বাংলাদেশে মোবাইল সিম ব্যবহার বর্তমানে দৈনন্দিন জীবনের একটি অপরিহার্য অংশ। ব্যক্তিগত যোগাযোগ, অফিসিয়াল কাজ, ব্যাংকিং, অনলাইন সেবা এবং ডিজিটাল পরিচয়ের সঙ্গে সিম কার্ড সরাসরি জড়িত। এই কারণে সিম রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থাকে নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত রাখতে সরকার নির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করেছে।
সাধারণ ব্যবহারকারীদের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—একটি জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) দিয়ে কয়টি সিম নেওয়া যায়? অনেকেই ব্যক্তিগত, পারিবারিক বা অফিসিয়াল প্রয়োজনে একাধিক সিম ব্যবহার করতে চান। এই প্রতিবেদনে সরকারি নিয়ম, সীমা এবং বাস্তব প্রক্রিয়া সহজভাবে তুলে ধরা হলো।
আরও পড়ুন-মোবাইলের সিম কার্ড কেনায় নতুন নিয়ম জানুন
বাংলাদেশে NID ভিত্তিক সিম নিবন্ধনের নীতিমালা
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (BTRC) সিম রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে NID ও বায়োমেট্রিক যাচাই বাধ্যতামূলক করেছে। এর মাধ্যমে প্রতিটি সিম একটি নির্দিষ্ট পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকে। এতে সাইবার অপরাধ, জালিয়াতি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ সহজ হয় এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়।
এই নীতিমালার মূল উদ্দেশ্য হলো—
-
এক ব্যক্তি যেন সীমাহীন সিম ব্যবহার করতে না পারে।
-
অপরাধমূলক কাজে সিমের অপব্যবহার রোধ করা।
-
গ্রাহকের ডিজিটাল পরিচয় নিরাপদ রাখা।
-
রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কাঠামো শক্তিশালী করা।
এক NID দিয়ে কয়টি সিম নেওয়া যায়
বর্তমান নীতিমালা অনুযায়ী বাংলাদেশে একটি NID দিয়ে সর্বোচ্চ ১৫টি সিম নিবন্ধন করা যায়। এই সীমা সব মোবাইল অপারেটরের (গ্রামীণফোন, রবি, বাংলালিংক, টেলিটক) ক্ষেত্রে সম্মিলিতভাবে প্রযোজ্য। অর্থাৎ আলাদা আলাদা অপারেটরে নয়, মোট মিলিয়ে সর্বোচ্চ ১৫টি সিম রাখা যাবে।
এই সীমা নির্ধারণের উদ্দেশ্য হলো সিম ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা এবং নিরাপত্তা কাঠামো শক্তিশালী করা।
সিম সীমা নির্ধারণের পেছনের কারণ
এক NID-তে সিম সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে কয়েকটি বাস্তব কারণে—
-
অপরাধমূলক কাজে সিমের অপব্যবহার রোধ।
-
ভুয়া পরিচয়ে সিম ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ।
-
ডিজিটাল ট্র্যাকিং ও তদন্ত সহজ করা।
-
জাতীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করা।
-
মোবাইল সেবায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
এতে করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নিয়ন্ত্রক সংস্থার জন্য তথ্য যাচাই সহজ হয়।
নিজের নামে কয়টি সিম আছে তা জানার উপায়
ব্যবহারকারীরা খুব সহজেই জানতে পারেন তাদের NID-তে কয়টি সিম নিবন্ধিত রয়েছে। সাধারণত অপারেটর সার্ভিস বা নির্দিষ্ট সরকারি সিস্টেমের মাধ্যমে—
-
অপারেটর কাস্টমার কেয়ার সেন্টারে গিয়ে।
-
নির্ধারিত USSD কোড ব্যবহার করে।
-
নির্দিষ্ট অনলাইন পোর্টালের মাধ্যমে।
-
জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই সিস্টেম ব্যবহার করে।
এই সেবাগুলোর মাধ্যমে নিজের নামে নিবন্ধিত সিম সংখ্যা যাচাই করা যায়।
সিম সীমা অতিক্রম করলে কী হয়
যদি কোনো ব্যক্তি নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করে সিম নেওয়ার চেষ্টা করেন, তাহলে—
-
নতুন সিম রেজিস্ট্রেশন ব্লক হয়ে যায়।
-
বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন ব্যর্থ হয়।
-
অপারেটর সিস্টেম অনুমোদন দেয় না।
-
অতিরিক্ত সিম নিবন্ধন বাতিল হয়ে যায়।
এক্ষেত্রে পুরোনো অপ্রয়োজনীয় সিম বন্ধ করে নতুন সিম নেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে হয়।
বৈধভাবে একাধিক সিম ব্যবহারের করণীয়
যারা একাধিক সিম ব্যবহার করেন, তাদের জন্য কিছু বাস্তব পরামর্শ—
-
অপ্রয়োজনীয় সিম নিয়মিত বন্ধ করা।
-
নিজের নামে নিবন্ধিত সিম সংখ্যা যাচাই করা।
-
শুধু প্রয়োজনীয় সিম রাখা।
-
ব্যবসায়িক ও ব্যক্তিগত নম্বর আলাদা রাখা।
-
নিয়মিত তথ্য আপডেট রাখা।
এতে সিম ব্যবস্থাপনা সহজ ও নিরাপদ হয়।
প্রশ্ন ও উত্তর
প্রশ্ন ১: এক NID দিয়ে কয়টি সিম নেওয়া যায়?
উত্তর: একটি NID দিয়ে সর্বোচ্চ ১৫টি সিম নেওয়া যায়।
প্রশ্ন ২: এই ১৫টি সিম কি এক অপারেটরের হতে হবে?
উত্তর: না, সব অপারেটর মিলিয়ে মোট ১৫টি সিম।
প্রশ্ন ৩: ১৫টির বেশি সিম থাকলে কী হবে?
উত্তর: অতিরিক্ত সিম বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
প্রশ্ন ৪: আমার নামে কয়টি সিম আছে কীভাবে জানবো?
উত্তর: *16001# ডায়াল করে NID ও জন্মতারিখ দিলে জানা যাবে।
প্রশ্ন ৫: পুরোনো সিম ব্যবহার না করলে কি সমস্যা হয়?
উত্তর: দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকলে সিম বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
উপসংহার
বাংলাদেশে একটি NID দিয়ে সর্বোচ্চ ১৫টি সিম নেওয়ার নিয়ম চালু রয়েছে, যা সিম অপব্যবহার রোধ ও গ্রাহক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। নিজের নামে কতটি সিম আছে তা নিয়মিত চেক করা এবং অপ্রয়োজনীয় সিম ডি-রেজিস্ট্রেশন করা বুদ্ধিমানের কাজ। এতে হঠাৎ সিম বন্ধ হওয়ার ঝামেলা এড়ানো যায় এবং আইনগত ঝুঁকিও কমে।
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
আরও পড়ুন-অনলাইনে সিমের মালিকানা পরিবর্তন ২০২৬ প্রক্রিয়া ও নিয়ম
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔








