আমাদের Telegram চ্যানেলে যুক্ত হোন

দালাল ছাড়াই ই-পাসপোর্ট করার নিয়ম: অনলাইন আবেদন, ফি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

দালাল ছাড়াই অনলাইনে ই-পাসপোর্ট আবেদন করার নিয়ম

পাসপোর্ট তৈরি করতে দালালের সাহায্য নিতে হবে এমন ধারণা অনেকের মধ্যেই রয়েছে। কেউ নতুন পাসপোর্ট করতে চান, কেউ পুরোনো পাসপোর্ট নবায়ন বা মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পুনরায় ইস্যু করতে চান। আবার অনেকেই জানেন না, ঘরে বসেই ই-পাসপোর্টের আবেদন ফরম পূরণ, ফি পরিশোধ এবং আবেদনের অগ্রগতি যাচাই করা যায়। সঠিক নিয়ম জানা থাকলে নিজের আবেদন নিজেই করা সম্ভব।

বাংলাদেশে ই-পাসপোর্টের আবেদন করার জন্য সরকারি অনলাইন পোর্টাল রয়েছে। সেখানে আবেদনকারীর ব্যক্তিগত তথ্য, জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধনের তথ্য, বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য বিবরণ দিতে হয়। আবেদন জমা দেওয়ার পর নির্ধারিত পাসপোর্ট অফিসে উপস্থিত হয়ে পরিচয় যাচাই, ছবি, আঙুলের ছাপ ও অন্যান্য বায়োমেট্রিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়।

অর্থাৎ, ই-পাসপোর্টের আবেদন ঘরে বসে অনলাইনে করা গেলেও পুরো প্রক্রিয়া ঘরে বসে শেষ করা যায় না। নির্ধারিত নিয়মে পাসপোর্ট অফিসে উপস্থিত হওয়া এবং প্রয়োজনীয় মূল কাগজপত্র দেখানো গুরুত্বপূর্ণ।

এই প্রতিবেদনে দালাল ছাড়াই ই-পাসপোর্ট করার নিয়ম, অনলাইনে আবেদন ফরম পূরণ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, সরকারি ফি, আবেদন জমা, বায়োমেট্রিক, পাসপোর্টের স্ট্যাটাস চেক এবং আবেদন আটকে গেলে করণীয় বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।

ই-পাসপোর্ট কী এবং কেন প্রয়োজন?

ই-পাসপোর্ট বা ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট হলো এমন একটি পাসপোর্ট, যাতে একটি ইলেকট্রনিক চিপে নির্দিষ্ট পরিচয় ও বায়োমেট্রিক তথ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা থাকে। আন্তর্জাতিক ভ্রমণ, বিদেশে পড়াশোনা, চাকরি, চিকিৎসা, ব্যবসা এবং বিভিন্ন দেশের ভিসা প্রক্রিয়ায় পাসপোর্ট গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়পত্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

ই-পাসপোর্টে আবেদনকারীর ব্যক্তিগত তথ্যের পাশাপাশি পাসপোর্টের নির্দিষ্ট তথ্য ও বায়োমেট্রিক-সংক্রান্ত তথ্য থাকে। এর মাধ্যমে পাসপোর্ট যাচাইয়ের প্রক্রিয়া আরও নির্ভরযোগ্য করার সুযোগ তৈরি হয়। তবে ই-পাসপোর্ট থাকলেই কোনো দেশে প্রবেশের অনুমতি নিশ্চিত হয় না। গন্তব্য দেশের ভিসা, প্রবেশের শর্ত এবং অন্যান্য নিয়মও পূরণ করতে হয়।

বাংলাদেশে নতুন পাসপোর্ট করার পাশাপাশি পুরোনো পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হলে, পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে কিংবা নির্ধারিত কারণে নতুন পাসপোর্ট ইস্যু করার প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করতে হয়।

দালাল ছাড়াই ই-পাসপোর্ট আবেদন করবেন যেভাবে

ই-পাসপোর্ট করার জন্য প্রথমে সরকারি অনলাইন পোর্টালে প্রবেশ করতে হবে। এরপর নিজের বর্তমান ঠিকানা অনুযায়ী কোন পাসপোর্ট অফিসে আবেদন জমা দিতে হবে, সেটি নির্বাচন করতে হবে।

সরকারি আবেদন পোর্টাল: বাংলাদেশ ই-পাসপোর্ট অনলাইন আবেদন

পোর্টালে প্রবেশ করে নতুন ই-পাসপোর্টের আবেদন অথবা পুরোনো পাসপোর্ট পুনরায় ইস্যুর জন্য প্রযোজ্য অপশন নির্বাচন করুন। আবেদনকারী বাংলাদেশে থাকেন নাকি বিদেশে, সেটিও সঠিকভাবে উল্লেখ করতে হবে। এরপর বর্তমান ঠিকানার জেলা ও সংশ্লিষ্ট থানা নির্বাচন করলে পোর্টাল প্রযোজ্য পাসপোর্ট অফিসের তথ্য দেখাতে পারে।

আবেদন করার আগে নিজের জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধনের তথ্য, মোবাইল নম্বর, ইমেইল ঠিকানা এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য তথ্য প্রস্তুত রাখুন। আবেদন ফরমে দেওয়া তথ্য যেন পরিচয়পত্রের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়, তা নিশ্চিত করুন।

অনলাইনে ফরম পূরণ করার সময় তাড়াহুড়া না করে প্রতিটি তথ্য যাচাই করুন। নামের বানান, জন্মতারিখ, পিতা-মাতার নাম, পেশা এবং ঠিকানায় ভুল থাকলে পরবর্তী সময়ে সংশোধনের প্রয়োজন হতে পারে। সব তথ্য ঠিক থাকলে আবেদন জমা দিন এবং পোর্টালের নির্দেশনা অনুযায়ী ফরমের PDF কপি সংরক্ষণ করুন।

আবেদন জমা দেওয়ার পর প্রযোজ্য ফি পরিশোধ করতে হবে। ফি পরিশোধের রসিদ বা চালান সংরক্ষণ করুন। এরপর নির্ধারিত পাসপোর্ট অফিসে প্রয়োজনীয় মূল কাগজপত্র ও আবেদনপত্র নিয়ে উপস্থিত হতে হবে।

ই-পাসপোর্ট আবেদন করতে কী কী কাগজপত্র লাগে?

ই-পাসপোর্টের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র আবেদনকারীর বয়স, নাগরিকত্ব, পেশা, পাসপোর্টের ধরন এবং আবেদনের কারণ অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে। তাই সবাইকে একই ধরনের নথি জমা দিতে হবে—এমন ধারণা ঠিক নয়।

জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন সনদ: প্রাপ্তবয়স্ক আবেদনকারীর ক্ষেত্রে বয়স অনুযায়ী জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য গুরুত্বপূর্ণ। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ১৮ বছরের কম বয়সীদের জন্য অনলাইন জন্মনিবন্ধনের ইংরেজি সংস্করণ প্রয়োজন হয়। ১৮ থেকে ২০ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে এনআইডি অথবা অনলাইন জন্মনিবন্ধন গ্রহণযোগ্য হতে পারে। ২০ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য সাধারণত এনআইডি প্রয়োজন হয়। বিদেশে বাংলাদেশ মিশনের মাধ্যমে আবেদন করার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নিয়ম আলাদা হতে পারে।

পিতা বা মাতার এনআইডি: ১৮ বছরের কম বয়সী আবেদনকারীর নিজস্ব এনআইডি না থাকলে পিতা বা মাতার এনআইডি নম্বর ও কপি প্রয়োজন হতে পারে।

অনলাইনে পূরণ করা আবেদনপত্র: আবেদন জমা দেওয়ার পর পোর্টাল থেকে পাওয়া আবেদনপত্রের প্রিন্ট করা কপি সঙ্গে রাখতে হবে।

ফি পরিশোধের রসিদ: অফলাইনে চালানের মাধ্যমে ফি পরিশোধ করলে চালানের কপি এবং অনলাইনে পরিশোধ করলে সংশ্লিষ্ট পেমেন্ট রসিদ সংরক্ষণ করতে হবে।

পুরোনো পাসপোর্ট: আগে পাসপোর্ট করা থাকলে পুনরায় ইস্যুর আবেদনে পুরোনো পাসপোর্ট দেখাতে হতে পারে। পাসপোর্টের তথ্য পরিবর্তন বা সংশোধনের প্রয়োজন থাকলে অতিরিক্ত নথি চাওয়া হতে পারে।

পেশাগত নথি: সরকারি চাকরিজীবী বা নির্দিষ্ট পেশার আবেদনকারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য অনাপত্তিপত্র, সরকারি আদেশ, প্রত্যয়নপত্র, অবসরসংক্রান্ত নথি বা কারিগরি সনদ প্রয়োজন হতে পারে।

বিবাহ বা তালাকের নথি: প্রযোজ্য ক্ষেত্রে বৈবাহিক অবস্থা বা সংশ্লিষ্ট তথ্যের সমর্থনে বিবাহ সনদ, নিকাহনামা বা তালাকনামা জমা দিতে হতে পারে।

হারানো পাসপোর্টের নথি: পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে সাধারণত থানায় করা জিডির কপি, পুরোনো পাসপোর্টের ফটোকপি এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য নথি প্রয়োজন হতে পারে।

শিশুর পাসপোর্টের ছবি: ছয় বছরের কম বয়সী শিশুর ক্ষেত্রে সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নির্দিষ্ট মাপ ও ব্যাকগ্রাউন্ডের ছবি চাওয়া হতে পারে।

আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট নথিগুলোর মূল কপি ও ফটোকপি প্রস্তুত রাখুন। সব নথি সবার ক্ষেত্রে প্রয়োজন হবে না। তাই আবেদন জমা দেওয়ার আগে সরকারি পোর্টালের নির্দেশনা দেখে নিজের জন্য প্রযোজ্য কাগজপত্র নিশ্চিত করা উচিত।

ই-পাসপোর্টের অনলাইন ফরম পূরণ করার নিয়ম

অনলাইনে আবেদন করার সময় প্রথমে আবেদনকারীর ব্যক্তিগত তথ্য দিতে হয়। জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধনের তথ্যের সঙ্গে মিল রেখে নাম, জন্মতারিখ এবং অন্যান্য পরিচয়-সংক্রান্ত তথ্য পূরণ করুন।

নাম বাংলায় ও ইংরেজিতে লেখার ক্ষেত্রে পরিচয়পত্রের বানান অনুসরণ করা জরুরি। নিজের ইচ্ছামতো বানান পরিবর্তন করলে পরবর্তী সময়ে তথ্যের অমিল দেখা দিতে পারে। জন্মতারিখের ক্ষেত্রে দিন, মাস ও বছরের বিন্যাস ঠিক আছে কি না যাচাই করুন।

আরও পড়ুন-পাসপোর্ট চেক করতে অফিসে নয় এখন সব হবে অনলাইনে

এরপর পিতা-মাতার তথ্য, পেশা, যোগাযোগের ঠিকানা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় বিবরণ দিতে হবে। বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা আলাদা হলে উভয় ঠিকানা সঠিকভাবে উল্লেখ করুন। আবেদনকারী যে এলাকার বাসিন্দা, সেই এলাকার অধিক্ষেত্র অনুযায়ী পাসপোর্ট অফিস নির্বাচন করতে হবে।

আবেদন ফরমে কোনো ঘর তারকা চিহ্নিত থাকলে সেটি অবশ্যই পূরণ করতে হবে। কোনো তথ্য আপনার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না হলে পোর্টালে দেওয়া নির্দেশনা অনুসরণ করুন; অনুমান করে ভুল তথ্য দেবেন না।

সব তথ্য পূরণ করার পর সম্পূর্ণ ফরম আবার যাচাই করুন। ভুল ধরা পড়লে আবেদন জমা দেওয়ার আগেই সংশোধন করুন। আবেদন জমা দেওয়ার পর কোনো তথ্য পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।

ই-পাসপোর্টের সরকারি ফি কত?

ই-পাসপোর্টের ফি নির্ভর করে পাসপোর্টের পৃষ্ঠা সংখ্যা, মেয়াদ এবং ডেলিভারির ধরনের ওপর। বাংলাদেশে সাধারণ আবেদনকারীদের জন্য সরকারি পোর্টালে প্রকাশিত ফি তালিকা অনুযায়ী ৪৮ পৃষ্ঠার পাঁচ বছর মেয়াদি পাসপোর্টের রেগুলার, এক্সপ্রেস ও সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারির ফি আলাদা।

বর্তমান প্রকাশিত ফি তালিকায় ৪৮ পৃষ্ঠার পাঁচ বছর মেয়াদি রেগুলার পাসপোর্টের ফি ৪,০২৫ টাকা এবং ১০ বছর মেয়াদি রেগুলার পাসপোর্টের ফি ৫,৭৫০ টাকা দেখানো হয়েছে। এক্সপ্রেস ও সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারির ক্ষেত্রে ফি বেশি। ৬৪ পৃষ্ঠার পাসপোর্টের ফিও আলাদা।

ফি পরিশোধের আগে নিজের পাসপোর্টের মেয়াদ, পৃষ্ঠা সংখ্যা ও ডেলিভারির ধরন নির্বাচন করে সরকারি পোর্টালে প্রদর্শিত চূড়ান্ত অঙ্ক যাচাই করুন। ফি পরিবর্তিত হতে পারে এবং আবেদনকারীর ধরন অনুযায়ী অতিরিক্ত শর্ত থাকতে পারে।

অনুমোদিত অনলাইন পেমেন্ট পদ্ধতি বা সরকারি চালানের মাধ্যমে ফি পরিশোধ করা যায়। পোর্টালে প্রদর্শিত অনুমোদিত মাধ্যমের মধ্যে ব্যাংক ও নির্দিষ্ট ডিজিটাল পেমেন্ট সেবা থাকতে পারে। পেমেন্ট সম্পন্ন হলে রসিদ সংরক্ষণ করুন।

কোনো দালাল বা অপরিচিত ব্যক্তিকে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে দ্রুত পাসপোর্ট করানোর চেষ্টা করবেন না। সরকারি ফি ছাড়া অন্য কাউকে অর্থ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কোনো ব্যক্তি তথ্য সংশোধন বা আবেদন-সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের নামে টাকা চাইলে সতর্ক থাকুন।

ই-পাসপোর্টের ফি কোথায় জমা দেবেন?

ই-পাসপোর্টের ফি সরকারি পোর্টালে উল্লেখ করা অনুমোদিত পেমেন্ট পদ্ধতি ব্যবহার করে জমা দিতে হবে। অনলাইনে পেমেন্টের সুবিধা থাকলে পোর্টালের নির্দেশনা অনুযায়ী পেমেন্ট সম্পন্ন করুন। অফলাইনে পরিশোধ করতে হলে অনুমোদিত ব্যাংক বা সরকারি চালান পদ্ধতি ব্যবহার করুন।

পেমেন্ট করার সময় আবেদনকারীর তথ্য ও পরিশোধযোগ্য অঙ্ক মিলিয়ে নিন। ভুল পেমেন্ট হলে পরবর্তী প্রক্রিয়ায় সমস্যা তৈরি হতে পারে। পেমেন্টের রসিদ বা চালান নম্বর সংরক্ষণ করুন, কারণ পাসপোর্ট অফিসে আবেদন জমা দেওয়ার সময় এটি প্রয়োজন হতে পারে।

অপরিচিত ব্যক্তির ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বা মোবাইল ওয়ালেটে পাসপোর্টের ফি পাঠাবেন না। সরকারি পোর্টালে প্রদর্শিত অনুমোদিত পদ্ধতি ছাড়া অন্য কোনো মাধ্যমে টাকা দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ।

পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে কী করতে হবে?

অনলাইনে আবেদন ও ফি পরিশোধ সম্পন্ন হলে নির্ধারিত পাসপোর্ট অফিসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে যেতে হবে। আবেদনপত্রের প্রিন্ট কপি, মূল এনআইডি বা জন্মনিবন্ধন, ফি পরিশোধের রসিদ এবং প্রযোজ্য অন্যান্য নথি সঙ্গে রাখুন।

পাসপোর্ট অফিসে প্রথমে আবেদন ও কাগজপত্র যাচাই করা হতে পারে। এরপর আবেদনকারীর ছবি, আঙুলের ছাপ, স্বাক্ষর এবং প্রয়োজনীয় বায়োমেট্রিক তথ্য নেওয়া হয়। তথ্য সংগ্রহের সময় কর্মকর্তার নির্দেশনা অনুসরণ করুন।

আবেদনের তথ্য ও কাগজপত্রে কোনো অমিল থাকলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা অতিরিক্ত নথি চাইতে পারেন। তাই আবেদনপত্রে দেওয়া তথ্যের সমর্থনে প্রয়োজনীয় মূল কাগজপত্র সঙ্গে রাখা গুরুত্বপূর্ণ।

বায়োমেট্রিক নিবন্ধন সম্পন্ন হলে আবেদনটি পরবর্তী যাচাই ও প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হয়। আবেদন জমা দেওয়ার রসিদ বা এনরোলমেন্ট স্লিপ সংরক্ষণ করুন। এটি পরবর্তী সময়ে পাসপোর্টের অবস্থা যাচাই করতে কাজে লাগতে পারে।

ই-পাসপোর্ট পেতে কত দিন সময় লাগে?

ই-পাসপোর্ট পেতে সময় নির্ভর করে আবেদনকারীর নির্বাচিত ডেলিভারি ধরন, তথ্য যাচাই, বায়োমেট্রিক নিবন্ধন এবং সংশ্লিষ্ট অফিসের প্রক্রিয়ার ওপর। সরকারি পোর্টালে প্রকাশিত সময়সীমা অনুযায়ী রেগুলার ডেলিভারির ক্ষেত্রে বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের তারিখ থেকে সাধারণত ১৫ কর্মদিবস, এক্সপ্রেস ডেলিভারির ক্ষেত্রে সাত কর্মদিবস এবং সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারির ক্ষেত্রে দুই কর্মদিবসের সময়সীমা উল্লেখ রয়েছে।

তবে এগুলো নির্ধারিত সেবার প্রকাশিত সময়সীমা; সব আবেদনেই একই সময়ে পাসপোর্ট হাতে পাওয়া নিশ্চিত নয়। তথ্যের অমিল, পুলিশি যাচাই বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় যাচাই, প্রশাসনিক জটিলতা কিংবা অতিরিক্ত নথির প্রয়োজন হলে সময় বাড়তে পারে।

তাই জরুরি ভ্রমণ পরিকল্পনা থাকলে আবেদন করার আগেই পাসপোর্ট অফিসের নির্দেশনা অনুযায়ী সম্ভাব্য সময় যাচাই করুন। শুধু দ্রুত ডেলিভারির ফি দিলেই সব ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট দিনে পাসপোর্ট হাতে পাওয়া নিশ্চিত হবে—এমন ধারণা করা উচিত নয়।

অনলাইনে ই-পাসপোর্টের স্ট্যাটাস চেক করবেন যেভাবে

আবেদন জমা দেওয়ার পর পাসপোর্টের বর্তমান অবস্থা জানতে সরকারি পোর্টালের স্ট্যাটাস যাচাইয়ের সুবিধা ব্যবহার করা যায়। সাধারণত আবেদনসংক্রান্ত নম্বর ও প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে আবেদনটির অগ্রগতি দেখা যায়।

প্রথমে সরকারি ই-পাসপোর্ট পোর্টালে প্রবেশ করুন। সেখানে আবেদন বা স্ট্যাটাস যাচাইয়ের প্রাসঙ্গিক অপশন নির্বাচন করুন। পোর্টাল যে তথ্য চাইবে, তা সঠিকভাবে দিয়ে আবেদনটির বর্তমান অবস্থা দেখুন।

স্ট্যাটাসে আবেদন প্রক্রিয়াধীন, যাচাই চলছে বা পাসপোর্ট প্রস্তুত—এ ধরনের অবস্থা দেখানো হতে পারে। প্রতিটি অবস্থার অর্থ পোর্টালের নির্দেশনা অনুযায়ী বুঝতে হবে। দীর্ঘদিন একই অবস্থা দেখালে আবেদন জমা দেওয়ার রসিদ নিয়ে সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিসে যোগাযোগ করুন।

পাসপোর্ট প্রস্তুত হলে কীভাবে সংগ্রহ করতে হবে, তা সংশ্লিষ্ট অফিসের নির্দেশনা অনুযায়ী নিশ্চিত করুন। পাসপোর্ট সংগ্রহের সময় আবেদনকারীর পরিচয় যাচাই ও প্রয়োজনীয় রসিদ দেখাতে হতে পারে।

ই-পাসপোর্টের আবেদন আটকে গেলে কী করবেন?

আবেদন পেন্ডিং থাকলে প্রথমে স্ট্যাটাস যাচাই করুন। আবেদনপত্রে কোনো ভুল, নথির ঘাটতি বা অতিরিক্ত যাচাইয়ের প্রয়োজন আছে কি না, তা জানার চেষ্টা করুন।

যদি আবেদনপত্রে ভুল তথ্য দেওয়া হয়ে থাকে, তাহলে নিজের সিদ্ধান্তে নতুন আবেদন না করে সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিসে যোগাযোগ করুন। তথ্য সংশোধনের জন্য সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। আবেদন-সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের নামে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে টাকা দেবেন না।

পেমেন্টের সমস্যা হলে পেমেন্ট রসিদ ও লেনদেনের তথ্য সংরক্ষণ করুন। পোর্টালে উল্লেখ করা অনুমোদিত পেমেন্ট সেবাদাতা বা সংশ্লিষ্ট অফিসের নির্দেশনা অনুসরণ করুন।

আবেদন দীর্ঘদিন আটকে থাকলে আবেদন নম্বর, এনরোলমেন্ট স্লিপ এবং প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে নিয়ে সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিসে যোগাযোগ করুন। সরকারি পোর্টাল ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুসরণ করাই সবচেয়ে নিরাপদ।

পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে বা মেয়াদ শেষ হলে কী করবেন?

পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে নতুন করে আবেদন করার আগে প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী থানায় জিডি করতে হতে পারে। আবেদনের সঙ্গে জিডির কপি, পুরোনো পাসপোর্টের ফটোকপি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে হতে পারে।

পুরোনো পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হলে বা নতুন পাসপোর্ট প্রয়োজন হলে রি-ইস্যুর আবেদন করতে হয়। এ ক্ষেত্রে আগের পাসপোর্টের তথ্য দিতে হবে এবং মূল পাসপোর্ট থাকলে তা দেখাতে হতে পারে।

নাম, জন্মতারিখ বা অন্যান্য তথ্য পরিবর্তন করতে চাইলে প্রাসঙ্গিক প্রমাণপত্র প্রয়োজন হতে পারে। আবেদন করার আগে সরকারি নির্দেশনা দেখে নিন, কারণ রি-ইস্যু, তথ্য সংশোধন ও হারানো পাসপোর্টের প্রক্রিয়া এক নয়।

দালাল ছাড়া পাসপোর্ট করার সময় যেসব বিষয়ে সতর্ক থাকবেন

প্রথমত, শুধু সরকারি ওয়েবসাইট ব্যবহার করুন। অপরিচিত ওয়েবসাইট বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের লিংকে ব্যক্তিগত তথ্য দেবেন না।

দ্বিতীয়ত, পাসপোর্টের ফি কেবল অনুমোদিত মাধ্যমে পরিশোধ করুন। সরকারি পোর্টালে উল্লেখ নেই—এমন কোনো ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাবেন না।

তৃতীয়ত, আবেদনপত্রে সঠিক তথ্য দিন। জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্মনিবন্ধন এবং অন্যান্য নথিতে তথ্যের অমিল থাকলে আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা নিন।

চতুর্থত, আবেদন জমা দেওয়ার পর প্রাপ্ত রসিদ, আবেদন নম্বর ও পেমেন্টের প্রমাণ সংরক্ষণ করুন। এগুলো ছাড়া পরবর্তী সময়ে আবেদন যাচাইয়ে সমস্যা হতে পারে।

পঞ্চমত, পাসপোর্টের নামে প্রতারণামূলক SMS বা লিংক থেকে সতর্ক থাকুন। সরকারি ই-পাসপোর্ট পোর্টালের সতর্কতা অনুযায়ী, ই-পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষ SMS-এর মাধ্যমে কোনো লিংক পাঠায় না। অফিসিয়াল বার্তা ছাড়া অন্য কোনো নম্বর বা প্রেরকের পাঠানো লিংকে ক্লিক করবেন না।

দালাল ছাড়াই ই-পাসপোর্ট করা নিয়ে সাধারণ প্রশ্ন

প্রশ্ন: ঘরে বসেই কি ই-পাসপোর্ট তৈরি করা যায়?

উত্তর: অনলাইনে আবেদন ও ফি পরিশোধের মতো কাজ ঘরে বসে করা যায়। তবে ছবি, আঙুলের ছাপ ও প্রয়োজনীয় বায়োমেট্রিক তথ্য দেওয়ার জন্য সাধারণত নির্ধারিত পাসপোর্ট অফিসে উপস্থিত হতে হয়।

প্রশ্ন: ই-পাসপোর্টের আবেদন করতে কি দালাল প্রয়োজন?

উত্তর: না। সরকারি অনলাইন পোর্টাল ব্যবহার করে নিজেই আবেদন করা যায়। সঠিক তথ্য, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সরকারি ফি পরিশোধের নিয়ম অনুসরণ করলে দালালের সাহায্য নেওয়া বাধ্যতামূলক নয়।

প্রশ্ন: ই-পাসপোর্ট করতে কত টাকা লাগে?

উত্তর: ফি নির্ভর করে পাসপোর্টের পৃষ্ঠা সংখ্যা, মেয়াদ ও ডেলিভারির ধরনের ওপর। আবেদন করার আগে সরকারি পোর্টালে প্রদর্শিত বর্তমান ফি যাচাই করুন।

প্রশ্ন: অনলাইনে আবেদন করলেই কি পাসপোর্ট পাওয়া যাবে?

উত্তর: না। আবেদন জমা দেওয়ার পর কাগজপত্র যাচাই, বায়োমেট্রিক নিবন্ধন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হয়।

প্রশ্ন: পাসপোর্টের আবেদন পেন্ডিং থাকলে কী করব?

উত্তর: সরকারি পোর্টালে স্ট্যাটাস যাচাই করুন। দীর্ঘদিন কোনো পরিবর্তন না হলে আবেদন নম্বর ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিসে যোগাযোগ করুন।

প্রশ্ন: পাসপোর্টের তথ্য সংশোধন করতে কি টাকা দিতে হয়?

উত্তর: সরকারি পোর্টালের সতর্কতা অনুযায়ী, আবেদনপত্রে দেওয়া তথ্য সংশোধন বা সমস্যা সমাধানের জন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে অর্থ দেওয়ার প্রয়োজন নেই। প্রযোজ্য সরকারি ফি ও অন্যান্য সেবার নিয়ম আলাদাভাবে যাচাই করতে হবে।

শেষ কথা

দালাল ছাড়াই ই-পাসপোর্ট করা সম্ভব। এজন্য প্রথমে সরকারি অনলাইন পোর্টালে আবেদন শুরু করতে হবে, সঠিক তথ্য দিয়ে ফরম পূরণ করতে হবে, নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ পাসপোর্ট অফিসে উপস্থিত হয়ে বায়োমেট্রিক নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।

আবেদন করার আগে নিজের এনআইডি বা জন্মনিবন্ধনের তথ্য যাচাই করুন এবং সব রসিদ সংরক্ষণ করুন। কোনো ব্যক্তি দ্রুত পাসপোর্ট করিয়ে দেওয়ার নিশ্চয়তা দিয়ে অতিরিক্ত টাকা চাইলে সতর্ক থাকুন। সরকারি নিয়ম অনুসরণ করে আবেদন করলে অপ্রয়োজনীয় খরচ ও প্রতারণার ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

বাংলা টেক নিউজ টিম

বাংলা টেক নিউজ টিম একটি অভিজ্ঞ, দায়িত্বশীল ও পেশাদার কনটেন্ট রাইটারদের সমন্বয়ে গঠিত একটি লেখক দল, যারা বাংলা ভাষায় নির্ভুল, তথ্যভিত্তিক ও পাঠক-বান্ধব কনটেন্ট তৈরিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের প্রতিটি লেখক প্রযুক্তি, ব্রেকিং নিউজ, অনলাইন আয়, স্বাস্থ্য, লাইফস্টাইল, ডিজিটাল ট্রেন্ড ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে গভীর গবেষণার মাধ্যমে কনটেন্ট তৈরি করে থাকেন।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now