন ১০ টাকা।
প্রিয় নাম্বার ছাড়া সেন্ড মানি:
-
২৫,০০০ টাকা পর্যন্ত: প্রতি লেনদেন ৫ টাকা।
-
২৫,০০০ টাকার বেশি: প্রতি লেনদেন ১০ টাকা।
🔹 MFS-to-MFS ইন্টারঅপারেবিলিটি অনুযায়ী: ৮.৫ টাকা প্রতি ১,০০০ টাকা পর্যন্ত।
কারা বিকাশ একাউন্ট খুলতে পারবে
বয়সের শর্ত
-
১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী নাগরিক বিকাশ একাউন্ট খুলতে পারবে।
-
১৮ বছরের নিচের কোনো ব্যক্তি নিজের নামে একাউন্ট খুলতে পারবে না।
-
তবে ১৮ বছরের নিচের ব্যক্তি অভিভাবকের অনুমতি এবং নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে খোলা সম্ভব, যা বিকাশ অফিসিয়াল নিয়ম অনুযায়ী।
জাতীয় পরিচয়পত্র বা বৈধ পরিচয়পত্র থাকা বাধ্যতামূলক
-
NID (জাতীয় পরিচয়পত্র) থাকা আবশ্যক।
-
NID না থাকলে বিকল্প হিসেবে পাসপোর্ট বা ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যবহার করা যেতে পারে।
-
পরিচয়পত্র অবশ্যই বাংলাদেশে বৈধ ও সক্রিয় হতে হবে।
মোবাইল নম্বর
-
বাংলাদেশে রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বর লাগবে।
-
যেকোনো অপারেটর হতে পারে: GP, Robi, Banglalink, Teletalk ইত্যাদি।
-
একাধিক মোবাইল নম্বর দিয়ে একাধিক একাউন্ট খোলা যাবে না।
স্থায়ী ঠিকানা
-
অ্যাকাউন্ট খোলার সময় স্থায়ী ঠিকানা প্রদান করতে হবে।
-
ঠিকানা যাচাইয়ের জন্য বিকাশ কখনো কখনো প্রমাণপত্র চেয়ে নিতে পারে।
যোগ্য নাগরিক
-
শুধুমাত্র বাংলাদেশের নাগরিক বা বৈধ অধিবাসী বিকাশ একাউন্ট খুলতে পারবে।
-
বিদেশি নাগরিক বা বাংলাদেশে অবৈধ থাকা অবস্থায় একাউন্ট খোলা সম্ভব নয়।
একাধিক মোবাইল নম্বর দিয়ে কি একাউন্ট খোলা যাবে?
না, একাধিক মোবাইল নম্বর দিয়ে বিকাশ একাউন্ট খোলা যাবে না।
বিস্তারিত ব্যাখ্যা:
-
প্রতি জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বা বৈধ পরিচয়পত্রে কেবল একটি একাউন্ট অনুমোদিত।
-
অর্থাৎ আপনার NID দিয়ে একবার একাউন্ট খুললে আরেকটি মোবাইল নম্বর দিয়ে নতুন একাউন্ট খোলা যাবে না।
-
-
একাধিক মোবাইল নম্বর ব্যবহার করলে ফ্রজ বা রিজেকশন হতে পারে।
-
বিকাশের সিস্টেম একই NID-কে একাধিক মোবাইল নম্বরের সাথে সংযুক্ত করতে দেয় না।
-
যদি কেউ চেষ্টা করে, তবে অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশন বা ব্যবহারযোগ্য হবে না।
-
-
যদি নতুন মোবাইল নম্বর ব্যবহার করতে হয়:
-
পূর্বের একাউন্ট বন্ধ করে অ্যাকাউন্ট ডিলিট বা মোবাইল আপডেট করতে হবে।
-
বিকাশ অ্যাপ বা কাস্টমার কেয়ার সাহায্য করতে পারে।
-
✅ সংক্ষেপে: প্রতি ব্যক্তির NID/পরিচয়পত্র অনুযায়ী শুধু একটি বিকাশ একাউন্ট খোলা যাবে।
প্রশ্ন ও উত্তর
Q1: NID ছাড়া কি বিকাশ অ্যাকাউন্ট খোলা যায়?
➡️ হ্যাঁ। পাসপোর্ট বা ড্রাইভিং লাইসেন্স ব্যবহার করে অ্যাকাউন্ট খোলা সম্ভব।
Q2: একাধিক মোবাইল নম্বর দিয়ে কি একাউন্ট খোলা যাবে?
➡️ না। প্রতিটি NID-তে শুধুমাত্র একটি একাউন্ট অনুমোদিত।
*Q3: অ্যাপ এবং 247# থেকে লেনদেনের ফি কি আলাদা?
➡️ সাধারণত একই ফি। অফার বা সময়ভিত্তিক ফি ভিন্ন হতে পারে।
Q4: ঘরে বসে একাউন্ট খোলার জন্য কোন ইন্টারনেট ভালো?
➡️ Wi-Fi বা Mobile Data যে কোনওটি ব্যবহার করা যাবে, কিন্তু স্থিতিশীল সংযোগ ভালো।
উপসংহার
২০২৬ সালে ঘরে বসে বিকাশ একাউন্ট খোলা খুবই সহজ ও নিরাপদ। আপনার মোবাইল, ইন্টারনেট এবং আইডি ডকুমেন্ট থাকলেই আপনি অনলাইনে পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবেন। প্রিয় নাম্বার যুক্ত করলে অনেক লেনদেন ফ্রি বা কম খরচে হবে। বিকাশ শুধু টাকা পাঠানো নয়, বরং ব্যবসা, খরচ এবং অর্থনৈতিক লেনদেনে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
আরও পড়ুন-বাংলাদেশে ২০২৬ সালে জনপ্রিয় মোবাইল ফোন ব্র্যান্ডসমূহ – সম্পূর্ণ তালিকা
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔










