আমাদের Telegram চ্যানেলে যুক্ত হোন

বিকাশ লোন শর্ত –কোন লেনদেন করলে কত টাকা লোন পাবেন?

বর্তমান ডিজিটাল বাংলাদেশে মোবাইল ব্যাংকিং ছাড়া দৈনন্দিন জীবন কল্পনাই করা যায় না। এই মোবাইল ব্যাংকিং সেবাগুলোর মধ্যে বিকাশ (bKash) সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়। টাকা পাঠানো, বিল পরিশোধ, রিচার্জ—সবকিছুর পাশাপাশি এখন বিকাশ দিচ্ছে ইনস্ট্যান্ট ডিজিটাল লোন সুবিধা।

কিন্তু অনেক ব্যবহারকারীর মনে একটি প্রশ্ন বারবার আসে—
👉 “বিকাশে কত টাকা লেনদেন করলে লোন পাওয়া যায়?”
👉 “নির্দিষ্ট কোনো অঙ্ক আছে কি?”

আরও পড়ুন-হজ ২০২৬: হজযাত্রীদের যে ৮০ কেন্দ্র থেকেই টিকা নিতে হবে

বিকাশ লোন কী?

বিকাশ লোন মূলত একটি ডিজিটাল মাইক্রো লোন সার্ভিস, যা বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে কিছু নির্দিষ্ট গ্রাহককে অফার করা হয়। এই লোন নিতে কোনো ব্যাংকে যেতে হয় না, কাগজপত্র লাগে না, এমনকি জামিনদারও লাগে না।

এই লোন সুবিধাটি মূলত বিকাশ ও একটি ব্যাংকের যৌথ ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হয় এবং সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে গ্রাহকের যোগ্যতা (Eligibility) নির্ধারণ করা হয়।

বিকাশে কত টাকা লেনদেন করলে লোন পাওয়া যায়?

এটাই এই পোস্টের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

সংক্ষিপ্ত উত্তর:

বিকাশে লোন পাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনো “ফিক্সড টাকা” লেনদেন করার নিয়ম নেই।

বিস্তারিত ব্যাখ্যা:

অনেকে মনে করেন—

  • ১০ হাজার টাকা লেনদেন করলেই লোন আসে ।

  • ২০ হাজার হলে নিশ্চিত লোন পাওয়া যায় ।

👉 এই ধারণাগুলো পুরোপুরি সঠিক নয়।

বিকাশ লোন নির্ভর করে একটি স্বয়ংক্রিয় স্কোরিং সিস্টেমের ওপর, যেখানে আপনার অ্যাকাউন্টের সামগ্রিক ব্যবহার বিশ্লেষণ করা হয়।

বিকাশ যেসব বিষয় দেখে লোন অফার করে

নিচের বিষয়গুলো যদি আপনার অ্যাকাউন্টে নিয়মিত থাকে, তাহলে লোন পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে:

  • ✔ নিয়মিত টাকা পাঠানো ও গ্রহণ ।

  • ✔ মোবাইল রিচার্জ ও বিল পেমেন্ট ।

  • ✔ অ্যাকাউন্টে কিছু ব্যালেন্স রাখা ।

  • ✔ দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় বিকাশ ব্যবহার ।

  • ✔ হঠাৎ করে অনেক বড় লেনদেন না করে স্বাভাবিক ব্যবহার ।

👉 অর্থাৎ, একদিনে বেশি টাকা লেনদেন নয়, বরং নিয়মিত ও স্বাভাবিক ব্যবহার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

বিকাশে লোনের পরিমাণ কত হতে পারে?

বিকাশ লোন সাধারণত ছোট অঙ্ক থেকে শুরু হয়।

  • 🔹 সর্বনিম্ন লোন: ৫০০ টাকা ।

  • 🔹 মাঝারি পর্যায়ে: ৫,০০০ – ২০,০০০ টাকা ।

  • 🔹 ভালো স্কোর হলে: ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত ।

📌 তবে মনে রাখবেন, সবার জন্য এক রকম লিমিট হয় না। এটি সম্পূর্ণভাবে আপনার অ্যাকাউন্টের ইতিহাসের ওপর নির্ভর করে।

কীভাবে বিকাশ লোন পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়াবেন? 

আপনি যদি এখনো বিকাশ লোন অপশন না পান, তাহলে নিচের টিপসগুলো অনুসরণ করুন:

  • প্রতিদিন ছোট হলেও লেনদেন করুন ।

  • মাসে কয়েকবার Add Money করুন ।

  • বিকাশ দিয়ে বাজার/অনলাইন পেমেন্ট দিন ।

  • বিল ও রিচার্জ বিকাশে করুন ।

  • অ্যাকাউন্ট একেবারে শূন্য না রেখে কিছু টাকা রাখুন ।

📌 এই অভ্যাসগুলো বজায় রাখলে, ধীরে ধীরে আপনার অ্যাকাউন্ট Eligible হয়ে উঠতে পারে।

বিকাশে লোন অফার এলে কীভাবে বুঝবেন?

যখন আপনি লোন পাওয়ার যোগ্য হবেন:

  • বিকাশ অ্যাপে Loan / Finance অপশন দেখা যাবে ।

  • বা নোটিফিকেশন আসবে ।

  • লোনের পরিমাণ দেখাবে (যত টাকা নিতে পারবেন) ।

তারপর মাত্র কয়েক সেকেন্ডেই লোন নেওয়া সম্ভব।

কারা বিকাশ লোন পাবে?

বিকাশ লোন সবার জন্য উন্মুক্ত নয়। এটি একটি স্বয়ংক্রিয় ডিজিটাল সিস্টেমের মাধ্যমে নির্বাচিত গ্রাহকদের দেওয়া হয়। অর্থাৎ, আপনি চাইলেই লোন নিতে পারবেন—এমন নয়। বিকাশ আপনার অ্যাকাউন্টের ব্যবহার দেখে সিদ্ধান্ত নেয়।

নিচে ধাপে ধাপে জানুন কারা সাধারণত বিকাশ লোন পাওয়ার যোগ্য হন 👇

১. যারা নিয়মিত বিকাশ ব্যবহার করেন

যেসব ব্যবহারকারী—

  • প্রতিদিন বা নিয়মিত টাকা পাঠান ও গ্রহণ করেন ।

  • মোবাইল রিচার্জ, বিল পেমেন্ট, অনলাইন পেমেন্ট করেন ।

  • বিকাশ অ্যাপকে দৈনন্দিন লেনদেনের অংশ বানিয়েছেন ।

👉 তারা লোন পাওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকেন।
কারণ বিকাশের সিস্টেম নিয়মিত ব্যবহারকারীদের বেশি বিশ্বাসযোগ্য মনে করে।

২. যাদের বিকাশ অ্যাকাউন্ট পুরোনো ও সক্রিয়

যারা—

  • দীর্ঘদিন ধরে বিকাশ ব্যবহার করছেন ।

  • অ্যাকাউন্ট কখনো নিষ্ক্রিয় (Inactive) হয়নি ।

  • মাঝে মাঝে হলেও ব্যালেন্স রাখেন।

📌 নতুন অ্যাকাউন্টে সাধারণত দ্রুত লোন দেওয়া হয় না।
পুরোনো ও সক্রিয় অ্যাকাউন্ট হলে লোন পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

৩. যাদের লেনদেনের ইতিহাস স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল

বিকাশ লোন পাওয়ার ক্ষেত্রে—

  • হঠাৎ একদিনে খুব বড় অঙ্কের লেনদেন ।

  • বা অনেকদিন ব্যবহার না করে হঠাৎ অ্যাক্টিভ হওয়া ।

👉 এসব অ্যাকাউন্ট সাধারণত লোনের জন্য নির্বাচিত হয় না।

বরং যারা—

  • ছোট–বড় মিলিয়ে স্বাভাবিক লেনদেন করেন ।

  • মাসজুড়ে নিয়মিত ট্রানজেকশন রাখেন ।

তাদেরই লোন পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

৪. যাদের আগে লোন নিয়ে সময়মতো পরিশোধের রেকর্ড আছে

যদি আপনি আগে—

  • বিকাশ লোন নিয়ে থাকেন ।

  • নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুরো টাকা পরিশোধ করেন ।

👉 তাহলে ভবিষ্যতে আবার লোন পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়।
এমনকি আগের চেয়ে বেশি অঙ্কের লোন অফারও আসতে পারে।

৫. যাদের অ্যাকাউন্টে সন্দেহজনক কার্যক্রম নেই

নিচের বিষয়গুলো থাকলে লোন পাওয়া কঠিন হয়ে যায়:

  • অতিরিক্ত অভিযোগ (Complaint) ।

  • অস্বাভাবিক বা সন্দেহজনক লেনদেন ।

  • নিয়ম ভঙ্গের ইতিহাস ।

📌 পরিষ্কার ও স্বাভাবিক অ্যাকাউন্ট হলে বিকাশ লোন পাওয়া সহজ হয়।

কারা সাধারণত বিকাশ লোন পায় না?

সংক্ষেপে জেনে নিন—

  • একেবারে নতুন বিকাশ অ্যাকাউন্ট ।

  • দীর্ঘদিন ব্যবহার না করা অ্যাকাউন্ট ।

  • শুধু মাঝে মাঝে লেনদেন করা ব্যবহারকারী ।

  • আগে লোন নিয়ে সময়মতো পরিশোধ না করা গ্রাহক ।

প্রশ্ন–উত্তর

প্রশ্ন ১: বিকাশে লোন পেতে কি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট লাগে?
উত্তর: না, কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট লাগবে না।

প্রশ্ন ২: একবার লোন নিলে আবার লোন পাওয়া যায়?
উত্তর: হ্যাঁ, আগের লোন সময়মতো পরিশোধ করলে আবার লোন পাওয়া যায়।

প্রশ্ন ৩: নতুন বিকাশ অ্যাকাউন্টে লোন পাওয়া যায়?
উত্তর: সাধারণত না। কিছুদিন নিয়মিত ব্যবহার করতে হয়।

প্রশ্ন ৪: লোন পেতে কতদিন লাগে?
উত্তর: Eligible হলে সঙ্গে সঙ্গেই লোন পাওয়া যায়।

উপসংহার

সবশেষে বলা যায়, বিকাশে লোন পাওয়ার জন্য কোনো নির্দিষ্ট টাকার সীমা নেই। এটি পুরোপুরি নির্ভর করে আপনার অ্যাকাউন্টের ব্যবহার, নিয়মিত লেনদেন ও বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর। আপনি যদি বিকাশকে শুধু মাঝে মাঝে নয়, দৈনন্দিন লেনদেনের অংশ বানান—তাহলে লোন পাওয়ার সুযোগ নিজে থেকেই তৈরি হবে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

আরও পড়ুন-পে স্কেলে বৈশাখী ভাতা ২০২৬: সরকারি কর্মচারীদের জন্য বড় সুখবর!

👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥 

বাংলা টেক নিউজ টিম একটি অভিজ্ঞ, দায়িত্বশীল ও পেশাদার কনটেন্ট রাইটারদের সমন্বয়ে গঠিত একটি লেখক দল, যারা বাংলা ভাষায় নির্ভুল, তথ্যভিত্তিক ও পাঠক-বান্ধব কনটেন্ট তৈরিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের প্রতিটি লেখক প্রযুক্তি, ব্রেকিং নিউজ, অনলাইন আয়, স্বাস্থ্য, লাইফস্টাইল, ডিজিটাল ট্রেন্ড ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে গভীর গবেষণার মাধ্যমে কনটেন্ট তৈরি করে থাকেন।