স্মার্টফোন হারিয়ে গেলে বা চুরি হলে সেটিতে লগইন থাকা হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ আছে। তবে দ্রুত সিম ব্লক করে একই নম্বরের নতুন সিম সংগ্রহ এবং অন্য ফোনে হোয়াটসঅ্যাপ পুনরায় রেজিস্টার করলে হারানো ফোন থেকে অ্যাকাউন্টের ব্যবহার বন্ধ করা সম্ভব। এ জন্য নতুন অ্যাকাউন্ট খোলার প্রয়োজন নেই।
আরও পড়ুন- মোবাইলে ৪জি থাকলেও ইন্টারনেট ধীর? গতি বাড়ানোর ৫ উপায়
স্মার্টফোন হারিয়ে গেলে শুধু ফোনের দাম বা নতুন ফোন কেনার চিন্তাই নয়, ব্যক্তিগত ছবি, গুরুত্বপূর্ণ নথি, যোগাযোগের তথ্য এবং হোয়াটসঅ্যাপের ব্যক্তিগত কথোপকথন নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়। বিশেষ করে ফোনটি যদি লক করা না থাকে কিংবা অন্য কেউ সেটির লক খুলতে পারে, তাহলে ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহারের ঝুঁকি বাড়তে পারে। তবে ফোন হারানোর পর কয়েকটি জরুরি পদক্ষেপ নিলে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ আবার নিজের কাছে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
ফোন হারালে প্রথমেই যা করবেন
ফোন হারানো বা চুরি হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হলে প্রথমেই মোবাইল অপারেটরের সঙ্গে যোগাযোগ করে সিম কার্ডটি বন্ধ করতে হবে। কারণ, আপনার ফোন নম্বর ব্যবহার করে কেউ হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টে প্রবেশের চেষ্টা করতে পারে। সিম বন্ধ করলে হারানো সিমের মাধ্যমে কল বা এসএমএস গ্রহণের সুযোগ বন্ধ হবে।
এরপর সংশ্লিষ্ট মোবাইল অপারেটরের কাস্টমার কেয়ার সেন্টার থেকে একই নম্বরের একটি রিপ্লেসমেন্ট সিম সংগ্রহ করতে হবে। নতুন সিমটি সক্রিয় হওয়ার পর নিজের কাছে থাকা অন্য একটি স্মার্টফোনে সেটি ব্যবহার করতে পারবেন।
নতুন ফোনে পুরোনো হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট চালু করবেন যেভাবে
একই নম্বরের নতুন সিম হাতে পাওয়ার পর হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। এ জন্য কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করুন।
১. নতুন ফোনে গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপ স্টোর থেকে হোয়াটসঅ্যাপ ইনস্টল করুন।
২. অ্যাপটি খুলে আগের হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত ফোন নম্বরটি লিখুন।
৩. নম্বরটি যাচাই করার জন্য এসএমএস বা ফোনকলের মাধ্যমে পাঠানো ছয় সংখ্যার কোড সংগ্রহ করুন।
৪. হোয়াটসঅ্যাপে সেই ছয় সংখ্যার কোড দিয়ে নম্বর যাচাই সম্পন্ন করুন।
৫. অ্যাকাউন্টে দুই ধাপের যাচাইকরণ চালু থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী পিনও দিতে হতে পারে।
যাচাইকরণ সম্পন্ন করে নতুন ফোনে অ্যাকাউন্ট পুনরায় রেজিস্টার করলে আগের ফোনসহ হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টে লগইন থাকা অন্যান্য ডিভাইস থেকেও স্বয়ংক্রিয়ভাবে লগ আউট হয়ে যাবে। ফলে হারানো ফোনে আগের মতো অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা যাবে না।
দুই ধাপের যাচাইকরণ চালু থাকলে কী করবেন?
হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা বাড়াতে টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন বা দুই ধাপের যাচাইকরণ চালু রাখা গুরুত্বপূর্ণ। এ সুবিধায় অ্যাকাউন্ট পুনরায় রেজিস্টার করার সময় ছয় সংখ্যার এসএমএস কোডের পাশাপাশি নির্ধারিত পিনও প্রয়োজন হতে পারে।
ফোন হারানোর পর নতুন ডিভাইসে অ্যাকাউন্ট চালু করতে গিয়ে পিন মনে না থাকলে সমস্যায় পড়তে পারেন। আবার অন্য কেউ আপনার অ্যাকাউন্টে আগে থেকেই দুই ধাপের যাচাইকরণ চালু করে রাখলেও অ্যাকাউন্টে প্রবেশে বিলম্ব হতে পারে। হোয়াটসঅ্যাপের নির্দেশনা অনুযায়ী, এমন পরিস্থিতিতে পিন জানা না থাকলে সাত দিন অপেক্ষা করে পুনরায় চেষ্টা করতে হতে পারে। তবে ছয় সংখ্যার এসএমএস কোড দিয়ে নম্বর যাচাই সম্পন্ন হলে অন্য ডিভাইসে অ্যাকাউন্ট ব্যবহারকারী ব্যক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে লগ আউট হয়ে যান।
পুরোনো চ্যাট ও ছবি ফিরে পাবেন যেভাবে
নতুন ফোনে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট চালু করলেই পুরোনো সব কথোপকথন স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফিরে আসবে—বিষয়টি এমন নয়। পুরোনো চ্যাট ফিরিয়ে আনতে আগে থেকে ব্যাকআপ রাখা প্রয়োজন।
অ্যান্ড্রয়েড ফোনে গুগল অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে এবং আইফোনে আইক্লাউডের মাধ্যমে হোয়াটসঅ্যাপের চ্যাট ব্যাকআপ রাখা যায়। আগে থেকে ব্যাকআপ নেওয়া থাকলে নতুন ফোনে অ্যাকাউন্ট চালু করার সময় সেটি পুনরুদ্ধারের সুযোগ পাওয়া যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে ব্যাকআপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুগল অ্যাকাউন্ট বা আইক্লাউড অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে হবে।
তবে সর্বশেষ ব্যাকআপ নেওয়ার পর যেসব মেসেজ এসেছে, সেগুলো ব্যাকআপে না থাকলে পুনরুদ্ধার করা সম্ভব নাও হতে পারে। তাই গুরুত্বপূর্ণ কথোপকথন হারানো এড়াতে নিয়মিত চ্যাট ব্যাকআপ রাখা ভালো।
হোয়াটসঅ্যাপ কি নিজে থেকে হারানো ফোনের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করতে পারে?
অনেকেই মনে করেন, ফোন হারানোর পর হোয়াটসঅ্যাপ কর্তৃপক্ষকে জানালেই তারা দূর থেকে অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দিতে পারবে। কিন্তু হোয়াটসঅ্যাপের নির্দেশনা অনুযায়ী, ব্যবহারকারীর হয়ে সরাসরি অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করে দেওয়ার সুযোগ নেই। কারণ, শুধু অনুরোধের ভিত্তিতে কোনো ফোন নম্বরের মালিকানা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
এ কারণে একই নম্বরের সিম পুনরুদ্ধার করে নতুন ফোনে অ্যাকাউন্ট রেজিস্টার করাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। একই ফোন নম্বর দিয়ে এক সময়ে একটি প্রাথমিক ফোনে হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট রেজিস্টার করা যায়।
অ্যাকাউন্ট নিরাপদ রাখতে আরও যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন
ফোন হারানোর পর হোয়াটসঅ্যাপ পুনরুদ্ধারের পাশাপাশি কয়েকটি বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি।
প্রথমত, হোয়াটসঅ্যাপের ছয় সংখ্যার যাচাইকরণ কোড বা দুই ধাপের যাচাইকরণ পিন কাউকে জানাবেন না। পরিচিত ব্যক্তি, বন্ধু কিংবা হোয়াটসঅ্যাপের পরিচয়ে কেউ কোড চাইলে সেটি শেয়ার করবেন না।
দ্বিতীয়ত, নতুন ফোনে অ্যাকাউন্ট চালু করার পর সেটিংস থেকে লিংকড ডিভাইস বা সংযুক্ত ডিভাইসের তালিকা পরীক্ষা করুন। অপরিচিত কোনো ডিভাইস দেখা গেলে সেটি থেকে লগ আউট করুন।
তৃতীয়ত, ফোনে শক্তিশালী স্ক্রিন লক, পিন বা বায়োমেট্রিক নিরাপত্তা ব্যবহার করুন। ফোন হারালে সংশ্লিষ্ট অপারেটিং সিস্টেমের ডিভাইস খোঁজা, লক করা বা প্রয়োজন হলে দূর থেকে তথ্য মুছে ফেলার সুবিধা ব্যবহার করার চেষ্টা করুন।
চতুর্থত, ফোন হারানোর পর আপনার পরিচিতদের সতর্ক করুন। কারণ, কেউ আপনার অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতে পারলে পরিচিতদের কাছে আপনার পরিচয়ে মেসেজ পাঠিয়ে টাকা বা ব্যক্তিগত তথ্য চাইতে পারে।
সবশেষে মনে রাখতে হবে, ফোন হারালেই হোয়াটসঅ্যাপ অ্যাকাউন্ট স্বয়ংক্রিয়ভাবে হ্যাক হয়ে যায় না। তবে ফোনটি অন্যের হাতে পড়লে এবং সেটি আনলক করা সম্ভব হলে ব্যক্তিগত তথ্য ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তাই দ্রুত সিম বন্ধ করা, একই নম্বরের নতুন সিম সংগ্রহ এবং নতুন ফোনে হোয়াটসঅ্যাপ পুনরায় রেজিস্টার করাই অ্যাকাউন্টের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
সূত্র: ঢাকা মেইল







