কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহ যেমন বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে এক ধরনের ভয়ও। অনেকেই মনে করেন, নিজের কম্পিউটারে এআই চালাতে হলে লাখ টাকার শক্তিশালী গ্রাফিক্স কার্ড বা অত্যাধুনিক হার্ডওয়্যার লাগবে। ফলে সাধারণ ব্যবহারকারীরা শুরুতেই পিছিয়ে পড়েন।কিন্তু প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাস্তবতা পুরোপুরি ভিন্ন।
বর্তমানে বাজারে এমন অনেক লাইটওয়েট ও অপ্টিমাইজড এআই মডেল রয়েছে, যেগুলো সাধারণ ডেস্কটপ বা ল্যাপটপেও সহজে চালানো সম্ভব। এমনকি ১৬ জিবি র্যাম এবং একটি সাধারণ Intel Core i5 বা AMD Ryzen 5 প্রসেসর থাকলেও লোকালভাবে AI মডেল ব্যবহার করা যায়।
আরও পড়ুন-ল্যাপটপ স্লো হয়ে যায় কেন? গতি বাড়ানোর সহজ উপায়
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে লোকাল ইনফারেন্স বা নিজের কম্পিউটারে এআই চালানোর প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে।এর অন্যতম কারণ হলো—প্রাইভেসি, অফলাইন ব্যবহার এবং কম খরচে AI সুবিধা পাওয়া।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখন সাধারণ ব্যবহারকারীরাও সহজেই Meta–এর Llama 3, Microsoft–এর Phi-3 কিংবা Alibaba Cloud–এর Qwen সিরিজের মতো জনপ্রিয় লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল ব্যবহার করতে পারেন।এসব মডেল দিয়ে ই–মেইল লেখা, কোডিং, ডকুমেন্ট সারাংশ তৈরি কিংবা বিভিন্ন ধরনের অটোমেশন কাজ করা সম্ভব।অনেকের ধারণা, GPU ছাড়া এআই চালানো অসম্ভব। কিন্তু এখানে বড় ভূমিকা রাখছে ‘Quantization’ প্রযুক্তি।
এই পদ্ধতিতে বড় AI মডেলকে ছোট আকারে সংকুচিত করা হয়, যাতে সেটি কম র্যাম ব্যবহার করেই সাধারণ কম্পিউটারে চলতে পারে।ফলে দামি গ্রাফিক্স কার্ড ছাড়াই এআই ব্যবহার সম্ভব হচ্ছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, Mistral–এর মতো অনেক মডেল এখন সাধারণ RAM ব্যবহার করেই বেশ ভালো পারফরম্যান্স দেয়।এক্ষেত্রে জনপ্রিয় কিছু ফ্রি সফটওয়্যারও ব্যবহার করা যায়।যেমন—Ollama এবং LM Studio।
এই সফটওয়্যারগুলো ব্যবহার করে খুব সহজেই লোকাল কম্পিউটারে AI মডেল ডাউনলোড ও চালানো যায়।প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, লোকাল ইনফারেন্সের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো ব্যবহারকারীর তথ্য নিজের ডিভাইসেই থাকে।অর্থাৎ, ক্লাউড সার্ভারে তথ্য পাঠানোর প্রয়োজন হয় না, ফলে প্রাইভেসি অনেক বেশি সুরক্ষিত থাকে।এছাড়া ইন্টারনেট সংযোগ ছাড়াও অনেক AI কাজ করা সম্ভব হয়।
বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে বর্তমানে অনেক ব্যবহারকারী ব্যক্তিগত কাজ, অফিস অটোমেশন, কোডিং এবং লেখালেখির জন্য লোকাল AI ব্যবহার শুরু করেছেন।বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে AI ব্যবহারের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হবে এখানেই—সবকিছু ক্লাউডে না গিয়ে ব্যক্তিগত ডিভাইসেও শক্তিশালী AI কাজ করবে।
তারা আরও বলছেন, অকারণে দামি হার্ডওয়্যারের পেছনে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করার আগে নিজের প্রয়োজন বোঝা জরুরি।কারণ সঠিক সফটওয়্যার, সঠিক মডেল এবং স্মার্ট ওয়ার্কফ্লো থাকলে সাধারণ পিসিও অনেক শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে।
সব মিলিয়ে, AI এখন আর শুধু বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের বিষয় নয়; বরং সাধারণ ব্যবহারকারীর ডেস্কটপেও ধীরে ধীরে জায়গা করে নিচ্ছে এই প্রযুক্তি।
সুত্রঃ Ollama Official Website
আরও পড়ুন-২০২৬ সালের সেরা ৫ স্টুডেন্ট ল্যাপটপ কম বাজেটেই মিলছে শক্তিশালী পারফরম্যান্স
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔






