আমাদের Telegram চ্যানেলে যুক্ত হোন

পাসপোর্ট করতে কত টাকা লাগে? ই-পাসপোর্ট ফি ও নিয়ম

পাসপোর্ট করতে কত টাকা লাগে

বিদেশ ভ্রমণ, উচ্চশিক্ষা, চিকিৎসা কিংবা চাকরির জন্য পাসপোর্ট করতে চাইলে প্রথমেই জানতে হয়, পাসপোর্ট করতে কত টাকা লাগে। বাংলাদেশে ই-পাসপোর্টের খরচ নির্ভর করে পাসপোর্টের মেয়াদ, পৃষ্ঠাসংখ্যা এবং কত দ্রুত পাসপোর্ট হাতে পেতে চান, তার ওপর। নিয়মিত ডেলিভারি, জরুরি ডেলিভারি ও অতি জরুরি ডেলিভারির জন্য ফি আলাদা। ফলে আবেদন করার আগে সঠিক ফি জানা থাকলে বাজেট নির্ধারণ করা এবং অপ্রয়োজনীয় খরচ এড়ানো সহজ হয়।

বাংলাদেশের সরকারি ই-পাসপোর্ট পোর্টালে প্রকাশিত ফি অনুযায়ী, দেশে আবেদনকারীদের জন্য ৪৮ পৃষ্ঠার ৫ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্টের নিয়মিত ফি ৪ হাজার ২৫ টাকা। একই পৃষ্ঠাসংখ্যার ১০ বছর মেয়াদি পাসপোর্টের নিয়মিত ফি ৫ হাজার ৭৫০ টাকা। অন্যদিকে, ৬৪ পৃষ্ঠার পাসপোর্টের ফি তুলনামূলক বেশি। দ্রুত পাসপোর্ট পেতে জরুরি বা অতি জরুরি ডেলিভারি নির্বাচন করলে নির্ধারিত ফি অনুযায়ী বেশি টাকা দিতে হয়।

তবে শুধু পাসপোর্টের ফি জানলেই হবে না। কারা ৫ বছর বা ১০ বছর মেয়াদি পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারবেন, কোন ধরনের পাসপোর্ট নেওয়া সুবিধাজনক, কী কী কাগজপত্র প্রয়োজন, কীভাবে ফি জমা দিতে হয় এবং আবেদন করতে গিয়ে কোন ভুলগুলো এড়িয়ে চলতে হবে—এসব বিষয়ও জানা জরুরি। নিচে পাসপোর্টের খরচ ও আবেদনপ্রক্রিয়া বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

পাসপোর্ট করতে কত টাকা লাগে?

বাংলাদেশের ভেতরে ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন করলে ফি নির্ধারিত হয় পাসপোর্টের পৃষ্ঠাসংখ্যা, মেয়াদ এবং ডেলিভারির ধরন অনুযায়ী। সরকারি পোর্টালে প্রকাশিত ফি তালিকায় ৪৮ পৃষ্ঠা ও ৬৪ পৃষ্ঠার পাসপোর্টের জন্য আলাদা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

৪৮ পৃষ্ঠার ই-পাসপোর্টের ফি

৪৮ পৃষ্ঠার পাসপোর্ট অনেক সাধারণ আবেদনকারীর জন্য যথেষ্ট হতে পারে। নিয়মিত বিদেশ ভ্রমণ, পড়াশোনা, চাকরি কিংবা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে বিদেশে যাতায়াতের পরিকল্পনা অনুযায়ী এই পাসপোর্ট বেছে নেওয়া যায়।

৪৮ পৃষ্ঠার ৫ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্টের ফি হলো:

  • নিয়মিত ডেলিভারি: ৪,০২৫ টাকা
  • জরুরি ডেলিভারি: ৬,৩২৫ টাকা
  • অতি জরুরি ডেলিভারি: ৮,৬২৫ টাকা

৪৮ পৃষ্ঠার ১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্টের ফি হলো:

  • নিয়মিত ডেলিভারি: ৫,৭৫০ টাকা
  • জরুরি ডেলিভারি: ৮,০৫০ টাকা
  • অতি জরুরি ডেলিভারি: ১০,৩৫০ টাকা

এখানে উল্লেখিত ফি সরকারি ই-পাসপোর্ট পোর্টালে প্রকাশিত দেশের অভ্যন্তরে আবেদনের মূল্যতালিকা থেকে নেওয়া হয়েছে। তালিকায় ১৫ শতাংশ ভ্যাটসহ ফি উল্লেখ রয়েছে।

৬৪ পৃষ্ঠার ই-পাসপোর্টের ফি

যাঁদের নিয়মিত বিদেশ ভ্রমণ করতে হয় কিংবা পাসপোর্টে বেশি ভিসা ও ভ্রমণের সিল জমা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তাঁরা প্রয়োজন অনুযায়ী ৬৪ পৃষ্ঠার পাসপোর্ট বিবেচনা করতে পারেন। তবে বেশি পৃষ্ঠা প্রয়োজন না হলে শুধু পৃষ্ঠাসংখ্যা বেশি বলে অতিরিক্ত টাকা খরচ করার প্রয়োজন নেই।

৬৪ পৃষ্ঠার ৫ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্টের ফি হলো:

  • নিয়মিত ডেলিভারি: ৬,৩২৫ টাকা
  • জরুরি ডেলিভারি: ৮,৬২৫ টাকা
  • অতি জরুরি ডেলিভারি: ১২,০৭৫ টাকা

৬৪ পৃষ্ঠার ১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্টের ফি হলো:

  • নিয়মিত ডেলিভারি: ৮,০৫০ টাকা
  • জরুরি ডেলিভারি: ১০,৩৫০ টাকা
  • অতি জরুরি ডেলিভারি: ১৩,৮০০ টাকা

সব ফি ও ডেলিভারির সময় আবেদন করার আগে সরকারি ই-পাসপোর্ট ফি ও পেমেন্ট নির্দেশনা থেকে যাচাই করে নেওয়া উচিত। কারণ সরকারি ফি বা আবেদনপ্রক্রিয়ায় পরিবর্তন হলে পুরোনো তথ্যের সঙ্গে পার্থক্য হতে পারে।

পাসপোর্টের ফি ও ডেলিভারির সময় এক নজরে

সরকারি ই-পাসপোর্ট পোর্টালে প্রকাশিত মূল্যতালিকা অনুযায়ী দেশে আবেদনের ফি নিচে দেওয়া হলো।

পাসপোর্টের ধরন নিয়মিত ডেলিভারি জরুরি ডেলিভারি অতি জরুরি ডেলিভারি
৪৮ পৃষ্ঠা, ৫ বছর ৪,০২৫ টাকা ৬,৩২৫ টাকা ৮,৬২৫ টাকা
৪৮ পৃষ্ঠা, ১০ বছর ৫,৭৫০ টাকা ৮,০৫০ টাকা ১০,৩৫০ টাকা
৬৪ পৃষ্ঠা, ৫ বছর ৬,৩২৫ টাকা ৮,৬২৫ টাকা ১২,০৭৫ টাকা
৬৪ পৃষ্ঠা, ১০ বছর ৮,০৫০ টাকা ১০,৩৫০ টাকা ১৩,৮০০ টাকা

উল্লিখিত মূল্যগুলো সরকারি পোর্টালে প্রকাশিত ফি তালিকা অনুযায়ী। আবেদনকারীর বয়স, যোগ্যতা ও প্রযোজ্য নিয়ম অনুসারে কোন মেয়াদ বা ধরনের পাসপোর্টের জন্য আবেদন করা যাবে, তা নিশ্চিত করতে হবে।

নিয়মিত, জরুরি ও অতি জরুরি পাসপোর্টের মধ্যে পার্থক্য কী?

পাসপোর্টের ফি নির্ধারণের সময় ডেলিভারির ধরন গুরুত্বপূর্ণ। কারও পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার জন্য তাড়াহুড়া নেই, আবার কারও বিদেশে পড়াশোনা, চাকরি, চিকিৎসা বা ভ্রমণের নির্দিষ্ট সময়সীমা রয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী ডেলিভারির ধরন নির্বাচন করা যায়।

নিয়মিত ডেলিভারি: যাঁদের পাসপোর্ট দ্রুত হাতে পাওয়ার বিশেষ প্রয়োজন নেই, তাঁরা নিয়মিত ডেলিভারি বেছে নিতে পারেন। এই পদ্ধতিতে ফি তুলনামূলক কম। সরকারি ফি পেজে বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্টের তারিখ থেকে ১৫ কর্মদিবস বা ২১ দিনের সময়সীমা উল্লেখ রয়েছে।

জরুরি ডেলিভারি: তুলনামূলক দ্রুত পাসপোর্ট প্রয়োজন হলে জরুরি ডেলিভারি বিবেচনা করা যায়। সরকারি ফি পেজে এর জন্য ৭ কর্মদিবস বা ১০ দিনের সময়সীমা উল্লেখ রয়েছে।

অতি জরুরি ডেলিভারি: যাঁদের খুব দ্রুত পাসপোর্ট প্রয়োজন, তাঁরা প্রযোজ্য যোগ্যতা ও শর্ত পূরণ সাপেক্ষে অতি জরুরি ডেলিভারি বেছে নিতে পারেন। সরকারি ফি পেজে এ ধরনের ডেলিভারির জন্য ২ কর্মদিবসের সময়সীমা উল্লেখ রয়েছে।

তবে এই সময়সীমাগুলোকে সব পরিস্থিতিতে নিশ্চিত ডেলিভারির প্রতিশ্রুতি হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়। আবেদনকারীর তথ্য সঠিক থাকা, প্রয়োজনীয় যাচাই সম্পন্ন হওয়া এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রক্রিয়ার ওপর বাস্তব সময় নির্ভর করতে পারে। আবেদন করার সময় সরকারি পোর্টালে প্রদর্শিত সর্বশেষ নির্দেশনা অনুসরণ করুন।

৫ বছর মেয়াদি পাসপোর্ট করতে কত টাকা লাগে?

৫ বছর মেয়াদি পাসপোর্টের ফি পৃষ্ঠাসংখ্যা ও ডেলিভারির ধরন অনুযায়ী আলাদা। ৪৮ পৃষ্ঠার ৫ বছর মেয়াদি পাসপোর্টের নিয়মিত ফি ৪,০২৫ টাকা। জরুরি ডেলিভারিতে ৬,৩২৫ টাকা এবং অতি জরুরি ডেলিভারিতে ৮,৬২৫ টাকা লাগে।

অন্যদিকে, ৬৪ পৃষ্ঠার ৫ বছর মেয়াদি পাসপোর্টের নিয়মিত ফি ৬,৩২৫ টাকা। জরুরি ডেলিভারিতে ৮,৬২৫ টাকা এবং অতি জরুরি ডেলিভারিতে ১২,০৭৫ টাকা নির্ধারিত রয়েছে।

তবে আবেদনকারীর বয়স অনুযায়ী পাসপোর্টের মেয়াদ নির্ধারণের নিয়ম রয়েছে। সরকারি ই-পাসপোর্ট নির্দেশনায় ১৮ বছরের কম বয়সীদের পাসপোর্ট ৫ বছর মেয়াদি ও ৪৮ পৃষ্ঠার হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই শিশু বা অপ্রাপ্তবয়স্কের জন্য আবেদন করার সময় শুধু ফি দেখে পাসপোর্টের ধরন নির্বাচন না করে বয়স ও প্রযোজ্য নিয়ম যাচাই করুন।

১০ বছর মেয়াদি পাসপোর্ট করতে কত টাকা লাগে?

১০ বছর মেয়াদি পাসপোর্টের ফি ৫ বছর মেয়াদি পাসপোর্টের তুলনায় বেশি হলেও দীর্ঘ মেয়াদে ব্যবহার করার সুবিধা রয়েছে। তবে আবেদনকারী বয়স ও অন্যান্য শর্ত অনুযায়ী ১০ বছর মেয়াদি পাসপোর্টের যোগ্য কি না, তা আগে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।

৪৮ পৃষ্ঠার ১০ বছর মেয়াদি পাসপোর্টের নিয়মিত ফি ৫,৭৫০ টাকা। জরুরি ডেলিভারিতে ৮,০৫০ টাকা এবং অতি জরুরি ডেলিভারিতে ১০,৩৫০ টাকা দিতে হয়।

৬৪ পৃষ্ঠার ১০ বছর মেয়াদি পাসপোর্টের নিয়মিত ফি ৮,০৫০ টাকা। জরুরি ডেলিভারিতে ১০,৩৫০ টাকা এবং অতি জরুরি ডেলিভারিতে ১৩,৮০০ টাকা লাগে।

আপনি যদি নিয়মিত বিদেশ ভ্রমণ করেন, তাহলে ১০ বছর মেয়াদি পাসপোর্ট সুবিধাজনক হতে পারে। তবে পাসপোর্টের মেয়াদ বেশি হলেই ভিসা পাওয়া সহজ হবে বা কোনো দেশে প্রবেশ নিশ্চিত হবে—এমন নয়। ভিসা ও ভ্রমণের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশের নিয়ম আলাদাভাবে মানতে হয়।

পাসপোর্টের পৃষ্ঠা সংখ্যা ৪৮ নাকি ৬৪—কোনটি নেবেন?

পাসপোর্টের পৃষ্ঠাসংখ্যা নির্বাচন করার সময় নিজের ভ্রমণের প্রয়োজন বিবেচনা করা উচিত। যাঁরা মাঝেমধ্যে বিদেশে যান, তাঁদের জন্য ৪৮ পৃষ্ঠার পাসপোর্ট যথেষ্ট হতে পারে। অন্যদিকে, যাঁদের নিয়মিত ব্যবসায়িক ভ্রমণ, একাধিক দেশে যাতায়াত কিংবা ঘন ঘন ভিসা নেওয়ার প্রয়োজন হয়, তাঁদের জন্য ৬৪ পৃষ্ঠার পাসপোর্ট উপযোগী হতে পারে।

তবে বেশি পৃষ্ঠার পাসপোর্টের জন্য ফি বেশি দিতে হয়। তাই শুধু ভবিষ্যতে বিদেশ যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে বেশি পৃষ্ঠার পাসপোর্ট নেওয়ার প্রয়োজন নেই। নিজের ভ্রমণের ধরন, সম্ভাব্য ব্যবহার এবং বাজেট বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিন।

পাসপোর্টের মেয়াদ ও পৃষ্ঠাসংখ্যা দুটি আলাদা বিষয়। ৪৮ পৃষ্ঠার পাসপোর্ট ৫ বছর বা ১০ বছর মেয়াদি হতে পারে। একইভাবে ৬৪ পৃষ্ঠার পাসপোর্টের ক্ষেত্রেও মেয়াদ অনুযায়ী আলাদা ফি রয়েছে। আবেদন ফরম পূরণের সময় দুটিই ঠিকভাবে নির্বাচন করা জরুরি।

পাসপোর্ট করতে কী কী কাগজপত্র লাগে?

ই-পাসপোর্টের আবেদন করতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আবেদনকারীর বয়স, নতুন আবেদন নাকি রি-ইস্যু, তথ্য সংশোধন এবং বিশেষ পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করতে পারে।

সাধারণভাবে আবেদনকারীর জন্য নিচের কাগজপত্র প্রস্তুত রাখা প্রয়োজন:

  • অনলাইনে পূরণ করা আবেদনপত্রের প্রিন্ট কপি।
  • প্রযোজ্য ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্রের মূল কপি ও ফটোকপি।
  • বয়স অনুযায়ী অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদের ইংরেজি সংস্করণ।
  • পাসপোর্ট ফি জমা দেওয়ার রসিদ বা এ-চালানের কপি।
  • রি-ইস্যুর ক্ষেত্রে আগের পাসপোর্ট।
  • হারানো পাসপোর্টের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য জিডির কাগজপত্র।
  • সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য NOC, GO বা সংশ্লিষ্ট অনুমতিপত্র।
  • তথ্য সংশোধন, বৈবাহিক অবস্থা পরিবর্তন কিংবা অন্য বিশেষ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রমাণপত্র।

সরকারি ই-পাসপোর্ট নির্দেশনা অনুযায়ী, ১৮ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে অনলাইন জন্মনিবন্ধনের ইংরেজি সংস্করণ প্রয়োজন। যাদের জাতীয় পরিচয়পত্র নেই, তাদের আবেদনপ্রক্রিয়ায় বাবা বা মায়ের জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যও প্রয়োজন হতে পারে। ১৮ থেকে ২০ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ গ্রহণযোগ্য হতে পারে; ২০ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য সাধারণভাবে জাতীয় পরিচয়পত্র আবশ্যক।

কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কাগজপত্র লাগতে পারে। যেমন সরকারি চাকরিজীবী, নির্দিষ্ট পেশার আবেদনকারী, তথ্য সংশোধনকারী, হারানো পাসপোর্টের আবেদনকারী অথবা অভিভাবকত্বসংক্রান্ত বিশেষ পরিস্থিতির আবেদনকারীদের জন্য আলাদা প্রমাণপত্র প্রয়োজন হতে পারে।

কোন কাগজপত্র আপনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, তা আবেদন করার আগে সরকারি ই-পাসপোর্ট আবেদন নির্দেশনা এবং সংশ্লিষ্ট অফিসের নির্দেশনা থেকে মিলিয়ে নিন।

অনলাইনে পাসপোর্টের আবেদন করার নিয়ম

বাংলাদেশের ই-পাসপোর্ট পোর্টালে অনলাইনে আবেদন করা যায়। আবেদন করার সময় ব্যক্তিগত তথ্য, ঠিকানা, পরিচয়পত্রের তথ্য এবং পাসপোর্টের ধরন সতর্কভাবে পূরণ করা উচিত।

প্রথমে সরকারি ই-পাসপোর্ট পোর্টালে প্রবেশ করুন। এরপর নতুন পাসপোর্টের আবেদন বা রি-ইস্যুর জন্য প্রযোজ্য অপশন নির্বাচন করুন। আবেদনকারীর ব্যক্তিগত তথ্য জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন সনদ অনুযায়ী পূরণ করুন। নামের বানান, জন্মতারিখ, বাবা-মায়ের নাম ও ঠিকানার মতো তথ্য জমা দেওয়ার আগে আবার যাচাই করুন।

এরপর পাসপোর্টের পৃষ্ঠাসংখ্যা, মেয়াদ এবং ডেলিভারির ধরন নির্বাচন করুন। আবেদন ফরমে প্রদর্শিত ফি যাচাই করে অনুমোদিত পদ্ধতিতে টাকা পরিশোধ করুন। আবেদনপত্র জমা দেওয়ার পর প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ নির্ধারিত পাসপোর্ট অফিসে উপস্থিত হয়ে বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্ট সম্পন্ন করতে হবে।

আবেদন জমা দেওয়ার পর পাওয়া রসিদ ও আবেদনসংক্রান্ত কাগজপত্র নিরাপদে রাখুন। এগুলো পরবর্তী সময়ে আবেদনের অবস্থা যাচাই এবং পাসপোর্ট সংগ্রহের সময় প্রয়োজন হতে পারে।

পাসপোর্টের ফি কীভাবে জমা দেবেন?

সরকারি ই-পাসপোর্ট পোর্টালে অনলাইন ও অফলাইন—দুই ধরনের অনুমোদিত পেমেন্ট পদ্ধতির তথ্য দেওয়া রয়েছে। অনলাইনে এ-চালান, DGePay এবং ShurjoPay-এর মতো পদ্ধতির মাধ্যমে নির্ধারিত পেমেন্ট অপশন ব্যবহার করা যায়। পোর্টালে প্রদর্শিত পেমেন্ট সুবিধা অনুযায়ী কার্ড, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস বা ব্যাংকিং পদ্ধতিও থাকতে পারে।

অফলাইনে এ-চালানের মাধ্যমে সরকারি বা বেসরকারি ব্যাংকে ফি জমা দেওয়ার ব্যবস্থাও সরকারি পোর্টালে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আবেদন করার সময় কোন পদ্ধতি উপলভ্য, তা পোর্টালে যাচাই করা উচিত।

ফি জমা দেওয়ার আগে আবেদনকারীর নাম, আবেদনসংক্রান্ত তথ্য এবং নির্ধারিত টাকার পরিমাণ মিলিয়ে নিন। পেমেন্ট সম্পন্ন হওয়ার পর রসিদ বা চালানের কপি সংরক্ষণ করুন। কোনো ব্যক্তি বা দালালের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে পাসপোর্টের সরকারি ফি পাঠাবেন না।

ই-পাসপোর্ট পোর্টালের ফি ও পেমেন্ট নির্দেশনা থেকে অনুমোদিত পদ্ধতি এবং সর্বশেষ ফি যাচাই করা যাবে।

পাসপোর্ট করতে সরকারি ফি ছাড়াও কি অতিরিক্ত টাকা লাগে?

পাসপোর্টের সরকারি ফি ছাড়াও আবেদনকারীর যাতায়াত, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংগ্রহ বা ফটোকপির মতো আনুষঙ্গিক খরচ হতে পারে। এসব খরচ ব্যক্তিভেদে আলাদা। তবে সরকারি ফি পরিশোধের বাইরে কোনো ব্যক্তি বা দালালকে অতিরিক্ত টাকা দিতে হবে—এমন ধারণা করা ঠিক নয়।

ই-পাসপোর্টের তথ্য সংশোধন বা আবেদনসংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের জন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে টাকা না দেওয়ার বিষয়ে সরকারি পোর্টালে সতর্কতা প্রকাশ করা হয়েছে। ফি জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে শুধু অনুমোদিত পেমেন্ট পদ্ধতি ব্যবহার করা উচিত। সরকারি পোর্টাল থেকে আসা প্রকৃত বার্তা ছাড়া অন্য কোনো নম্বর বা অচেনা লিংকের মাধ্যমে টাকা দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।

আবেদনের সময় কোনো অতিরিক্ত সেবা বা ফি প্রযোজ্য কি না, তা সরকারি পোর্টালে যাচাই করুন। কোনো কর্মকর্তা বা প্রতিষ্ঠানের নামে অননুমোদিত অর্থ দাবি করা হলে আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া উচিত।

পাসপোর্ট করতে গিয়ে যেসব ভুল এড়িয়ে চলবেন

পাসপোর্টের আবেদন করতে গিয়ে ভুল তথ্য দিলে আবেদন প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হতে পারে। তাই আবেদন ফরম জমা দেওয়ার আগে সব তথ্য জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধনের সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়া জরুরি।

নাম, জন্মতারিখ, বাবা-মায়ের নাম, ঠিকানা কিংবা পেশাসংক্রান্ত তথ্য ভুল হলে প্রয়োজনীয় সংশোধন বা যাচাইয়ের দরকার হতে পারে। এতে সময় বাড়তে পারে। আবেদন করার সময় পাসপোর্টের মেয়াদ, পৃষ্ঠাসংখ্যা ও ডেলিভারির ধরনও ভালোভাবে নির্বাচন করুন। ভুল ধরনের আবেদন করলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হতে পারে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সরকারি পোর্টালের বাইরে অচেনা ওয়েবসাইটে আবেদনসংক্রান্ত তথ্য দেওয়া উচিত নয়। পাসপোর্ট দ্রুত করে দেওয়ার নামে কেউ টাকা চাইলে সতর্ক থাকুন। পাসপোর্টের ফি শুধু অনুমোদিত পেমেন্ট পদ্ধতিতে জমা দিন এবং রসিদ সংরক্ষণ করুন।

পাসপোর্ট করতে কত টাকা লাগে—সাধারণ প্রশ্ন ও উত্তর

প্রশ্ন: ৪৮ পৃষ্ঠার ৫ বছর মেয়াদি পাসপোর্ট করতে কত টাকা লাগে?

উত্তর: নিয়মিত ডেলিভারিতে ৪,০২৫ টাকা, জরুরি ডেলিভারিতে ৬,৩২৫ টাকা এবং অতি জরুরি ডেলিভারিতে ৮,৬২৫ টাকা লাগে।

প্রশ্ন: ১০ বছর মেয়াদি পাসপোর্ট করতে কত টাকা লাগে?

উত্তর: ৪৮ পৃষ্ঠার ১০ বছর মেয়াদি পাসপোর্টের নিয়মিত ফি ৫,৭৫০ টাকা। জরুরি ডেলিভারিতে ৮,০৫০ টাকা এবং অতি জরুরি ডেলিভারিতে ১০,৩৫০ টাকা লাগে।

প্রশ্ন: ৬৪ পৃষ্ঠার পাসপোর্টের সর্বনিম্ন ফি কত?

উত্তর: ৬৪ পৃষ্ঠার ৫ বছর মেয়াদি পাসপোর্টের নিয়মিত ফি ৬,৩২৫ টাকা। ৬৪ পৃষ্ঠার ১০ বছর মেয়াদি পাসপোর্টের নিয়মিত ফি ৮,০৫০ টাকা।

প্রশ্ন: জরুরি পাসপোর্ট করতে কত টাকা লাগে?

উত্তর: ফি নির্ভর করে পৃষ্ঠাসংখ্যা ও মেয়াদের ওপর। উদাহরণস্বরূপ, ৪৮ পৃষ্ঠার ৫ বছর মেয়াদি পাসপোর্টের জরুরি ফি ৬,৩২৫ টাকা।

প্রশ্ন: অতি জরুরি পাসপোর্ট করতে কত টাকা লাগে?

উত্তর: ৪৮ পৃষ্ঠার ৫ বছর মেয়াদি পাসপোর্টের অতি জরুরি ফি ৮,৬২৫ টাকা। অন্য ধরনের পাসপোর্টের ফি আলাদা।

প্রশ্ন: শিশুদের পাসপোর্ট করতে কত টাকা লাগে?

উত্তর: সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ১৮ বছরের কম বয়সীদের পাসপোর্ট ৫ বছর মেয়াদি ও ৪৮ পৃষ্ঠার হয়। এই ধরনের পাসপোর্টের নিয়মিত ফি ৪,০২৫ টাকা। তবে আবেদন করার সময় সর্বশেষ ফি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করা উচিত।

প্রশ্ন: পাসপোর্টের ফি কি অনলাইনে দেওয়া যায়?

উত্তর: হ্যাঁ। সরকারি ই-পাসপোর্ট পোর্টালে এ-চালান, DGePay ও ShurjoPay-সহ অনুমোদিত অনলাইন পেমেন্ট পদ্ধতির তথ্য দেওয়া রয়েছে। পোর্টালে প্রদর্শিত সুবিধা অনুসরণ করতে হবে।

প্রশ্ন: পাসপোর্ট করতে কত দিন লাগে?

উত্তর: সরকারি পোর্টালে নিয়মিত ডেলিভারির জন্য ১৫ কর্মদিবস বা ২১ দিন, জরুরি ডেলিভারির জন্য ৭ কর্মদিবস বা ১০ দিন এবং অতি জরুরি ডেলিভারির জন্য ২ কর্মদিবসের সময়সীমা উল্লেখ রয়েছে। বাস্তব সময় আবেদন ও যাচাইয়ের পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করতে পারে।

প্রশ্ন: পাসপোর্টের ফি জমা দেওয়ার পর কি টাকা ফেরত পাওয়া যায়?

উত্তর: ফি জমা দেওয়ার পর ফেরত বা সংশোধনের নিয়ম পরিস্থিতি ও প্রযোজ্য সরকারি নির্দেশনার ওপর নির্ভর করতে পারে। টাকা জমা দেওয়ার আগে আবেদনসংক্রান্ত তথ্য ও পাসপোর্টের ধরন ভালোভাবে যাচাই করুন। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিসের নির্দেশনা নিন।

প্রশ্ন: পাসপোর্টের সরকারি ফি ছাড়াও দালালকে টাকা দিতে হয় কি?

উত্তর: সরকারি ফি জমা দেওয়ার জন্য দালালের প্রয়োজন নেই। সরকারি পোর্টালে প্রদর্শিত অনুমোদিত পেমেন্ট পদ্ধতি ব্যবহার করুন এবং কোনো অননুমোদিত ব্যক্তিকে টাকা দেবেন না।

শেষ কথা

পাসপোর্ট করতে কত টাকা লাগে, তা নির্ভর করে পাসপোর্টের মেয়াদ, পৃষ্ঠাসংখ্যা এবং ডেলিভারির ধরনের ওপর। দেশে আবেদন করলে ৪৮ পৃষ্ঠার ৫ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্টের নিয়মিত ফি ৪,০২৫ টাকা থেকে শুরু, আর ১০ বছর মেয়াদি ৪৮ পৃষ্ঠার পাসপোর্টের নিয়মিত ফি ৫,৭৫০ টাকা। জরুরি বা অতি জরুরি ডেলিভারি নির্বাচন করলে ফি বেড়ে যায়।

আবেদন করার আগে নিজের বয়স ও যোগ্যতা অনুযায়ী পাসপোর্টের ধরন নির্বাচন করুন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত রাখুন এবং সরকারি পোর্টাল থেকে সর্বশেষ ফি যাচাই করুন। অনুমোদিত পদ্ধতিতে টাকা জমা দিন, রসিদ সংরক্ষণ করুন এবং পাসপোর্ট দ্রুত করে দেওয়ার নামে অননুমোদিত কাউকে অর্থ দেবেন না।

সরকারি ফি, আবেদন নির্দেশনা ও পেমেন্টের সর্বশেষ তথ্য জানতে বাংলাদেশ সরকারের ই-পাসপোর্ট পোর্টাল ব্যবহার করুন।

বাংলা টেক নিউজ টিম

বাংলা টেক নিউজ টিম একটি অভিজ্ঞ, দায়িত্বশীল ও পেশাদার কনটেন্ট রাইটারদের সমন্বয়ে গঠিত একটি লেখক দল, যারা বাংলা ভাষায় নির্ভুল, তথ্যভিত্তিক ও পাঠক-বান্ধব কনটেন্ট তৈরিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের প্রতিটি লেখক প্রযুক্তি, ব্রেকিং নিউজ, অনলাইন আয়, স্বাস্থ্য, লাইফস্টাইল, ডিজিটাল ট্রেন্ড ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে গভীর গবেষণার মাধ্যমে কনটেন্ট তৈরি করে থাকেন।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now