আমাদের Telegram চ্যানেলে যুক্ত হোন

১৫ বছর পর সিইও পদ ছাড়ছেন টিম কুক, অ্যাপলের নতুন প্রধান হচ্ছেন জন টার্নাস

অ্যাপলের নতুন প্রধান হচ্ছেন জন টার্নাস

দীর্ঘ এক যুগেরও বেশি সময় ধরে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান Apple-কে নেতৃত্ব দেওয়ার পর সিইও পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন Tim Cook। তার স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন প্রতিষ্ঠানটির অভিজ্ঞ নির্বাহী John Ternus, যিনি আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একই দিনে জন টার্নাস অ্যাপলের পরিচালনা পর্ষদেও যোগ দেবেন। অন্যদিকে, টিম কুক নতুন ভূমিকায় এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যুক্ত থাকবেন। ফলে নেতৃত্বে পরিবর্তন এলেও কোম্পানির সঙ্গে তার সম্পর্ক অটুট থাকবে।

আরও পড়ুন-এআইকে এক প্রশ্নেই খরচ হয় ১০ ওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ জানলে অবাক হবেন

অ্যাপলের ইতিহাসে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। কারণ, প্রতিষ্ঠাতা Steve Jobs এবং টিম কুকের পর তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হতে যাচ্ছেন জন টার্নাস।

প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিবর্তন শুধু নেতৃত্বের বদল নয়, বরং অ্যাপলের ভবিষ্যৎ কৌশলেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও নতুন প্রজন্মের ডিভাইস উন্নয়নের ক্ষেত্রে টার্নাসের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

প্রায় ২৫ বছর ধরে অ্যাপলের সঙ্গে যুক্ত জন টার্নাস। ২০০১ সালে তিনি প্রোডাক্ট ডিজাইন টিমে যোগ দেন এবং ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বে পরিণত হন।

পেশাগত জীবনের শুরুতে তিনি ‘ভার্চুয়াল রিসার্চ সিস্টেমস’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়া থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।

অ্যাপলে যোগ দেওয়ার পর ২০১৩ সালে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদে উন্নীত হন। এরপর ২০২১ সালে এক্সিকিউটিভ টিমে অন্তর্ভুক্ত হয়ে হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তার বয়স ৫০ বছর—যে বয়সে ২০১১ সালে টিম কুকও সিইওর দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন।

অ্যাপলের জনপ্রিয় প্রায় সব পণ্যের উন্নয়নে জন টার্নাসের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তার নেতৃত্বে আইফোন, আইপ্যাড, ম্যাক, অ্যাপল ওয়াচ, এয়ারপডস এবং অ্যাপল ভিশন প্রো’র মতো পণ্যের হার্ডওয়্যার উন্নয়ন হয়েছে।

বিশেষ করে ম্যাক কম্পিউটারকে ইন্টেল প্রসেসর থেকে সরিয়ে অ্যাপলের নিজস্ব সিলিকন চিপে রূপান্তর করার সিদ্ধান্তটি ছিল তার ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় অর্জন। এই পরিবর্তনের ফলে ম্যাকের পারফরম্যান্স ও বিক্রি—দুইই বেড়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে আইফোন ১৭ সিরিজ, নতুন ম্যাকবুক মডেল এবং আইফোনের বড় ডিজাইন পরিবর্তনের প্রকল্পেও তার দলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে জানা গেছে।

২০১১ সালে স্টিভ জবসের মৃত্যুর পর সিইও হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে অ্যাপলকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যান টিম কুক। তার নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়ন ডলারের কোম্পানিতে পরিণত হয় এবং বর্তমানে প্রায় ৪ ট্রিলিয়ন ডলার মূল্যের প্রতিষ্ঠানে উন্নীত হয়েছে।

কুকের সময়েই অ্যাপল শুধু একটি প্রযুক্তি কোম্পানি নয়, বরং একটি বৈশ্বিক ব্র্যান্ড হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করে।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দৌড়ে অ্যাপল কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। গুগল, মাইক্রোসফট এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের তুলনায় এআই প্রযুক্তিতে তাদের অগ্রগতি তুলনামূলক ধীর।

এ কারণে নতুন সিইও হিসেবে জন টার্নাসের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হবে—হার্ডওয়্যার দক্ষতার সঙ্গে আধুনিক এআই প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটানো। বিশ্লেষকদের মতে, অ্যাপলকে এখন শুধু আইফোননির্ভরতা কমিয়ে নতুন উদ্ভাবনে মনোযোগ দিতে হবে, যেমন ফোল্ডেবল ডিভাইস বা স্মার্ট ওয়্যারেবল প্রযুক্তি।

সব মিলিয়ে, অ্যাপলে নেতৃত্ব পরিবর্তন একটি বড় মাইলফলক। টিম কুকের সফল অধ্যায়ের পর জন টার্নাসের নেতৃত্বে কোম্পানি নতুন দিগন্তে পৌঁছাতে পারে কি না—সেটিই এখন দেখার বিষয়। প্রযুক্তি বিশ্বে এই পরিবর্তন নিঃসন্দেহে বড় প্রভাব ফেলবে।

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!
ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

বাংলা টেক নিউজ টিম

বাংলা টেক নিউজ টিম একটি অভিজ্ঞ, দায়িত্বশীল ও পেশাদার কনটেন্ট রাইটারদের সমন্বয়ে গঠিত একটি লেখক দল, যারা বাংলা ভাষায় নির্ভুল, তথ্যভিত্তিক ও পাঠক-বান্ধব কনটেন্ট তৈরিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের প্রতিটি লেখক প্রযুক্তি, ব্রেকিং নিউজ, অনলাইন আয়, স্বাস্থ্য, লাইফস্টাইল, ডিজিটাল ট্রেন্ড ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে গভীর গবেষণার মাধ্যমে কনটেন্ট তৈরি করে থাকেন।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now