আমাদের Telegram চ্যানেলে যুক্ত হোন

ডিজিটাল যমজ দিয়ে ২৪ ঘণ্টা কাজ, মানুষ কি হয়ে উঠছে ‘সুপারওয়ার্কার’

ডিজিটাল যমজ দিয়ে ২৪ ঘণ্টা কাজ

মানুষ যখন বিশ্রামে, তখন তারই আরেক সংস্করণ কাজ সামলাচ্ছে—ইমেইলের উত্তর দিচ্ছে, প্রেজেন্টেশন বানাচ্ছে, এমনকি সিদ্ধান্তের খসড়াও তৈরি করছে। প্রযুক্তির এই নতুন অধ্যায়কে বলা হচ্ছে ‘ডিজিটাল টুইন’ বা ডিজিটাল যমজ। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এই প্রবণতার বাস্তব উদাহরণ তুলে ধরেছে BBC

ডিজিটাল যমজ কোনো সাধারণ চ্যাটবট নয়। এটি এমন এক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থা, যা একজন মানুষের কাজের ধরন, চিন্তার প্যাটার্ন, ভাষা ব্যবহার, সিদ্ধান্ত নেওয়ার যুক্তি—সবকিছু বিশ্লেষণ করে তারই অনুকরণে একটি কার্যকর ‘ডিজিটাল সংস্করণ’ তৈরি করে। ফলে মানুষ অনুপস্থিত থাকলেও তার কাজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব হয়।

আরও পড়ুন-এআই দিয়ে তৈরি ছবি বা ভিডিও চিনবেন যেভাবে জানুন সহজ কৌশল

এই ধারণার সবচেয়ে আলোচিত উদাহরণ উদ্যোক্তা Richard Skeel। তিন বছর ধরে তিনি নিজের একটি ডিজিটাল সংস্করণ তৈরি করেছেন, যার নাম দিয়েছেন ‘ডিজিটাল রিচার্ড’। এটি শুধু সহকারী নয়; বরং তার জ্ঞানের ভাণ্ডার, কাজের স্টাইল এবং সিদ্ধান্তের ধরণ শিখে নেওয়া এক পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল প্রতিরূপ। ব্যবসায়িক বিশ্লেষণ থেকে ক্লায়েন্ট প্রেজেন্টেশন—সবখানেই এটি তাকে সহায়তা করছে।

স্কিলেট তার ডিজিটাল যমজে আলাদা ‘ফ্যামিলি’ ও ‘অ্যাডমিন’ সেকশনও যুক্ত করেছেন, যাতে ব্যক্তিগত তথ্য কর্মক্ষেত্র থেকে আলাদা থাকে। অর্থাৎ প্রযুক্তিটি কেবল অফিসের কাজে সীমাবদ্ধ নয়, ব্যক্তিগত পরিসরেও এর প্রভাব পড়ছে।

তার প্রতিষ্ঠানে যুক্তরাজ্য, ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের বিভিন্ন দলে ইতোমধ্যে প্রায় ৫০ জন কর্মীর ডিজিটাল যমজ তৈরি হয়েছে। কেউ অবসরে গেলে ধীরে ধীরে দায়িত্ব হস্তান্তর হচ্ছে তার ডিজিটাল সংস্করণের কাছে। আবার কেউ মাতৃত্বকালীন ছুটিতে গেলে, অস্থায়ী নিয়োগ ছাড়াই তার ডিজিটাল যমজ কাজ সামলে নিচ্ছে।

এখান থেকেই ‘সুপারওয়ার্কার’ ধারণার জন্ম। মানুষের শারীরিক সীমাবদ্ধতা থাকলেও তার ডিজিটাল সংস্করণ ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় থাকতে পারে। মাঝরাতে ক্লায়েন্টের প্রশ্ন এলে, ডিজিটাল যমজ উত্তর দিতে পারে। কোনো প্রকল্পের অগ্রগতি জানতে মিটিংয়ের প্রয়োজন হয় না—সরাসরি সেই কর্মীর ডিজিটাল প্রতিরূপকে জিজ্ঞেস করলেই তথ্য মিলছে।

প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদনশীলতাতেও এর প্রভাব পড়ছে। কিছু কোম্পানি বছরে প্রায় ৩০ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, অথচ নতুন কর্মী নিয়োগের প্রয়োজন কমে গেছে। বিদ্যমান কর্মীদের ডিজিটাল যমজ তাদের সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে কর্মীদের অর্থনৈতিক মূল্যও বাড়ছে, বোনাস দেওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

তবে সম্ভাবনার পাশাপাশি উঠে আসছে কঠিন প্রশ্নও। সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—ডিজিটাল যমজের মালিকানা কার? কর্মীর, নাকি প্রতিষ্ঠানের? একজন কর্মীর ইমেইল, নথি, মিটিংয়ের তথ্য ব্যবহার করে যখন তার ডিজিটাল সংস্করণ তৈরি হয়, সেটি কি ব্যক্তিগত সম্পত্তি, নাকি কর্মক্ষেত্রের ডেটা হিসেবে প্রতিষ্ঠানের?

আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিষয়টি কেবল প্রযুক্তিগত নয়; এটি শ্রমনীতি, গোপনীয়তা, সম্মতি ও ব্যক্তিগত পরিচয়ের প্রশ্নকে সামনে নিয়ে এসেছে। যদি কোনো ডিজিটাল যমজ ভুল সিদ্ধান্ত নেয়, দায় কার ওপর বর্তাবে—কর্মী, নাকি প্রতিষ্ঠান?

আরো একটি সূক্ষ্ম বিষয় হলো পরিচয় সংকট। কোনো সিস্টেম যদি আপনার মতো করে কথা বলে, যুক্তি দেয়, সিদ্ধান্ত নেয়—তাহলে সেটি কি শুধু একটি টুল, নাকি আপনারই সম্প্রসারণ? আপনার ভাবমূর্তি, নাম ও মেধার ওপর নিয়ন্ত্রণ কতটা থাকবে?

আইনের দিক থেকেও বিষয়টি এখনো ধোঁয়াশায়। স্পষ্ট নীতিমালা না থাকায় ভবিষ্যতে আদালতকেই অনেক সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। এমন পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে, যেখানে কোনো কর্মী তার ডিজিটাল সংস্করণের কার্যক্রমের কারণে চাকরি হারাতে পারেন।

সব মিলিয়ে ডিজিটাল যমজ প্রযুক্তি একদিকে কাজের গতি ও দক্ষতা বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে মানুষের ভূমিকা ও মূল্য নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি করছে। মানুষ আর একা কাজ করছে না; তার পাশে কাজ করছে তারই তৈরি এক অবিরাম সক্রিয় ছায়া।

ডিজিটাল যমজ প্রযুক্তি কাজের ভবিষ্যৎকে নতুন রূপ দিচ্ছে। এটি যেমন মানুষকে ‘সুপারওয়ার্কার’ হওয়ার সুযোগ দিচ্ছে, তেমনি পরিচয়, মালিকানা ও দায়বদ্ধতার মতো মৌলিক প্রশ্নও উত্থাপন করছে। প্রযুক্তির এই দৌড়ে মানুষ কোথায় দাঁড়াবে—সেই উত্তরই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

সুত্রঃবিবিসি

ℹ️ আরও কন্টেন্ট নিয়মিত পেতে- ফেসবুক পেজে যুক্ত থাকুন!

ℹ️ ভিডিও আকারে কনটেন্ট নিয়মিত পেতে –ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন!

আরও পড়ুন-এআইকে এক প্রশ্নেই খরচ হয় ১০ ওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ জানলে অবাক হবেন

👉🙏লেখার মধ্যে ভাষা জনিত কোন ভুল ত্রুটি হয়ে থাকলে অবশ্যই ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

✅আজ এ পর্যন্তই ভালো থাকবেন সুস্থ থাকবেন 🤔

📌 পোস্টটি শেয়ার করুন! 🔥

বাংলা টেক নিউজ টিম

বাংলা টেক নিউজ টিম একটি অভিজ্ঞ, দায়িত্বশীল ও পেশাদার কনটেন্ট রাইটারদের সমন্বয়ে গঠিত একটি লেখক দল, যারা বাংলা ভাষায় নির্ভুল, তথ্যভিত্তিক ও পাঠক-বান্ধব কনটেন্ট তৈরিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমাদের প্রতিটি লেখক প্রযুক্তি, ব্রেকিং নিউজ, অনলাইন আয়, স্বাস্থ্য, লাইফস্টাইল, ডিজিটাল ট্রেন্ড ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে গভীর গবেষণার মাধ্যমে কনটেন্ট তৈরি করে থাকেন।

Join WhatsApp

Join Now

Join Telegram

Join Now