প্রতিদিন অসংখ্যবার আমরা মোবাইল ফোনে কথা বলি। পরিবারের সদস্য, বন্ধু বা সহকর্মী পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে থাকলেও মুহূর্তের মধ্যেই তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়। কিন্তু কখনো কি ভেবেছেন, আপনার মুখ থেকে বের হওয়া শব্দ কীভাবে কয়েক সেকেন্ডেরও কম সময়ে শত বা হাজার কিলোমিটার দূরে থাকা অন্য একজনের কানে পৌঁছে যায়?
আরও পড়ুন-গাড়ির ছাদের শার্ক ফিন অ্যান্টেনা কেন থাকে? জানুন এর আসল কাজ
প্রযুক্তির এই বিস্ময়কর প্রক্রিয়া শুরু হয় ফোনের মাইক্রোফোন থেকে। আপনি কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে মাইক্রোফোন আপনার কণ্ঠস্বরের শব্দতরঙ্গ গ্রহণ করে। এরপর স্মার্টফোনের ভেতরে থাকা বিশেষ সার্কিট ও প্রসেসর সেই শব্দকে বৈদ্যুতিক সিগন্যালে রূপান্তর করে। পরে সিগন্যালগুলো ডিজিটাল ডেটায় পরিণত হয়, যা কম্পিউটার ও টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক সহজে বুঝতে পারে।
ডিজিটাল ডেটায় রূপান্তরের পর ফোনের অ্যান্টেনা রেডিও তরঙ্গের মাধ্যমে তথ্যগুলো নিকটবর্তী মোবাইল টাওয়ারে পাঠায়। এই সিগন্যাল প্রায় আলোর গতির কাছাকাছি বেগে ভ্রমণ করে। টাওয়ার সিগন্যাল গ্রহণ করে তা মোবাইল নেটওয়ার্কের বেস স্টেশনে পাঠায়, যেখানে নির্ধারণ করা হয় কলটি কোন গন্তব্যে যাবে।
যদি কলটি একই মোবাইল অপারেটরের নেটওয়ার্কে থাকে, তাহলে তথ্য সরাসরি সংশ্লিষ্ট টাওয়ারে পাঠানো হয়। আর অন্য অপারেটর বা ল্যান্ডফোনে কল করা হলে সিগন্যাল প্রথমে সুইচিং সেন্টারে যায়। টেলিযোগাযোগ বিশেষজ্ঞরা এই সুইচিং সেন্টারকে নেটওয়ার্কের ‘মস্তিষ্ক’ হিসেবে বিবেচনা করেন। এখান থেকেই নির্ধারণ করা হয় কলটি কোন পথ ধরে গন্তব্যে পৌঁছাবে।
বর্তমানে অধিকাংশ ভয়েস ডেটা ফাইবার অপটিক কেবলের মাধ্যমে পরিবহন করা হয়। এই কেবলগুলো আলোর সাহায্যে বিপুল পরিমাণ তথ্য অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পৌঁছে দিতে সক্ষম। কিছু ক্ষেত্রে স্যাটেলাইট যোগাযোগ ব্যবস্থাও ব্যবহার করা হয়।
এরপর নেটওয়ার্ক রিসিভারের অবস্থান শনাক্ত করে তার সবচেয়ে কাছের মোবাইল টাওয়ারে সিগন্যাল পাঠায়। টাওয়ার থেকে রেডিও তরঙ্গের মাধ্যমে সেই তথ্য রিসিভারের ফোনে পৌঁছে যায়। ফোনটি আবার ডিজিটাল ডেটাকে বৈদ্যুতিক সিগন্যালে এবং পরে শব্দে রূপান্তর করে। তখনই অপর প্রান্তের ব্যক্তি আপনার কণ্ঠস্বর শুনতে পান।
সবচেয়ে অবাক করার বিষয় হলো, এই পুরো প্রক্রিয়াটি মিলিসেকেন্ডের মধ্যে সম্পন্ন হয়। ফলে ব্যবহারকারীরা সাধারণত কোনো বিলম্ব অনুভব করেন না। মাইক্রোফোন, মোবাইল টাওয়ার, ফাইবার অপটিক নেটওয়ার্ক এবং সুইচিং প্রযুক্তির সমন্বয়েই আজ বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে থাকা মানুষের সঙ্গে তাৎক্ষণিক যোগাযোগ সম্ভব হচ্ছে।
সুত্রঃ মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ডিজিটাল যোগাযোগব্যবস্থা সম্পর্কিত প্রযুক্তিগত তথ্য।
আরও পড়ুন-ফোনে ইন্টারনেটের গতি বাড়ানোর সহজ উপায়, জেনে নিন কার্যকর টিপস
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔






