দেশে মোবাইল অপারেটরদের সেবার মান নিয়ে গ্রাহকদের অভিযোগ অব্যাহত রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বিটিআরসিতে জমা পড়া ১১ হাজার ৬৬৭টি অভিযোগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল সেবার মান নিয়ে।
দেশে মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের বড় একটি অংশ এখনো দুর্বল নেটওয়ার্ক, কলড্রপ ও ধীরগতির ইন্টারনেটের সমস্যায় ভুগছেন। মোবাইল সেবার মান নিয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনে (বিটিআরসি) জমা পড়া অভিযোগের পরিসংখ্যানেও উঠে এসেছে একই চিত্র। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কমিশনে জমা পড়া অভিযোগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল সেবার মান বা ‘কোয়ালিটি অব সার্ভিস’ নিয়ে।
বিটিআরসির ২০২৫-২৬ অর্থবছরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত মোবাইল সেবা নিয়ে ২৩টি ক্যাটাগরিতে মোট ১১ হাজার ৬৬৭টি অভিযোগ জমা পড়ে। এর মধ্যে ৪ হাজার ১৬২টি অভিযোগই ছিল সেবার মানসংক্রান্ত। অর্থাৎ গ্রাহকদের অভিযোগের বড় অংশজুড়েই রয়েছে অপারেটরদের নেটওয়ার্ক ও সেবার মান নিয়ে অসন্তোষ।
সেবার মানের পর সবচেয়ে বেশি অভিযোগ জমা পড়ে বিবিধ বিষয়ে। এ ধরনের অভিযোগের সংখ্যা ১ হাজার ৩৪৩টি। এ ছাড়া মূল্য সংযোজন সেবা বা ভ্যাস নিয়ে ৯২৮টি, ডাটা স্পিড নিয়ে ৭৩৬টি এবং কল ও এসএমএস-সংক্রান্ত বিষয়ে ৫৩৯টি অভিযোগ করেছেন গ্রাহকরা।
বিটিআরসির তথ্য বলছে, ওই অর্থবছরে জমা পড়া মোট অভিযোগের মধ্যে ১১ হাজার ৩৬২টি নিষ্পত্তি করা হয়েছে। অনিষ্পন্ন রয়েছে ৩০৫টি অভিযোগ। তবে অভিযোগ নিষ্পত্তির সংখ্যা বেশি হলেও সেবার মান নিয়ে গ্রাহকদের অসন্তোষের চিত্র পুরোপুরি বদলায়নি। এর আগের দুই অর্থবছরেও অভিযোগের সংখ্যা ১১ হাজারের বেশি ছিল এবং সেবার মানসংক্রান্ত অভিযোগ ছিল শীর্ষে।
মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশের মোবাইল অপারেটরদের কাছে গ্রাহকরা অনেকটা জিম্মি। অপারেটররা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পেলেও গ্রাহকদের নিম্নমানের সেবা নিতে হচ্ছে। কলড্রপ, দুর্বল নেটওয়ার্ক ও ধীরগতির ইন্টারনেটের মতো সমস্যার সমাধান হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তার মতে, অপারেটরদের কাছ থেকে শুধু আর্থিক সুবিধা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করলে চলবে না; গ্রাহকদের উন্নত সেবা দেওয়ার বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে। নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, কলড্রপ কমানো এবং সাশ্রয়ী দামে মানসম্মত ইন্টারনেট নিশ্চিত করার মতো শর্ত থাকা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশের (এমটব) সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিটিআরসির পরিসংখ্যান ও গ্রাহক প্রতিনিধিদের বক্তব্যে মোবাইল সেবার মান নিয়ে দীর্ঘদিনের অসন্তোষের বিষয়টি সামনে এসেছে। এখন গ্রাহকদের প্রত্যাশা, অভিযোগ নিষ্পত্তির পাশাপাশি নেটওয়ার্ক ও কলসেবার বাস্তব উন্নতিও নিশ্চিত হবে।
সূত্র: যুগান্তর নিউজ









