স্মার্টফোন থেকে ছবি, ভিডিও বা গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ডিলিট করলেই আমরা সাধারণত ধরে নিই সেগুলো পুরোপুরি মুছে গেছে। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি এতটা সহজ নয়। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, ফোন বা ক্লাউড থেকে ডেটা ডিলিট করার পরও অনেক ক্ষেত্রে সেই তথ্য দীর্ঘসময় পর্যন্ত সংরক্ষিত থেকে যেতে পারে, যা ব্যক্তিগত গোপনীয়তার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বর্তমানে স্মার্টফোনে ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও, ব্যাংকিং তথ্য, পরিচয়পত্র এবং ব্যক্তিগত নথি সংরক্ষণ করা খুবই সাধারণ বিষয়। তাই ডিভাইস বিক্রি, রিসেট বা অন্য কারও হাতে দেওয়ার আগে শুধু ফাইল ডিলিট করাই যথেষ্ট নয় বলে সতর্ক করছেন সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।
আরও পড়ুন-অ্যাপ ছাড়াই চলবে ফোন ওপেনএআই আনছে এআই এজেন্ট স্মার্টফোন
বিশেষজ্ঞদের মতে, যখন কোনো ছবি বা ভিডিও ডিলিট করা হয়, তখন অধিকাংশ অপারেটিং সিস্টেম আসলে ফাইলটির মূল ডেটা মুছে ফেলে না। বরং সেই ফাইলের অবস্থান বা অ্যাক্সেস তথ্য সরিয়ে দেয়।অর্থাৎ, ডেটাটি মেমোরিতে থেকে যায় যতক্ষণ না নতুন কোনো তথ্য তার ওপর লেখা হচ্ছে।
এই কারণেই বিভিন্ন ডেটা রিকভারি সফটওয়্যার ব্যবহার করে অনেক সময় পুরোনো ছবি, ভিডিও বা ফাইল পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়।
বিশেষ করে ব্যবহৃত ফোন বিক্রির ক্ষেত্রে এটি বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কারণ ডিভাইস সঠিকভাবে পরিষ্কার না করলে নতুন ব্যবহারকারী বিশেষ সফটওয়্যার দিয়ে পুরোনো মালিকের ব্যক্তিগত তথ্য উদ্ধার করতে পারেন।
শুধু স্মার্টফোন নয়, ক্লাউড স্টোরেজেও একই ধরনের ঝুঁকি রয়েছে।
Google Drive, Dropbox কিংবা অন্যান্য ক্লাউড প্ল্যাটফর্মে কোনো ফাইল ডিলিট করার পর তা অনেক সময় ‘Trash’, ‘Bin’ বা ‘Version History’-তে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত সংরক্ষিত থাকে।
ফলে ব্যবহারকারী মনে করলেও যে ফাইলটি মুছে গেছে, বাস্তবে সেটি এখনও সার্ভারে সংরক্ষিত থাকতে পারে।
সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্যক্তিগত তথ্য নিরাপদ রাখতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা অনুসরণ করা জরুরি।
ডিভাইস বিক্রি বা রিসেট করার আগে প্রথমেই সব Google, Apple বা অন্যান্য অ্যাকাউন্ট থেকে সম্পূর্ণ লগ আউট করতে হবে।এরপর ডিভাইস এনক্রিপ্ট করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এনক্রিপশন চালু থাকলে ডেটা উদ্ধার করা অনেক কঠিন হয়ে যায়।
বিশেষজ্ঞরা আরও পরামর্শ দিয়েছেন, শুধুমাত্র একবার Factory Reset না করে অন্তত দুইবার রিসেট করলে পুরোনো তথ্য পুনরুদ্ধারের ঝুঁকি আরও কমে যায়।অন্যদিকে ক্লাউড ফাইল ডিলিট করার সময় শুধু মূল ফাইল নয়, Trash বা Bin ফোল্ডারও ম্যানুয়ালি খালি করতে হবে।পাশাপাশি Version History এবং Backup অপশনও পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
অনেক সময় শেয়ার করা ফাইল ডিলিট করলেও অন্য ব্যবহারকারীর কাছে অ্যাক্সেস থেকে যেতে পারে। তাই সংবেদনশীল তথ্য মুছে ফেলার আগে Sharing Permission বন্ধ করা জরুরি।
প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে ব্যক্তিগত তথ্যই সবচেয়ে মূল্যবান ডিজিটাল সম্পদে পরিণত হয়েছে। ফলে শুধু হ্যাকার নয়, অসতর্কভাবে ফেলে রাখা ডেটাও বড় বিপদের কারণ হতে পারে।
তারা পরামর্শ দিয়েছেন, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত তথ্য সাধারণ গ্যালারি বা ফোল্ডারে না রেখে এনক্রিপ্টেড স্টোরেজ বা নিরাপদ অ্যাপে সংরক্ষণ করা উচিত।
সব মিলিয়ে, ডিজিটাল যুগে তথ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু ফাইল ডিলিট করাই যথেষ্ট নয়; বরং সচেতনভাবে ডেটা ব্যবস্থাপনা করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সুত্রঃ সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতামত
আরও পড়ুন-জেমিনি চ্যাটবটে বড় আপডেট ফাইল তৈরি ও ডাউনলোড এখন চ্যাটেই
ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!
👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔






